জীবনে চলার পথে বিভিন্ন কারণে বিষণ্ণতা ঘিরে ধরতে পারে, থমকে যেতে পারে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। হতাশার এই সময়ে সঠিক দিকনির্দেশনা সাহায্য করতে পারে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে। নতুন সময়ের নিয়মিত আয়োজনে আপনার মনের কথাগুলো শুনে পরামর্শ দেবেন মনোরোগ চিকিৎসক । পরিচয় গোপন রেখে যেকোনো ধরনের মানসিক টানাপোড়েনের বিষয় আমাদের জানাতে পারেন এখানে
প্রশ্ন: আমার বয়স ২৪ বছর। ৫ বছরের সম্পর্ক আমার। আমার সঙ্গী আগের মতো সময় দিতে পারে না। এতে আমি বেশ কষ্ট পাই। কীভাবে নিজের অনুভূতি সামলে এবং তাকে চাপ না দিয়ে সম্পর্কটাকে সুস্থ রাখতে পারি?
উত্তর:১. আপনার অনুভূতি স্বীকার করুন ও আত্মস্থ করুন: ‘আমি একা বোধ করছি’, ‘আমার মন খারাপ’– এমনটা নিজের কাছে স্বীকার করুন। অনুভূতি দমন করলে তা পরে বিস্ফোরিত হতে পারে। দিনে কিছু সময় নিজের জন্য রাখুন। যা আপনাকে আনন্দ দেয় (গান শোনা, বই পড়া, হাঁটা, নতুন কিছু শেখা) তা করুন। এতে আপনার মানসিক ভিত্তি মজবুত হবে। কাছের কাউকে আপনার সাধারণ অনুভূতি শেয়ার করুন (অবশ্যই সঙ্গীর সমালোচনা না করে)। শুধু বলার মাধ্যমেও অনেক স্বস্তি মেলে।
২. সঙ্গীর সাথে কার্যকর ও কোমল যোগাযোগ: যখন সে একটু রিল্যাক্সড থাকে, শান্ত পরিবেশে কথা বলুন। ‘আমাদের একটু কথা হওয়ার দরকার, তুমি কি সময় দেবে?’– এভাবে শুরু করুন। ‘আমি’ অনুভূতির ভাষা ব্যবহার করুন (I-Statements): ‘তুমি আমাকে সময় দাও না’- এভাবে বলবেন না।
‘তোমার এত ব্যস্ততা দেখে আমি একটু একা বোধ করি কখনও কখনও। আমাদের আগের মতো সময় কাটাতে মনটা খুব ছটফট করে’ এভাবে বলুন। ‘তুমি আগের মতো আমাকে গুরুত্ব দাও না’- এমন ভাষায় বলবেন না। ‘একত্রে সময় কাটানো আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যা আমি এখনও অনুভব করি’- এভাবে বলুন।
৩. তার দৃষ্টিভঙ্গি শুনুন ও বুঝুন: সত্যিই জানতে চেষ্টা করুন তার চাপ কতটা। জিজ্ঞাসা করুন, ‘তোমার কাজ/পড়ালেখার চাপটা কেমন লাগে? আমি কিভাবে তোমার জন্য সহায়ক হতে পারি?’ অভিযোগের বদলে সমাধান খুঁজুন। বলতে পারেন, ‘আমাদের দুজনেরই সময় কম, তাহলে কি ছোট ছোট মুহূর্তও আমরা আরও গুণগতভাবে কাটাতে পারি? একসাথে খাওয়া, ১৫ মিনিট গল্প বলা?’
৪. গুণগত সময়ের উপর জোর দিন (Quantity নয়, Quality): - ছোট মুহূর্তকে মূল্য দিন। হয়তো পুরো দিন নয়, কিন্তু একসাথে কফি খাওয়ার ২০ মিনিট, ফোনে ভালো লাগার গল্প শেয়ার করা – এসবকে বিশেষ করে তুলুন। পুরোপুরি উপস্থিত থাকুন (ফোন থেকে দূরে)। রুটিন তৈরি করুন/ সপ্তাহে একটি ছোট, ফিক্সড সময় বের করুন (যেমন: প্রতি রবিবার সকালের নাস্তা, বা বুধবার রাতের ৩০ মিনিট চ্যাট) যা শুধু আপনাদের জন্য। এটা আশ্বস্ত করবে যে কিছু সময় তো নিশ্চিত আছে। সারপ্রাইজ প্ল্যান করতে পারেন। তার ব্যস্ত দিনে ছোট্ট কিছু দিয়ে খুশি করুন। যেমন পছন্দের খাবার অর্ডার দিয়ে দেওয়া, একটি মিষ্টি নোট লিখে রাখা।
৫. বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা ও ধৈর্য: পরিস্থিতি স্বীকার করুন। এটি একটি অস্থায়ী পর্যায় (পড়ালেখা, ক্যারিয়ারের চাপ)। স্থায়ীভাবে এমন হবে না, এটা মনে রাখুন। তাকে স্পেস দিন। নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে পারলে সে হয়তো দ্রুত ফিরতে পারবে। অবিরত মেসেজ বা ডাকাডাকি চাপ বাড়াবে। আত্মবিশ্বাস রাখুন। দীর্ঘ ৫ বছরের সম্পর্কের ভিত্তি মজবুত। এই ব্যস্ততা সম্পর্কের প্রতি তার ভালবাসা কমার লক্ষণ নয়।
৬. নিজের জীবনকে সমৃদ্ধ করুন: নিজের ক্যারিয়ার, পড়ালেখা, শখ বা নতুন দক্ষতা শেখায় মনোযোগ দিন। এতে আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং সঙ্গীর উপর নির্ভরশীলতা কমবে। বন্ধুবান্ধব, পরিবারের সাথে সময় কাটান। নিজের সামাজিক গোষ্ঠী সক্রিয় রাখুন। কৃতজ্ঞতার অনুশীলন করুন। সম্পর্কের ভালো দিকগুলো, সঙ্গীর ভালো গুণগুলো স্মরণ করুন।