|
বিদেশে সাবেক মন্ত্রী জাবেদের ১০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() বিদেশে সাবেক মন্ত্রী জাবেদের ১০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ এর বাইরে সিঙ্গাপুরে ব্যাংক ও বিনিয়োগ হিসাব, একটি কোম্পানিতে পরিচালকের পদ এবং একটি বাড়ির তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রী রুকমিলা জামান এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নিয়ে অনুসন্ধান যত এগিয়েছে, তত বড় হয়েছে তাদের ‘অবৈধ আয়ে গড়া সম্পদের মানচিত্র’। একই সঙ্গে বেড়েছে দুদকের মামলাও সংখ্যা। ব্যাংক ঋণ, অর্থ আত্মসাৎ, ঘুষ ও অর্থপাচারের অভিযোগে জাবেদকে ঘিরে এখন পর্যন্ত ৩৩টি মামলা করেছে দুদক। এসব মামলায় অভিযোগ করা অর্থের পরিমাণ ৬১৮ কোটির বেশি। এর বাইরে অন্তত আরও এক হাজার কোটি টাকার দুটি বড় অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ‘ঘুষ’ নেওয়ার অভিযোগও খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি। দুদকের মুখপাত্র ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বলেন, “সাইফুজ্জামান ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্টদের দেশে-বিদেশে পাওয়া সম্পদ শনাক্ত, ক্রোক ও অবরুদ্ধ করতে আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। “বিদেশের সম্পদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের সহায়তা পেতে এমএলএআরসহ (মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট) আইনি প্রক্রিয়া চলছে। অনুসন্ধানে নতুন সম্পদের তথ্য পাওয়া গেলে সেগুলোর বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” কর্মচারীকে ‘ব্যবসায়ী’ সাজিয়ে ১২৯ কোটি টাকার ঋণ সাইফুজ্জামান জাবেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী বা তাদের আত্মীয়দের ব্যবসায়ী দেখিয়ে ব্যাংক ঋণের অর্থ বের করার অভিযোগ পেয়েছে দুদক। ইমিনেন্ট ট্রেডার্স, ভিশন ট্রেডিং, রিলায়েবল ট্রেডিং, প্রগ্রেসিভ ট্রেডিং, মডেল ট্রেডিং ও ক্রিসেন্ট ট্রেডার্সের নামে ছয়টি ঋণে মোট ১২৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ছয়টি মামলা হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এসব প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া হয়েছিল ব্যাংক হিসাব খোলার মাত্র দুই-তিন মাস আগে। হিসাব খোলার কয়েক দিনের মধ্যেই ১৫ কোটি থেকে ২৫ কোটি টাকার ঋণ আবেদন করা হতো। বাস্তবে প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব না থাকলেও এক থেকে দুই দিনের মধ্যে পরিদর্শন প্রতিবেদন তৈরি করে ঋণ প্রস্তাব প্রধান কার্যালয়ে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। দুদকের নথি অনুযাযী, ঋণ অনুমোদনের পর ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে পে-অর্ডার ইস্যু করা হতো। পরে কয়েক দফা হিসাব বদলে সেই অর্থ নগদে তুলে নেওয়া হতো। শ্রমিক-রিকশাচালকের নথি দিয়ে ঋণের অভিযোগ আরেক কৌশলে শ্রমিক, কৃষক, রিকশাচালক, নাপিত, টেইলর ও অন্য নিম্নআয়ের মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি ব্যবহারের তথ্য পেয়েছে দুদক। কোভিড প্রণোদনা বা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলে তাদের পরিচয়পত্র ও ছবি সংগ্রহ করে পরে ব্যবসায়ী সাজানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। এভাবে ঋণ নিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ১৯টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অভিযোগের অঙ্ক ১৩৪ কোটির বেশি। দুদকের নথিতে এই ঋণগুলোর ক্ষেত্রেও নতুন ট্রেড লাইসেন্স, দ্রুত ব্যাংক হিসাব খোলা, কয়েক দিনের মধ্যে কোটি টাকার ঋণ আবেদন এবং অল্প সময়ের মধ্যে ঋণ অনুমোদনের একই ধরনের ছক কষার তথ্য পাওয়া গেছে। নগদ থেকে হুন্ডি, পরে বিদেশে দুদকের অনুসন্ধানে অর্থ বিদেশে নেওয়ার একটি চিত্রও উঠে এসেছে। সেখানে উঠে এসেছে, ঋণের টাকা কয়েকটি ব্যাংক হিসাবে ঘোরানোর পর জুবিলী রোড ও আগ্রাবাদসহ বিভিন্ন শাখা থেকে নগদে তোলা হতো। এরপর সেই টাকা হুন্ডির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছে দেওয়া হতো। সমপরিমাণ অর্থ সংযুক্ত