ভোটপাড়ায় ধানের শীষের হাওয়া তরুণ ও পেশাজীবীদের আস্থা মাজহারুল ইসলাম
এম এ আজিজকিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: Saturday, 31 January, 2026, 1:24 PM
ভোটপাড়ায় ধানের শীষের হাওয়া তরুণ ও পেশাজীবীদের আস্থা মাজহারুল ইসলাম
ভোরের আলো ফোটার আগেই কিশোরগঞ্জ সদর থেকে হোসেনপুর-সর্বত্র শুরু হয়ে যায় নির্বাচনী আলাপ। চায়ের দোকানে ধোঁয়া ওঠা কাপে, হাটের ব্যস্ততায়, বাজারের গুঞ্জনে, উঠান বৈঠকের নীরব আলোচনায় একটি প্রতীকই ঘুরে ফিরে আসছে, ধানের শীষ। আর সেই প্রতীকের সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে একটাই নাম-মাজহারুল ইসলাম।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের রাজনৈতিক মাঠ ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। তবে উত্তাপের মধ্যেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে একটি বিষয়-এই আসনে ধানের শীষের পক্ষে তৈরি হচ্ছে শক্ত ভিত, আর সেই ভিতে ভর করেই তরুণ ও পেশাজীবী ভোটারদের আস্থার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, এই আসনের তরুণ ভোটারদের মধ্যে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক ঝোঁক তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাষ্ট্রচিন্তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাই তাদের নতুন করে আশাবাদী করেছে। নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী প্রচারণার মধ্য দিয়ে তরুণরা প্রকাশ করছেন তাদের সমর্থন। কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, কেউ উঠান বৈঠকে, কেউবা নীরবে-কিন্তু সিদ্ধান্তে তারা দৃঢ়।
এক তরুণ ভোটার বলেন, “আমরা শুধু স্লোগান চাই না, আমরা একটা রোডম্যাপ চাই। সেই রোডম্যাপ তারেক রহমান দিচ্ছেন, আর মাজহারুল ইসলাম সেটার স্থানীয় প্রতিনিধি।
এই মুহূর্তে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের ভোটপাড়ায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয়-ধানের শীষের জয়ের সম্ভাবনা। চায়ের দোকানের আড্ডা থেকে শুরু করে বাজারের ব্যস্ততায়, মাঠে-ঘাটে আলোচনার সুর একটাই।
ভোটারদের বড় একটি অংশ বলছেন, অন্যান্য প্রার্থীদের ঘিরে যে উৎসাহ শুরুতে দেখা গিয়েছিল, তা দিন দিন কমছে। বিপরীতে ধানের শীষকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে এক ধরনের গণজোয়ার। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের যুক্তি-মাজহারুল ইসলাম শুধু দলীয় প্রার্থী নন, তিনি একজন গ্রহণযোগ্য ও ক্লিন ইমেজের রাজনীতিক। দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ তাঁর কাছে নিজেদের নিরাপদ মনে করেন।
ভৈরবে গত ২২ জানুয়ারি রাতে অনুষ্ঠিত পথসভা এবং বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের আগমনের পর নির্বাচনী মাঠে পরিবর্তনের বিষয়টি ভোটারদের কথায় বারবার উঠে আসছে। স্থানীয়দের মতে, ওই পথসভার পর থেকেই উঠান বৈঠকগুলোতে মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে, আলোচনা আরও স্পষ্ট হয়েছে, সিদ্ধান্ত আরও দৃঢ় হয়েছে।
বিশেষ করে নারী ভোটারদের মধ্যে এই পরিবর্তন চোখে পড়ার মতো। অনেক নারী ভোটারই বলছেন, নিরাপদ রাজনীতি ও এলাকার উন্নয়নের প্রশ্নে তারা ধানের শীষের প্রার্থীকেই বেশি ভরসা করছেন।
গুরুত্বপূর্ণ আসন ও ভোটার পরিসংখ্যান কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-১ আসনটি জেলার অন্যতম বড় ও গুরুত্বপূর্ণ আসন।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে- মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৫ হাজার ১৩৭ জন। পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৮০ হাজার ৬৫৮ জন। নারী ভোটার ২ লাখ ৭৪ হাজার ৪৭৬ জন। হিজড়া ভোটার ৩ জন। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদরে ভোটার ৩ লাখ ৮০ হাজার ২৪ জন এবং হোসেনপুর উপজেলায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ১১৩ জন।
স্বাধীনতার পর থেকে এই আসনে একাধিকবার বিএনপির প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, কিশোরগঞ্জ-১ আসন দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফ্যাসিবাদী কৌশলমুক্ত ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এবারও বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল।
