ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ৩০ আগস্ট ২০২৬ ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
রাজধানীতে প্রধান সড়কে নিষিদ্ধ হচ্ছে অটোরিকশা, চলবে অভ্যন্তরীণ সড়কে ৮ জোনে
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Sunday, 30 August, 2026, 1:29 PM

রাজধানীতে প্রধান সড়কে নিষিদ্ধ হচ্ছে অটোরিকশা, চলবে অভ্যন্তরীণ সড়কে ৮ জোনে

রাজধানীতে প্রধান সড়কে নিষিদ্ধ হচ্ছে অটোরিকশা, চলবে অভ্যন্তরীণ সড়কে ৮ জোনে

রাজধানীর প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত ও ইলেকট্রিক অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে সরকার। তবে অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাচলের জন্য সর্বোচ্চ চার যাত্রী বহনকারী অটোরিকশাকে নিবন্ধন দেওয়া হবে। ছয় যাত্রী বহনকারী কোনো ই-রিকশা ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের নিবন্ধনের আওতায় আসবে না।

রোববার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা ওসমানের সঙ্গে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নীতিমালা আমাদের একদম শেষ পর্যায়ে। এটা আমরা একটু ভেটিং করবো এখন। আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে। ভেটিং হয়ে আসার পরেই আমরা এক সপ্তাহের মধ্যেই বা পরের সপ্তাহেই যত দ্রুত সম্ভব আমরা এটা দিয়ে দিব।’

তিনি বলেন, ‘আইনের আলোকে এই নীতিমালাটা দিয়ে দিলেই ই-রিকশাগুলি, ইলেকট্রিক রিকশাগুলি একটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে আসবে।’

বুয়েটের প্রত্যয়ন ও ফিটনেস ছাড়া নিবন্ধন নয়
নীতিমালায় ই-রিকশার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় এবং জেলা পর্যায়ের সরকারি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল শাখার প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করার কথা রয়েছে। পাশাপাশি ট্রাফিক বিভাগের ফিটনেস সনদ ছাড়া কোনো ই-রিকশা নিবন্ধন দেওয়া হবে না।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বুয়েট ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় এবং জেলা পর্যায়ের সরকারি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের যে অটোমোবাইল শাখা আছে, তাদের প্রত্যয়ন ছাড়া এবং ট্রাফিক বিভাগের ফিটনেস ছাড়া আমরা রেজিস্ট্রেশন না দেওয়ার ব্যাপারে এই নীতিমালাতে বলা থাকবে। এবং সিটি কর্পোরেশন এবং পৌরসভাই রেজিস্ট্রেশনগুলো দিবে।’

ই-রিকশার চার্জিং পয়েন্ট নিয়েও নীতিমালায় শর্ত থাকবে। পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে ই-রিকশা চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে এবং একপর্যায়ে এটি বাধ্যতামূলক করা হবে।

মীর শাহে আলম বলেন, ‘এরা রিচার্জ করবে যে পয়েন্টগুলোতে, এই গ্যারেজগুলোতে বা পয়েন্টগুলোতে, সেখানে যাতে অবশ্যই তারা সৌর বিদ্যুতে এটা করে। চেষ্টা করবো পর্যায়ক্রমে, যাতে তারা সৌর বিদ্যুতে যেন রিচার্জ করতে পারে। এবং এটা পর্যায়ক্রমে বাধ্য করা হবে।’

চার্জিং পয়েন্টের লাইসেন্সও নিতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এবং যেখানে তারা চার্জ দিবে, এই পয়েন্টগুলোরও লাইসেন্স সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন এরিয়ার মধ্যে হলে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা এরিয়ার মধ্যে হলে পৌরসভা থেকে নিতে হবে।’

ই-রিকশা তৈরির কারখানাও নিবন্ধনের আওতায়
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যত্রতত্র ই-রিকশা তৈরি হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব কারখানার কোনো সুনির্দিষ্ট হিসাব সরকারের কাছে নেই। নীতিমালার মাধ্যমে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হবে।

তিনি বলেন, ‘এগুলোও আমরা একটা সিস্টেমের মধ্যে নিয়ে আসব যে, বুয়েট ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটির ডিজাইন অনুযায়ী যারা প্রোডাকশন করবে, এই ফ্যাক্টরিগুলোরও লাইসেন্স সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনের কাছ থেকে রেজিস্টার্ড কোম্পানি হতে হবে এবং পৌরসভার কাছ থেকে নিতে হবে আরকি।’