আরব আমিরাতে দিরহামে নেওয়া হতো। পরে ব্যবসার অর্থ হিসাবে ব্যাংকে জমা করে টিটির মাধ্যমে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে বলে দুদকের অনুসন্ধানে তথ্য এসেছে। সেই অর্থ দিয়ে বিদেশে সম্পত্তি কেনার অভিযোগ করছে সংস্থাটি। পাঁচ প্রতিষ্ঠানের ২১৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকার ‘ঘুষ’ পাঁচটি বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোট ২১৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে পাঁচটি মামলা করে দুদক। এর মধ্যে থার্মেক্স নিট ইয়ার্ন থেকে ৫২ কোটি টাকা, এইচএম শিপ ব্রেকিং ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে ৫৫ কোটি টাকা, ওয়েল মার্ট থেকে ৫ কোটি টাকা, সাইফ পাওয়ারটেক ও ই-ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে ৪১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং আইকনএক্স সার্ভিস থেকে ৬০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মামলাগুলোর অনুসন্ধানে যাদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে, তাদের বরাতে দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, ঋণ সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে বা চাপ সৃষ্টি করে এসব টাকা নেওয়া হয়েছিল। আরও এক হাজার কোটি টাকার দুই অভিযোগ পারিবারিক প্রতিষ্ঠান আরামিট সিমেন্টের নামে ইসলামী ব্যাংক থেকে ৫০০ কোটি টাকার ঋণ সুবিধা নেওয়ার বিষয়েও অনুসন্ধান করছে দুদক। অভিযোগে বলা হয়েছে, আরামিট গ্রুপের এক কর্মকর্তাকে কাঁচামাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক দেখিয়ে এই সুবিধা নেওয়া হয়েছিল। এই অর্থের একটি অংশ নিয়ে ইতোমধ্যে তিনটি মামলা হয়েছে। আরেকটি অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা এড়িয়ে ইউসিবি ও আইএফআইসি ব্যাংকের মাধ্যমে মোট ৫০০ কোটি টাকার ঋণ দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দেশে ফ্ল্যাট, দোকান, জমি ও কারখানা সাইফুজ্জামান জাবেদের দেশে থাকা সম্পদও চিহ্নিত করেছে দুদক। নথিতে ঢাকার দুটি ফ্ল্যাট, চট্টগ্রামের ১০টি ফ্ল্যাট, একটি মার্কেটের নয়টি দোকান, ২৭টি জমি এবং সাতটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তথ্য রয়েছে। গুলশানের দুটি ফ্ল্যাট ক্রোকের পর দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালককে রিসিভার করা হয়েছে। ফ্ল্যাট দুটি থেকে আসবাবপত্র, পোশাক, গয়না, গাড়ির চাবি ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীসহ ২৬০ ধরনের জিনিস জব্দের তালিকা করা হয়েছে। চট্টগ্রামে কয়েকটি ফ্ল্যাটে ভাড়াটিয়া পাওয়া গেছে। কোনো কোনো ফ্ল্যাটের ভাড়া জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখায় জমা হচ্ছিল। কয়েকটির ভাড়া আরামিট গ্রুপের প্রতিনিধিদের কাছে দেওয়া হচ্ছিল। আগ্রাবাদের আখতারুজ্জামান সেন্টারের নিচতলায় নয়টি দোকান ভাড়ায় থাকার তথ্যও রয়েছে। দুদকের প্রতিবেদনে ২৭টি জমির তথ্য রয়েছে। এর বড় অংশ আনোয়ারায়। দুদক কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ের যাচাইয়ে কোথাও ধান ও সবজি চাষ করতে দেখেছেন। কোথাও জমি খালি। কোনোটি ভিটা বা কৃষিজমি। আবার কোনো অংশ সড়কের জন্য অধিগ্রহণ হয়েছে। আদালতের আরেক আদেশে আনোয়ারায় ৯৫৭ বিঘা জমি ক্রোক এবং ২৩ কোম্পানির ১০২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার অবরুদ্ধ করা হয়েছে। সাত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ছয়টি বন্ধ কালুরঘাট শিল্প এলাকার সাতটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অবস্থাও যাচাই করেছে চট্রগ্রাম জেলা প্রশাসন। তাতে আরামিট পিএলসি আংশিক চালুর তথ্য মিলেছে। সেখানে ৫৫ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। অন্য ছয়টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। সেগুলো হল আরামিট সিমেন্ট, আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়াম, আরামিট ফুটওয়্যার, আরামিট স্টিল পাইপস, আরামিট অ্যালু কম্পোজিট প্যানেলস ও আরামিট পাওয়ার। