|
কিউবায় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন, ট্রাম্পের সবুজ সংকেতের অপেক্ষা
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() কিউবায় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন, ট্রাম্পের সবুজ সংকেতের অপেক্ষা কিউবার কমিউনিস্ট সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ ব্যর্থ হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওই দ্বীপদেশে সামরিক অভিযান চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ইরান যুদ্ধ শেষ হলেই কিউবায় নজর দেওয়া হবে। তাদের কমিউনিস্ট আমলের পতন কেবল সময়ের অপেক্ষা। কিউবাকে দুর্বল দেশও বলেছিলেন ট্রাম্প। বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ার বাইরে ক্যারিবীয় ওই অঞ্চলেই যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সবচেয়ে বড় উপস্থিতি রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ করে দেবে। সামরিক অভিযান চালানোর মতো পরিস্থিতি হলে যাতে তৎপরতার সঙ্গে তা শুরু করা যায়, তারই প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে পেন্টাগন। পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়, কৌশলগতভাবে মোতায়েন করা সামরিক সাজ-সরঞ্জাম যে কোনও ধরনেরর সামরিক অভিযানের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে রেখেছে। এর মধ্যে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার মতো কিউবার শীর্ষ নেতৃত্বকে সশরীরে পাকড়াও করা থেকে শুরু করে নিখুঁত দূরপাল্লার একধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা (প্রিসিশন স্ট্রাইক) চালানোর ব্যবস্থাও রয়েছে। এতে ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে মার্কিন বাহিনী তৃতীয় আরেকটি আন্তর্জাতিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত বুধবার মন্ত্রিসভার এক পূর্ণাঙ্গ বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, কিউবা বর্তমানে “চরম সংকটের” মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “আমাদের উপকূল থেকে মাত্র ৯০ মাইল দূরে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র (ফেইলড স্টেট) থাকা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।” চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার অভিযানের সময়ের তুলনায় বর্তমানে এই অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা কিছুটা কম। তবে মে মাসে ইউএসএস নিমিৎজ বিমানবাহী রণতরী (এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ) ক্যারিবীয় সাগরে প্রবেশ করেছে। এর সঙ্গে রয়েছে বেশ কিছু গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ও ক্রুজার, যা কিউবার স্থলভাগের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে সক্ষম। এছাড়া ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইটগুলোর তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত ড্রোন এবং নজরদারি বিমানগুলোও বেশ কয়েক মাস ধরে কিউবার আকাশসীমা প্রদক্ষিণ করছে। অন্যদিকে, ২,৫০০ মেরিন সেনা বহনকারী ইউএসএস কিয়ারসার্জ উভচর জাহাজ ও এর সহায়তাকারী যুদ্ধজাহাজগুলো ভার্জিনিয়া উপকূলে নতুন করে মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা প্রয়োজনে দেশে ফিরে যাওয়া জাহাজগুলোর স্থলাভিষিক্ত হতে পারবে। এই সামরিক উপস্থিতি পেন্টাগনকে বহুমুখী অভিযানের পথ তৈরি করে দিয়েছে, যদিও একটি পূর্ণাঙ্গ স্থল অভিযানের জন্য পেন্টাগনের আরও অতিরিক্ত সেনার প্রয়োজন হবে। সাবেক কিউবান প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনার ঠিক একই দিনে নিমিৎজ রণতরী ওই অঞ্চলে পৌঁছায়, যাকে স্পষ্টতই শক্তির মহড়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। পেন্টাগনের সাবেক কর্মকর্তা এবং বর্তমানে ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’-এর জ্যোষ্ঠ বিশ্লেষক মার্ক ক্যানসিয়ান বলেন, “নিমিৎজ মূলত ভয় দেখানোর জন্যই সেখানে অবস্থান করছে, তবে সামরিক অভিযানের জন্য প্রয়োজন হলে এটিকে সরাসরি ব্যবহার করা হতে পারে।” তিনি