|
বাল্টিমোরে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ মেরিল্যান্ড বিএনপির
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() বাল্টিমোরে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ মেরিল্যান্ড বিএনপির ২০২১ সালের ২০ জুন বাল্টিমোরে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ লেখা একটি সম্মানসূচক সড়ক নামফলক উন্মোচন করা হয়। ওই উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার দাবি করেছেন মেরিল্যান্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খাজা মোহাম্মদ কাজল। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, নামফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে কয়েক শ বাংলাদেশি-আমেরিকান উপস্থিত ছিলেন। মেরিল্যান্ড স্টেট ডেলিগেট রবিন টি. লুইস নামফলকটি উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি নেতা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও অংশ নেন। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে বাল্টিমোর কর্তৃপক্ষ এবং খাজা মোহাম্মদ কাজলকে উদ্যোগটির জন্য ধন্যবাদ জানান। নামকরণ নিয়ে আপত্তি ও শুনানি নামফলক উন্মোচনের কয়েক মাসের মধ্যেই ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ নামকরণ নিয়ে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটিতে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিসহ কয়েকটি সংগঠনের পক্ষ থেকে বাল্টিমোর কর্তৃপক্ষের কাছে নামটি প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। তাঁদের বক্তব্য ছিল, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের একজন সামরিক শাসক ছিলেন এবং তাঁর ক্ষমতায় আসার প্রক্রিয়া নিয়ে গণতান্ত্রিক বৈধতার প্রশ্ন রয়েছে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে বাল্টিমোর কর্তৃপক্ষ সম্মানসূচক নামফলকটি সরিয়ে দেয়। অন্যদিকে, মেরিল্যান্ড বিএনপির নেতারা নামফলক অপসারণের উদ্যোগকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। তাঁদের বক্তব্য, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে নামটি প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ মেরিল্যান্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খাজা মোহাম্মদ কাজল বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নতুন করে বাল্টিমোর কর্তৃপক্ষের সামনে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য তাঁরা কাজ করতে চান। তবে সড়কটির সম্মানসূচক নাম পুনঃপ্রতিষ্ঠা হবে কি না, সেটি নির্ভর করবে বাল্টিমোর নগর কর্তৃপক্ষের প্রযোজ্য আইন, নীতিমালা ও সিদ্ধান্তের ওপর। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকারের উদ্যোগ এককভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করতে পারে না। রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে ভিন্নমত জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকা ও উত্তরাধিকার নিয়ে বাংলাদেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ভিন্নমত রয়েছে। বিএনপি তাঁকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরে। অন্যদিকে, তাঁর ক্ষমতায় আসা, সামরিক শাসন ও রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের সমালোচনা রয়েছে। বাল্টিমোরের সড়ক নামকরণকে ঘিরে ২০২১ সালের বিতর্কেও এসব ভিন্ন রাজনৈতিক মূল্যায়নের প্রতিফলন দেখা যায়। উল্লেখিত বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের বিরুদ্ধে সমন্বিতভাবে নামফলক অপসারণের উদ্যোগ পরিচালনার যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলোর সবগুলোর পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি পাওয়া যায়নি। তবে সমসাময়িক প্রকাশিত প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদের বাল্টিমোর কর্তৃপক্ষের কাছে আপত্তি জানানো এবং নামটি প্রত্যাহারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার তথ্য উল্লেখ রয়েছে। এখন মেরিল্যান্ড বিএনপির পক্ষ থেকে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হলেও, ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ নামটি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে কি না, তা শেষ পর্যন্ত বাল্টিমোরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