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পদ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় তিন সদস্যের রিসিভার কমিটি করার দুদকের প্রস্তাবে আদালত সায় দিয়েছে। যুক্তরাজ্যে শত শত বাড়ি বিদেশে সাইফুজ্জামান জাবেদের সবচেয়ে বেশি সম্পদ যুক্তরাজ্যে থাকার কথা জেনেছেন দুদক কর্মকর্তারা। সেখানবার কোম্পানি ও ভূমি নিবন্ধনের নথি বিশ্লেষণ করে ব্লুমবার্গ ২০২৪ সালে জাবেদ ও রুকমিলা সংশ্লিষ্ট ৩৫৮টি সম্পত্তি শনাক্ত করেছিল। এসব সম্পত্তি শুধু মধ্য লন্ডনে নয়; পূর্ব লন্ডন, দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ড ও লিভারপুলেও ছিল। পরে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি তাদের শ্লিষ্ট ৩৪২টি সম্পত্তি ফ্রিজ করে। দুদকের পরে অনুসন্ধানে চালালে তালিকা আরও বড় হয়। আদালতে দেওয়া একটি আবেদনে যুক্তরাজ্যে ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্টের তথ্য তুলে ধরে সংস্থাটি। নয় দেশে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ দুদকের অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফিলিপিন্স, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে জাবেদ ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্টদের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ আদালতের আদেশে ক্রোক, জব্দ বা অবরুদ্ধের আওতায় এসেছে। এই নয় দেশের তালিকার বাইরে সর্বশেষ সিঙ্গাপুরে নতুন সম্পদের তথ্য সামনে এসেছে। দুদকের ২ সেপ্টেম্বরের আবেদনে সম্পদের তালিকায় নতুন দেশ হিসেবে সিঙ্গাপুরের নাম সামনে এনেছে। দুদকের উপপরিচালক ও নয় সদস্যের টাস্কফোর্সের দলনেতা মশিউর রহমানের সই করা আবেদনে সেখানে আটটি ব্যাংক বা বিনিয়োগ হিসাব, একটি কোম্পানিতে পরিচালকের পদ এবং একটি স্থাবর সম্পত্তির তথ্য আদালতে দেওয়া হয়েছে। জাবেদ ও রুকমিলা জামানের নামে তিনটি যৌথ ব্যাংক হিসাব ১৯৯৯, ২০০০ ও ২০০১ সালে খোলার তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া ফার্স্ট আবু ধাবি ব্যাংক, সিটি ব্যাংক এবং ডিবিএসের হিসাবের তথ্য এসেছে। ডিবিএসের হিসাবের সঙ্গে আরামিট প্রপার্টিজ লিমিটেড এবং নিউ ভেঞ্চারস (লন্ডন) লিমিটেডের নাম রয়েছে। জাসা ওশান পিটিই লিমিটেডে ২০১১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সাইফুজ্জামান জাবেদ পরিচালক ছিলেন বলে আবেদনে বলা হয়েছে। সিঙ্গাপুরের সেন্ট থমাস ওয়াক এলাকায় ২০১৯ সালে ১৬ লাখ ১২ হাজার সিঙ্গাপুর ডলারে কেনা একটি সম্পত্তির মালিক হিসাবেও তার নাম রয়েছে। দুদকের অভিযোগ, এসব সম্পদ হস্তান্তর বা বিক্রি হয়ে যেতে পারে। সে কারণে সিঙ্গাপুরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এমএলএআর বা পারস্পরিক আইনি সহায়তার অনুরোধ পাঠিয়ে সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধের ব্যবস্থা নিতে আদালতের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। ‘সম্পদ শনাক্ত আর দেশে ফেরানো এক নয়’ বিদেশে সম্পদের সন্ধান পাওয়া, সেটি ফ্রিজ করা এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া যে সহজ নয় তা মানছেন দুদক কর্মকর্তারা। তাদের কয়েকজন বলছেন, প্রথমে সম্পদের সঙ্গে অপরাধের যোগসূত্র প্রমাণ করতে হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট দেশের কাছে নথি, তথ্য ও আইনি সহায়তা চাওয়া হয়। প্রয়োজনে সে দেশের আদালতেও আলাদা প্রক্রিয়া চালাতে হয়। এ কারণে বাংলাদেশের আদালতে ক্রোকের আদেশ হলেই বিদেশে থাকা সম্পদ সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের দখলে আসে না। সাইফুজ্জামান জাবেদ এর আগে বিদেশের সম্পদ নিয়ে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলার চেষ্টা করেছেন, তার বাবা প্রয়াত এমপি আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর সময় থেকেই তাদের পরিবারের বিদেশে ব্যবসা রয়েছে। বিদেশের বৈধ ব্যবসার আয় ও ব্যাংক ঋণের অর্থ দিয়ে সম্পত্তি কেনা হয়েছে বলেও জাবেদ দাবি করেছেন। তার বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপকে তিনি ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে বর্ণনা করেছেন।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
