ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংঘটিত অগ্নিকান্ড, অগ্নি আতঙ্কে হতাহত ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবীতে বিক্ষোভ কর্মসূচী করে নাগরিক সংগঠন মযমনসিংহ মঞ্চ। মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর ২০২৬) বেলা ১১ টায় হাসপাতাল গেইটের সম্মূখে ঘন্টাব্যাপী এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি।
বিক্ষোভ কর্মসূচীতে বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতাল ময়মনসিংহ বিভাগের জেলাসমুহ ছাড়াও আশপাশের বিভাগের বিভিন্ন জেলার বিপুলসংখ্যক মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসাস্থল। সাধারণ মানুষ ছুটে আসে সুচিকিৎসার আশায়। প্রতিদিন কয়েক হাজার রোগী ও স্বজনের উপস্থিতি থাকে এই হাসপাতালে। কিন্তু অব্যবস্থাপনা, দুর্নীর্তির চিত্র সাধারণ মানুষের আশা আজ গুড়েবালি। বঞ্চিত হচ্ছে সুচিকিৎসা প্রাপ্তি থেকে। দিনকে দিন প্রকট থেকে প্রকটতর হচ্ছে নানান অসঙ্গতি, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতির চিত্র। দৃশ্যমান অব্যবস্থাপনা, অসঙ্গতি ও দুর্নীর্তির চিত্রের মাঝেই গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন বিল্ডিংয়ের ৮ম তলায় লিফট কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। মুহুর্তে আগুন লিফটে ছড়িয়ে পড়ে। ৭ম তলা থেকে নিচের তলাসমূহে অবস্থানরত রোগী, রোগীর স্বজন এবং কর্তব্যরত ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য স্টাফদের মাঝে চরম আতঙ্ক দেখা দেয়। সকলেই নিজেকে আত্মরক্ষার জন্য ছুটাছুটি শুরু করেন। পাঁচটির মধ্যে মাত্র একটি সিঁড়ি চালু থাকায় অনন্যোপায় হয়ে সকলেই একমূখী হয়ে নিচে নামার প্রাণপণ চেষ্টা করেন। শতশত মানুষের এক সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার চেষ্টার কারণে হুড়োহুুড়ি করায় কেউ কেউ চাপ সহ্য করার শক্তি হারিয়ে সিঁড়িতে পড়ে যান। অন্যরা তাদেরকে পাড়িয়ে চলতে থাকেন। এতে তারা আহত হন, পরবর্তিতে কেউ কেউ নিহতও হন। যার তথ্য সাংবাাদিকগণ নিহতদের আপনজনদের বরাতে তোলে ধরেন। বক্তারা আরো বলেন, অবাক করার বিষয়, বিভাগীয় কমিশনার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই হতাহতের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বা পদদলিত হয়ে কেউ মারা যায়নি বলে গণমাধ্যমে বলতে থাকেন। বর্তমান সময়ে যে সত্য আড়াল করা যায় না তা তারা বেমালুম ভূলে গেলেন। সাংবাদিকরা তথ্য-উপাত্ত তোলে ধরলেও তারা তা কর্ণপাত করেনি। অবশেষে দু'জনের নিহত হওয়ার হওয়ার কথা স্বীকার করে। তবে এই দু'জন যে পদদলিত হয়ে মারা গিয়েছেন তা স্বীকার করেনি, যা নিহত দু'জনের স্বজনদের বক্তব্যের সাথে সাংঘর্ষিক। এদিকে, আহতের পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশাসন একদম চুপ। মনে হয়, যেন কেউ আহতই হয়নি। বক্তারা আরো বলেন, সংঘটিত অগ্নিকান্ড, অগ্নি আতঙ্কে হতাহত ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে তদন্ত কমিটি হলে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওযার তারিখ একাধিকবার বর্ধিত করে। অবশেষে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলেও কর্তৃপক্ষ তা প্রকাশে গড়িমসি করে বেদনাদায়ক ঘটনাটি ধাপাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ বিষয়টি হাসপাতালের নিজস্ব কোন গোপন বিষয় নয় যে গোপন রাখতে হবে। ঘটনাটি ময়মনসিংহ অঞ্চলের জনসংশ্লিষ্ট, জনদুর্ভোগ, জন আতঙ্ক ও সঠিক চিকিৎসা প্রাপ্তির সাথে সম্পর্কিত। তাই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা একান্ত জরুরি। সাংবাাদিক সম্মেলন ডেকে সাংবাাদিকদের মাধ্যমে ময়মনসিংহবাসীর নিকট তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে। বেদনাদায়ক এ ঘটনাটি ধামাচাপা পড়ে গেলে ভবিষ্যতে মমেক হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা, অবহেলা, দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব হবে না। বরং এসব নেতিবাচক চিত্র দিনদিন আরো প্রকট হবে। জনসংশ্লিষ্ট এই ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা না পর্যন্ত মযমনসিংহ মঞ্চ ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সংগঠনটি। ময়মনসিংহ মঞ্চের মূখ্য সমন্বয়কারী ইমতিয়াজ আহমেদের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন মঞ্চের সংগঠক আবু বকর ছিদ্দিক রুমেল, আব্দুল হান্নান আল আজাদ, ইঞ্জিনিয়ার এম এ জিন্নাহ, আনোয়ার হোসেন, আরিফুল হাসান, শাহরিয়ার আহমেদ আশিক, সাদ্দাম হোসেন, সুশান্ত শীল, আবু সাইফ মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ প্রমূখ।