ঢাকায় ৮ জোনে চলবে অটোরিকশা
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকাতে যেটা আমরা প্ল্যান করেছি, এটা ট্রাফিক বিভাগের অবশ্য প্রস্তাব, সেটা আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছি যে তাদের প্রস্তাবটা একেবারেই অমূলক না, সেটা হচ্ছে যে আমরা উত্তরে ৪টি এবং দক্ষিণে ৪টি মোট ৮টি জোন করব।’

তিনি বলেন, ‘মানে এই অনুমোদিত ই-রিকশা জেলা, রেজিস্টার্ড রিকশা জেলা। এবং এই ৮টি জোনের ৮টি রং হবে। এবং আমরা চেষ্টা করব যে একটি জোনের আপনার ই-রিকশা যেন আরেকটি জোনে যেতে না পারে।’

কোন ই-রিকশা কোন রুটে চলবে, তা সিটি কর্পোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি ই-রিকশায় জিও-ফেন্সিং ব্যবস্থাও থাকবে।

মীর শাহে আলম বলেন, ‘তারা কোন রুটে চলাফেরা করবে, এটা সিটি কর্পোরেশন এবং ট্রাফিক বিভাগ বসে ঠিক করে দিবে এটা আরকি।’

রাজধানীর প্রধান সড়কে ই-রিকশা চলাচলের সুযোগ থাকবে না বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। অভ্যন্তরীণ সড়কে জোনভিত্তিক এসব যান চলাচল করতে পারবে।

প্রধান সড়কে আলাদা রিকশা লেন করা এবং যাত্রী ওঠানামায় শৃঙ্খলা আনার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধান সড়কের জন্য এ ধরনের ব্যবস্থা করা কঠিন ও সময়সাপেক্ষ। তবে মূল সড়কে ই-রিকশা চলতে দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, ‘মেইন রোডে ই-রিকশা আমরা চলতে দেব না। আমরা ৮টি জোন করে তাদেরকে অভ্যন্তরীণ রোডগুলোতে যাতে তারা চলাফেরা করতে পারে।’

ঢাকা শহরে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে যাত্রী ধারণক্ষমতা দুই ও চারজন নির্ধারণ করা হবে। ছয় যাত্রী বহনকারী ই-রিকশা ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের নিবন্ধন পাবে না।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এটা ৩টি ভাগে ভাগ থাকবে। আমরা ঢাকা শহরে যে ই-রিকশাগুলোকে লাইসেন্স দিব বা রেজিস্ট্রেশন দিব, এটার যাত্রী সংখ্যা হবে ২ এবং ৪। ৬ জনের কোনো ভেহিক্যালকে, মানে ই-রিকশাকে আমরা ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনব না। ওটা আমরা নীতিমালাতে বলছি।’

তবে গ্রামীণ এলাকা ও জেলা শহরের গ্রামীণ সড়কে দুই, চার ও ছয় যাত্রী বহনকারী ই-রিকশা নিবন্ধন পাবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ২, ৪, ৬ এর রেজিস্ট্রেশন পাবে গ্রামীণ এলাকায়, জেলা শহরের গ্রামীণ রাস্তাতে চলার জন্য তারা পাবে। কিন্তু ঢাকা শহরে তারা রেজিস্ট্রেশন পাবে, এটা শুধু ২ জনের এবং ৪ জনের ই-রিকশা যেগুলো হবে।’

ঢাকায় নিবন্ধনের জন্য ই-রিকশাগুলো অবশ্যই বুয়েট ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যয়িত নকশা অনুযায়ী তৈরি হতে হবে।

‘এবং সেটা অবশ্যই বুয়েট এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটির সার্টিফাইড ডিজাইন অনুযায়ী যারা তৈরি করবে, তারাই এই রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আসবে’ বলেন প্রতিমন্ত্রী।

মীর শাহে আলম বলেন, ‘আমার মনে হয় যে আমরা যদি নীতিমালাটা দিয়ে দেই, আমার মনে হয় যে অনেক কিছুটা এটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করি।’

 

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status