|
কসমেটিক সার্জারি: আত্মবিশ্বাস ও সৌন্দর্য পুনরুদ্ধারের আধুনিক পথ
ডা. তামান্না আহমেদ
|
![]() কসমেটিক সার্জারি: আত্মবিশ্বাস ও সৌন্দর্য পুনরুদ্ধারের আধুনিক পথ চিকিৎসার ব্যাপ্তি ও ধরণ ১. দুর্ঘটনা ও দগ্ধদের পুনর্গঠন: আগুনে পুড়ে যাওয়া বা বড় কোনো দুর্ঘটনায় অঙ্গহানি ঘটলে কসমেটিক সার্জারি আশীর্বাদ হয়ে আসে। অগ্নিদগ্ধ রোগীর টিস্যু অনেক সময় শক্ত হয়ে হাত-পায়ের স্বাভাবিক সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত করে। এক্ষেত্রে অন্য অংশের সুস্থ টিস্যু প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে সেই অঙ্গের কাজ ও স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনা যায়। এছাড়া ঠোঁটকাটা বা তালুকাটা সমস্যারও স্থায়ী সমাধান সম্ভব। ২. বডি শেপিং ও স্থূলতা নিরসন: লাইপোসাকশনের মাধ্যমে শরীরের অতিরিক্ত চর্বি (যেমন: ডাবল চিন, ঘাড় বা পেটের চর্বি) অপসারণ করে শরীরকে সুন্দর আকৃতি দেওয়া হয়। বাহুর ঝুলে যাওয়া চামড়া টান টান করতে করা হয় ‘ব্রাকিপ্লাস্টি’। ৩. স্তন সার্জারি: ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্টের মাধ্যমে স্তন বড় করা বা কুমারীর মতো সুগঠিত রূপ দেওয়া যায়। আবার অতিরিক্ত বড় স্তনকে জুতসই আকারে আনাও সম্ভব। এমনকি স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে ‘অনকোপ্লাস্টিক ব্রেস্ট সার্জারি’র মাধ্যমে ক্যানসার অপসারণ ও সৌন্দর্য রক্ষা—দুটোই করা যায়। ৪. অ্যাবডোমিনোপ্লাস্টি ও টামিটাক: সন্তান প্রসবের পর বা স্থূলতার কারণে পেটের চামড়া ঝুলে পড়লে লাইপোসাকশন বা টামিটাক অপারেশনের মাধ্যমে পেটের পূর্বের টান টান ভাব ফিরিয়ে আনা যায়। ৫. পুরুষদের জন্য বিশেষায়িত সার্জারি: অনেক পুরুষের স্তন অযাচিতভাবে বড় হয়ে যায় (গাইনেকোমেশিয়া), যা তাঁদের সামাজিকভাবে হেয় করে। দাগবিহীন সার্জারির মাধ্যমে তাঁদের পেশীবহুল পুরুষালি গঠন ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব। ৬. মুখমন্ডলের সৌন্দর্য: ‘রাইনোপ্লাস্টি’র মাধ্যমে বাঁকা বা ভোঁতা নাককে আকর্ষণীয় করা যায়। পুরু ঠোঁট চিকন করা কিংবা পাতলা ঠোঁটকে ‘ফিলার’ বা ‘ফ্যাট গ্রাফটিং’-এর মাধ্যমে পুরু করা যায়। চোখের কোঁচকানো পাতা ঠিক করতে ‘ব্লেফারোপ্লাস্টি’ এবং মুখের ঝুলে যাওয়া চামড়া টান টান করতে ‘ফেস লিফট’ করা হয়। ৭. অন্যান্য আধুনিক সার্জারি: নিতম্বের গঠন আকর্ষণীয় করতে ‘বাট লিফট’ এবং নারীদের প্রসবোত্তর ব্যক্তিগত শারীরিক সমস্যা দূর করতে ‘ভ্যাজাইনোপ্লাস্টি’ অত্যন্ত কার্যকর। আজকের দিনে কসমেটিক সার্জারি মানে কেবল বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দেওয়ার একটি মাধ্যম। দেশেই এখন আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই এসব জটিল সার্জারি সম্পন্ন হচ্ছে। তবে মনে রাখা জরুরি, যেকোনো সার্জারির আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং সঠিক কেন্দ্র নির্বাচন করা অপরিহার্য। লেখক: সহকারী অধ্যাপক, প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট, সার্জারি বিভাগ এমএইচ শমরিতা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ, তেজগাঁও, ঢাকা।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
