ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুদফা বৈঠক করেছেন। গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেড় ঘণ্টা কাটান তিনি।
ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় আসার পর ব্যস্ত সময় কাটালেন হাস।
সূত্র জানায়, গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যান পিটার হাস। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়ার সঙ্গে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে বৈঠক করেন।
এর পর প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠক বেলা ১১টা ৪২ থেকে ১২টা ২৮ মিনিট পর্যন্ত চলে।
বৈঠকে আলোচিত বিষয় সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। উভয় পক্ষই নীরবতা অবলম্বন করছে।
এর আগে ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূতের বাসায় বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে চা-চক্রে যোগ দেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সকালে চার্লস হোয়াইটলির বাসভবনে এ বৈঠকে ১২টি দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কূটনীতিক অংশ নেন বলে জানা গেছে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া কূটনীতিকদের মধ্যে ছিহলেন– ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত ম্যারি মাসদুপি, কানাডার হাইকমিশনার লিলি নিকোলস, সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো সেইজফ্রিড রেংলি, অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার জেরেমি ক্রিস্টোফার, স্পেনের রাষ্ট্রদূত ফ্রান্সিসকো দে অ্যাসিস বেনেতিজ সালাস, জার্মানির উপরাষ্ট্রদূত জ্যান জেনোভস্কি, জাপানের উপরাষ্ট্রদূত তাতসুয়া মাচিদা, সুইডেন দূতাবাসের কাউন্সিলর জ্যাকব ইতাত, ইতালির উপরাষ্ট্রদূত মাতিয়া ভেন্তুরা, ব্রিটিশ হাইকমিশনের কর্মকর্তা সাইমন লিভার ও নেদারল্যান্ডসের উপরাষ্ট্রদূত ম্যাটথিজিস জেল উডস্ট্রা।
আগামী সপ্তাহে ইইউর প্রাক-নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল আসবে ঢাকা। হোয়াইটলির বাসভবনে চা-চক্রে ইইউ প্রতিনিধি দলের কার্যক্রম ও আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
এ ছাড়া গতকাল দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের কার্যালয়ে যান যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত। সেখানে নিহত শ্রমিক নেতা মো. শহিদুল ইসলাম ইস্যুতে ফেডারেশন নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন পিটার হাস। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘শহিদুল ইসলাম হত্যার তদন্তের দিকে সতর্ক নজর রাখছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা, এ মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে; সেই সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসা হবে।’
পিটার হাস বলেছেন, ‘শ্রমিকরা যেখানেই কাজ করুক, তাদের ট্রেড ইউনিয়ন করার সুযোগ দিতে হবে। তাদের বেতনের দাবি জানানোর সুযোগ দিতে হবে।’ উল্লেখ্য, গত ২৫ জুন রাতে গাজীপুরের বাগানবাড়ি এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হন শহিদুল ইসলাম। বকেয়া বেতনসহ অধিকার আদায়ের আলোচনায় গিয়ে মালিকপক্ষের হাতে হত্যার শিকার হয়েছেন বলে পরিবারের দাবি।