ই-পেপার সোমবার ● ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ● ৪ অক্টোবর ২০২৬ ● ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মাটির প্রতিমায় দেবীর রূপ, আড়ালে কারিগরদের জীবনসংগ্রাম
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Sunday, 4 October, 2026, 6:18 PM

মাটির প্রতিমায় দেবীর রূপ, আড়ালে কারিগরদের জীবনসংগ্রাম

মাটির প্রতিমায় দেবীর রূপ, আড়ালে কারিগরদের জীবনসংগ্রাম

শারদীয় দুর্গাপূজা ঘনিয়ে আসতেই কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ব্যস্ততা বেড়েছে প্রতিমা তৈরির কারিগরদের। খড়, বাঁশ ও মাটির কাঠামোর ওপর নিপুণ হাতে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে দেবী দুর্গার অবয়ব। কারও হাতে চলছে কাঠামো তৈরির কাজ, কেউ দিচ্ছেন মাটির প্রলেপ, আবার কেউ ব্যস্ত প্রতিমার শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জায়। উৎসবের আনন্দের আড়ালে দিন-রাত পরিশ্রম করে চলেছেন এসব কারিগর।


উপজেলার প্রতিমা কারিগর শ্রী তপন চন্দ্র মালি এ বছর তৈরি করছেন ১০টি প্রতিমা। প্রতিটি প্রতিমা ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করছেন তিনি। একটি প্রতিমা তৈরিতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা। প্রতিটি প্রতিমা তৈরির কাজে ১৫ থেকে ১৬ জন শ্রমিক যুক্ত থাকেন।

তপন চন্দ্র মালি বলেন, প্রতিমা তৈরির কাজটা মৌসুমি। পূজার সময় কাজের চাপ থাকে। কাজ শেষ হলে আবার কৃষিকাজে যুক্ত হই।

একইভাবে উপজেলার আরেক প্রতিমা কারিগর শ্রী শ্যামল চন্দ্র এ বছর তৈরি করছেন ৯টি প্রতিমা। তাঁর ভাষ্য, গত বছরের তুলনায় প্রতিমা তৈরির প্রায় সব উপকরণের দাম বেড়েছে। এতে খরচ বেড়েছে, তবে কাজ ধরে রাখার জন্য তাঁরা প্রতিমা তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
শ্যামল চন্দ্র বলেন, প্রতিমা তৈরির জন্য ভালো ও শক্ত মাটি প্রয়োজন হয়। সাধারণত পুকুর বা ক্ষেতের শক্ত মাটি সংগ্রহ করে প্রতিমা তৈরি করি। গত বছরের তুলনায় এবার সবকিছুর দাম বেড়েছে। তারপরও কাজ ধরে রাখতে হচ্ছে।

তিনি জানান, একটি প্রতিমা তৈরি করতে প্রায় ১২ দিন সময় লাগে। সব ধরনের খরচ বাদ দিয়ে প্রতিটি প্রতিমায় তাঁদের প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা লাভ থাকে।

তবে এই পেশা দিয়ে সারা বছর সংসার চালানো সম্ভব নয়। শ্যামল চন্দ্র জানান, সাধারণত বছরে প্রায় তিন মাস প্রতিমা তৈরির কাজ থাকে। এ সময়টুকু কাজের ব্যস্ততা থাকলেও বছরের বাকি সময় তাঁদের কৃষিকাজের ওপর নির্ভর করতে হয়। অনেক সময় অন্যের জমিতেও শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে হয়।

শ্যামল চন্দ্র বলেন, প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হলে আবার কৃষিকাজে চলে যাই। বছরের বাকি সময় অন্যের জমিতে কাজ করে সংসার চালাতে হয়। তবে চাই, আমাদের সন্তানরাও এই পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকুক। নতুন প্রজন্ম এ কাজ ধরে রাখলে আমাদের ঐতিহ্যটাও টিকে থাকবে।

কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিমা তৈরির সঙ্গে শুধু মূল কারিগররাই নন, স্থানীয় অনেক শ্রমিকও যুক্ত হন। ফলে দুর্গাপূজার মৌসুমে কয়েক মাসের জন্য তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হলে আবার তাঁদের অনেকেই কৃষিশ্রমিকের কাজে ফিরে যান।


স্থানীয় কারিগরদের মতে, প্রতিমা তৈরি শুধু একটি পেশা নয়; এটি তাঁদের বংশপরম্পরায় চলে আসা শিল্প। মাটি, খড় ও বাঁশের সঙ্গে শ্রম আর অভিজ্ঞতা মিশিয়ে তাঁরা তৈরি করেন পূজামণ্ডপের প্রধান আকর্ষণ। 


কিন্তু উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি, সীমিত কাজের সময় ও সারা বছর আয়ের নিশ্চয়তা না থাকায় এই পেশার সঙ্গে জড়িতদের জীবনযাত্রা সহজ নয়।

ফুলবাড়ীর প্রতিমা তৈরির কারিগরদের জীবনের গল্প তাই শুধু দুর্গাপূজার প্রস্তুতির গল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্রামীণ মানুষের মৌসুমি কর্মসংস্থান, কৃষিনির্ভর জীবন এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একটি ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা।

পূজামণ্ডপে যখন মাটির প্রতিমায় আলো জ্বলবে, ঢাকের বাদ্যে মুখর হবে চারপাশ, তখন সেই উৎসবের আড়ালে থেকে যাবে কারিগরদের দিনের পর দিন শ্রম, ঘাম আর জীবনসংগ্রামের গল্প।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status