আরও জানান, ফ্লোরিডা এবং পুয়ের্তো রিকোয় অবস্থিত যুদ্ধবিমানগুলোর পাশাপাশি এই রণতরীটি কিউবার বিরুদ্ধে যে কোনও সামরিক পদক্ষেপে ভূমিকা রাখতে পারে। ক্যানসিয়ান বলেন, “কিউবার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে বিমান হামলা চালানো হতে পারে, যাতে সেখানে বড় ধরনের বিমান অভিযান চালানো যায়। অথবা ভেনেজুয়েলার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে তাদের শীর্ষ নেতৃত্বকে খতম করার পরিকল্পনাও থাকতে পারে। আর এই তালিকায় রাউল কাস্ত্রো হবেন তাদের প্রথম লক্ষ্যবস্তু।” তবে এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রশাসনের সামনে সময়ের একটি বিষয় রয়েছে। গ্রীষ্মকালে মোতায়েন করা সবচেয়ে বড় অনেকগুলো যুদ্ধজাহাজ ইতিমধ্যে সমুদ্রে প্রায় ১০ মাস অতিবাহিত করে ফেলেছে, যা সাধারণভাবে নির্ধারিত ছয় থেকে সাত মাস সময়সীমার চেয়ে অনেক বেশি। সমুদ্রে দীর্ঘ সময়ের এই অবস্থন নৌবাহিনীর ক্রুদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ তৈরি করছে এবং প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। উল্লেখ্য, এই নৌবাহিনী একইসঙ্গে পারস্য উপসাগরে ইরানি জাহাজের ওপর অবরোধ বজায় রাখার দায়িত্বও পালন করছে। মার্কিন নৌবাহিনী ক্যারিবীয় অঞ্চলে বর্তমান সেনা ও অস্ত্র মোতায়েন নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং নেভাল ফোর্সেস সাউদার্ন কমান্ডও কোনো জবাব দেয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা সামরিক অভিযানের বিষয়ে খোলামেলা কথা বলতে গিয়ে বলেন, “একটানা এত দীর্ঘ সময়ের মোতায়েন দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাদেরকে এত দীর্ঘ সময় বাইরে রাখার ফলে জাহাজগুলো যখন দেশে ফিরবে, তখন সেগুলোর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা তৈরি হবে।” এর আগে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড রেকর্ড ১১ মাসের একটি মিশন শেষ করে চলতি মাসে দেশে ফিরেছে। জাহাজটি প্রথমে ইউরোপ থেকে ভেনেজুৃয়েলায় মাদুরো অভিযানের জন্য ক্যারিবীয় সাগরে গিয়েছিল এবং পরে ইরানে যুদ্ধের জন্য পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন ছিল। এরপরই নিমিৎজ রণতরী ক্যারিবিয়ান সাগরে মোতায়েনের খবর সামনে এল। নিমিৎজের ৫০ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এটাই শেষ মিশন বলে মনে করা হলেও এটি মোতায়েন রাখার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নিমিৎজ রণতরীর পারমাণবিক ইঞ্জিন অপসারণের জন্য এটিকে ভার্জিনিয়ার নরফোক-এ পাঠানোর কথা ছিল, কিন্তু নৌবাহিনী এর মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাছাড়া, ইউএসএস ইও জিমা এবং ইউএসএস ফোর্ট লউডারডেল উভচর জাহাজগুলো গ্রীষ্মকাল থেকে এই অঞ্চলে অবস্থান করছে। তবে মেরিন কোরের পক্ষ থেকে গত বুধবার জানানো হয়েছে যে, আগামী সপ্তাহে জাহাজগুলো নরফোক-এ ফিরবে। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কয়েক মাস বেশি সমুদ্রে কাটানো এই দীর্ঘমেয়াদী মিশন মেরিন সেনা ও ক্রুদের ওপর বড় ধরনের মানসিক প্রভাব ফেলছে। সাবেক মেরিন কোর কর্মকর্তা জো প্লেনজলার বলেন, কেউ আরাম-আয়েশের জন্য সেনাবাহিনীতে যোগ দেয় না এবং সবাই জানে যে যে কোনো মোতায়েনই অনিশ্চিত হতে পারে। তবে এ ধরনের অনির্দিষ্টকালের জন্য মোতায়েন বাড়ানোর ফলে সেনাদের চাকরিতে টিকে থাকার আগ্রহ কমে যায়। কারণ, এমন পরিস্থিতিতে নিজের পরিবারকে ফের সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য রাজি করানো কঠিন হয়ে পড়ে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
নাটোরের সিংড়া উপজেলায় উপজেলা পর্যায়ে স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
কুমিল্লায় সালিশ বৈঠকে অংশ নেওয়ার হত্যা মামলা আসামী: প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর এখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পথে!
তেঁতুলিয়ায় মেধা, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী আইডিয়া প্রদর্শনী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
