|
১৯ বছর পর আইসিটি কোর্স: পাইকগাছার মঠবাটি মাদ্রাসায় শিক্ষকের নিয়োগ নিয়ে ধোঁয়াশা
শেখ সেকেন্দার আলী, পাইকগাছা
|
![]() ১৯ বছর পর আইসিটি কোর্স: পাইকগাছার মঠবাটি মাদ্রাসায় শিক্ষকের নিয়োগ নিয়ে ধোঁয়াশা নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মো. রবিউল সরদার ১৯৯০ সালে এসএসসি, ১৯৯৩ সালে এইচএসসি, ১৯৯৬ সালে বিএ (ডিগ্রি) এবং ২০০১ সালে এমএ পাস করেন। এরপর ২০০৪ সালে তিনি মঠবাটি জি.জি.পি.জি দাখিল মাদ্রাসায় আইসিটি শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো, আইসিটি বা কম্পিউটার বিষয়ে তাঁর এক বছরের অর্জিত কোর্সটি সম্পন্ন হয়েছে একেবারে সাম্প্রতিক সময়ে—২০২৩ সালে, সাতক্ষীরার বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান "সুন্দরবন ইনস্টিটিউট" থেকে। প্রশ্ন উঠেছে, ২০০৪ সালে যখন তিনি আইসিটি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান, তখন তাঁর আইসিটি-সংক্রান্ত ন্যূনতম কী যোগ্যতা ছিল এবং কোন ভিতে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল? যে সনদ চাকরিতে যোগদানের প্রায় দুই যুগ পর অর্জিত, তা ২০০৪ সালের নিয়োগের ক্ষেত্রে কীভাবে প্রযোজ্য হলো—তা নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত ও অর্থ ফেরতের নোটিশের গুঞ্জন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এস এম আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, রবিউল সরদারের নিয়োগ ও যোগ্যতার বিষয়টি নিয়ে ইতিপূর্বে তদন্ত হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) পরিদর্শক তাঁর সনদ যাচাই করেছিলেন এবং আপত্তি ওঠার পর মন্ত্রণালয় থেকে তাঁকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি প্রায় ১৩ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার জন্যও নোটিশ জারির কথা জানিয়েছেন তিনি। তবে ঠিক কী কারণে এবং কোন নথির ভিত্তিতে ওই আপত্তি ও নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। এ বিষয়ে পাইকগাছা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকসানা পারভীন জানান, "নিয়োগের সময় প্রার্থী যে যোগ্যতা নিয়ে যদি পূর্বে যাচাই হয় তাহলে এটা নিয়ে আমি ইন্টারেস্টেড না। এছাড়াও তিনি বেতন পান তাহলে কোন সমস্যা আছে বলে আমি মনে করি না" এদিকে যোগ্যতার তোয়াক্কা না করে বছরের পর বছর পার করে পরে সনদ জোগাড় করার এমন ঘটনায় স্থানীয় বেকার ও যোগ্য চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, যেখানে হাজার হাজার শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত তরুণ বেকার ঘুরে বেড়াচ্ছেন, সেখানে বছরের পর বছর চাকরি করার সুযোগ পেয়ে পরবর্তীতে ভুঁইফোড় কায়দায় সনদ বাগিয়ে নেওয়ার এই সংস্কৃতি কিসের ইঙ্গিত দেয়? সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০০৪ সালের মূল নিয়োগ প্রক্রিয়া, নিয়োগ কমিটির রেজুলেশন এবং ডিআইএ-র পূর্বের তদন্ত প্রতিবেদন নিরপেক্ষভাবে উন্মোচন করলেই বেরিয়ে আসবে এই অনিময়ের আসল রহস্য। |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
