ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ২৪ জুন ২০২৬ ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
মাজারে দানের টাকা আসলে কোথায় যায়?
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Wednesday, 24 June, 2026, 7:49 PM

মাজারে দানের টাকা আসলে কোথায় যায়?

মাজারে দানের টাকা আসলে কোথায় যায়?

সিলেটের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় নিদর্শন হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে মানত ও দান হিসেবে আসা অর্থ ব্যাংকে রাখার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। মাজারের আয়ের সুনির্দিষ্ট হিসাব না থাকা এবং তা ব্যক্তিগতভাবে ভাগবাটোয়ারার অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসন হস্তক্ষেপ করার পর, দীর্ঘ ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এটি প্রথমবার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের আওতায় আনা হচ্ছে।

সম্প্রতি সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম মাজার পরিদর্শন করে অভিযোগ করেন যে, মাজারে আসা আয়ের কোনো সন্তোষজনক হিসাব নেই এবং কিছু ব্যক্তি এই অর্থ নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিচ্ছেন। এই অভিযোগের পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাজারের তিনটি বড় দানের ডেগ (পাতিল) সিলগালা করে দেওয়া হয় এবং নতুন একটি দানবাক্স স্থাপন করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার (২২ জুন) জেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মাজারের দান বাক্স খোলা হয়। চার দিনের জমাকৃত অর্থ গণনা করে প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ টাকা, কিছু বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার পাওয়া যায়। বিপুল পরিমাণের এই অর্থ সামনে আসার পর মাজারের প্রকৃত আয় নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাঈদা পারভীন জানিয়েছেন, এখন থেকে মাজারের সমস্ত অর্থ একটি সুনির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হবে এবং আগামী এক মাস যৌথভাবে আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখা হবে।

প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন মাজারের বংশানুক্রমিক খাদেমরা। মাজারের খাদেম মুফতি রায়হান উদ্দিন মুন্না জানান, গত ৭০০ বছর ধরে তাদের প্রায় ৩০০টি পরিবার বংশ পরম্পরায় এই মাজারের দেখভাল করে আসছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, একেকটি পরিবার বছরে এক দিন মাজারের দায়িত্ব পায় এবং সেদিনের আয়ের একটি অংশ মাজারের তহবিলে দিয়ে বাকিটা তাদের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত আইনি অধিকার হিসেবে নিজেদের রক্ষণাবেক্ষণে ব্যবহার করে।

খাদেমদের দাবি, এই মাজার কোনো রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি নয়। মাজারের আয় থেকেই প্রতিদিনের লঙ্গরখানা পরিচালনা, বিপুল মানুষের গণ ইফতার, বাৎসরিক ওরশ, স্টাফদের বেতন এবং ৪ তলা বিশিষ্ট মসজিদের উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করা হয়, যেখানে সরকারের কোনো অনুদান থাকে না।

এদিকে, এই ঘটনার পরপরই জেলা প্রশাসকের আকস্মিক বদলি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে নানা গুঞ্জন তৈরি হলেও, প্রশাসনের পক্ষ থেকে একে একটি নিয়মিত বদলি প্রক্রিয়া হিসেবেই দাবি করা হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি নিউজ বাংলা

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status