|
বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সুরক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: গবেষণায় নতুন দিগন্ত
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সুরক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: গবেষণায় নতুন দিগন্ত বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি ও প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান Siemens Industry Incorporated–এ টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত। প্রকৌশলী আল ইমরান কেবল সিমেন্সের একজন দক্ষ প্রযুক্তিবিদই নন, বিদ্যুৎ খাতের একজন শীর্ষস্থানীয় গবেষকও। তার গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। উচ্চ সাইটেশনের কারণে তিনি তার গবেষণাক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ ০.০১ শতাংশ ‘মোস্ট সাইটেড’ গবেষকদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন। সিমেন্সে কর্মরত অবস্থায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্থাপনার পাওয়ার সিস্টেম ডিজাইন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে যুক্ত আছেন। এই বাস্তব প্রয়োগের পেছনে রয়েছে তার দীর্ঘদিনের বৈজ্ঞানিক গবেষণা। ইমরানের গবেষণার একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ইন্টারনেট অব থিংস (IoT) ব্যবহার করে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে স্বয়ংক্রিয় করা। এআই সিমুলেশন মডেল ব্যবহার করে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়, যা কার্বন নিঃসরণ কমাতে সহায়ক। সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দক্ষতা বজায় রাখতে তিনি আইওটি সেন্সর ব্যবহার করেছেন। এই সেন্সরগুলো রিয়েল-টাইমে সোলার প্যানেলে জমা ধুলোবালি শনাক্ত করে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিষ্কারের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করে। পাশাপাশি সম্ভাব্য ত্রুটি আগে থেকেই শনাক্ত করে ‘প্রেডিকটিভ মেইনটেন্যান্স’-এর সুযোগ তৈরি করে। তার গবেষণায় বিল্ডিং-ইন্টিগ্রেটেড ফটোভোলটাইক্স (BIPV) প্রযুক্তির ব্যবহারও রয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভবনের জানালা বা সম্মুখভাগকে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী উপাদানে রূপান্তর করা সম্ভব। এআই-চালিত কন্ট্রোল সিস্টেম ভবনের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারের মধ্যে স্বয়ংক্রিয় ভারসাম্য বজায় রাখে। পাওয়ার সিস্টেমে হাই ইমপিডেন্স ফল্ট (HIF) শনাক্তকরণ ইমরানের গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। এই প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎ প্রবাহ ও চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে ত্রুটি শনাক্ত করা হয়। এতে ডিসক্রিট ওয়েভলেট ট্রান্সফর্ম (DWT) পদ্ধতির মাধ্যমে সিগন্যালকে বিভিন্ন স্তরে বিশ্লেষণ করে সূক্ষ্ম পরিবর্তন শনাক্ত করা হয় এবং হিলবার্ট ট্রান্সফর্ম ব্যবহার করে সিগন্যালের দশা ও বিস্তার বিশ্লেষণ করা হয়। এটি বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য অনেকটা ‘ডিজিটাল স্টেথোস্কোপ’-এর মতো কাজ করে, যা সম্ভাব্য অগ্নিকাণ্ড বা বিদ্যুৎ অপচয় প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ইমরান তার গবেষণালব্ধ জ্ঞান সিমেন্সের মাধ্যমে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে সহায়তা করছে। তার উদ্ভাবিত ‘সেলফ-হিলিং’ বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ত্রুটি সংশোধনকারী গ্রিড প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট কমাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। প্রকৌশলী মো. আল ইমরান বলেন, প্রকৌশল কেবল বর্তমান সমস্যার সমাধান নয়; এটি এমন একটি টেকসই ব্যবস্থা তৈরি করার প্রক্রিয়া, যা মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে। আমার লক্ষ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব পাওয়ার গ্রিড তৈরি করা।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