শুরুর দিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিদ্বন্দ্বিতার আলোচনা থাকলেও, দলীয় প্রার্থী বদল ও জোটগত বাস্তবতায় শেষ পর্যন্ত পথের কাঁটা হয়ে উঠতে পারেনি তারা। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধানের শীষের পক্ষে অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে।
এদিকে দলীয় নির্দেশ অমান্য ও গঠনতান্ত্রিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও সাবেক বিচারক রেজাউল করিম খান চুন্নুকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ফলে মনোনয়ন প্রত্যাশী বিদ্রোহীরাও শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
কিশোরগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের নারী ভোটার ইসরাত জাহান , ৫ নং ওয়ার্ডের মমতা আক্তার ৬ নং ওয়ার্ডের লাভনি আক্তারসহ অসংখ্য নারীদের সাথে কথা হলে তারা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে আর তারেক রহমানের পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে হলে ধানের শীষ প্রতীকের বিকল্প নাই।
পৌর মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ী রাশেদ, হকার মুর্শিদ, তমিজ আলী ও অসংখ্য বিভিন্ন শ্রেনী পেশাজীবি ভোটারের সাথে কথা হলে তারা স্বস্তি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর ধানের শীষের পক্ষে ভোটের যুক্তি তুলে ধরেন এবং বিজয়ের সম্ভাবনার কথাও বলেন।
জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী ইসরাইল মিয়া বলেন,ধানের শীষের প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম দীর্ঘ ৪৫ বছর বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত এই দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি মাটিও মানুষের সাথে ছিলেন কর্মীদের আগলে রেখেছেন সকল বিপদে, তিনি পিছপা হননি। তিনি একজন স্বচ্ছ রাজনীতিবিদ ক্লিন ইমেজের একজন ভালো মানুষ। তারেক রহমানের উন্নয়নের বাস্তবায়নকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ হোসেনপুরকে সন্ত্রাস চাঁদাবাজ মুক্ত এবং একটি আধুনিক নগর উন্নয়নে কাজ করবেন, সেই জন্য মাজহারুল ইসলামের ধানের শীষ আমাদের আস্হা।
কিশোরগঞ্জ জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল হক দিদার বলেন। সন্ত্রাস চাঁদাবাজ মুক্ত একটি নিরাপদ সমাজ গঠনে মাজহারুল ইসলামের বিকল্প নেই। আমরা সাধারণ জনগোষ্ঠী যার কাছে নিরাপদ তাকেই আমরা ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী করবো।
জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি ও জেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাক আহাম্মদ শাহীন বলেন। কিশোরগঞ্জ-১ আসনের হেভিওয়েট প্রার্থী খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল মনোনয়ন না পাওয়ায় ধানের শীষের প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম আমাদের আস্হা।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শহীদুল্লাহ কায়সার শহীদ বলেন, বিএনপির নিঃসন্দেহে একটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থানকারী একটি গনতান্ত্রিক দল। অন্যান্য দলের সাথে তুলনা করা চলে না। এ দলে তরুণ ভোটারেরা ঝুঁকছে দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভবিষ্যত প্লানকে সফল করার লক্ষ্যে। এই আসনটি ফ্যাসিবাদী কৌশলের বাহিরের প্রায় সকল প্রকারের নির্বাচনের মধ্য দিয়েই বিএনপির অধীনে ছিলো। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এবারও তাই হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাছাড়া এখানে ধানের শীষের প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম একজন ক্লিন ইমেজের মানুষ হওয়ায় মাজহারুল ইসলাম আমাদের আস্হা।
প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম বলেন, এই আসনের ভোটারেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁকে সাড়া দিচ্ছে। তিনি সংসদ সদস্য মনোনীত হলে এলাকার শিক্ষার মান উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন। এছাড়াও সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বন্ধসহ কিশোরগঞ্জ-হোসেনপুরকে শিল্পোন্নত করে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দিবেন’ এছাড়াও জনগণ সুযোগ দিলে কিশোরগঞ্জ -১ আসনকে উন্নয়নের রোল মডেলে হিসেবেও রূপান্তরের পাশাপাশি মৃত প্রায় নরসুন্ধা নদীকে খননের প্রতিশ্রুতি ব্যাক্ত করেন।