|
আটক ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি-ককরোচ জনতা পার্টির অভিজিৎ দীপকে
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() আটক ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি-ককরোচ জনতা পার্টির অভিজিৎ দীপকে শনিবার (১০ অক্টোবর) গুরগাঁওয়ে ধ্রুব রাঠির বাসা থেকে এবং দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অভিজিৎ দীপকে ও দলের দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে আটক করা হয় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির এই বিক্ষোভের কর্মসূচি ছিল। বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি যান চলাচল ও সাধারণ মানুষের চলাফেরায় বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রের বরাতে অন্তত ৬০০ জনকে আটকের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। নিউজ১৮-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সকাল প্রায় ৭টা ৪৮ মিনিটে দিল্লি পুলিশের একটি দল গুরগাঁওয়ের সেক্টর ৫৬ এলাকার সেন্ট্রাল পার্ক বিহারে ধ্রুব রাঠির বাসায় প্রবেশ করে। ওই সময় তাঁর মা দরজা খুলে দেন। পরে সেখান থেকে তাঁকে আটক করা হয়। ধ্রুব রাঠি পরিবারের সঙ্গে ওই বাসায় থাকেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাঁর বাসার বাইরে প্রায় ৫০ জন পুলিশ সদস্য জড়ো হয়েছিলেন। সিজেপির ডাকা বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে ধ্রুব রাঠির দিল্লিতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে তাঁকে আটকের কারণ এবং আটকের পর কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দলের দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে শনিবার দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরের কর্মসূচিতে অংশ নিতে তাঁরা দিল্লিতে পৌঁছেছিলেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। দিল্লিতে যাওয়ার আগে অভিজিৎ দীপকে বলেছিলেন, বিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে গ্রেপ্তার হলেও তিনি প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধের মাধ্যমে সরকার সাধারণ মানুষকে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছে। দীপকের অভিযোগ, সরকারের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরব হওয়া তরুণ ও সাধারণ নাগরিকদের ভয় পাচ্ছে ক্ষমতাসীন পক্ষ। নিরাপত্তাবাহিনীর বিপুল মোতায়েন এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে তাঁর এসব বক্তব্যের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়ার তথ্য দেওয়া হয়নি। সিজেপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল ৬টা থেকেই দিল্লির বিভিন্ন সড়কে কঠোর ট্রাফিক বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ব্যারিকেড বসিয়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিভিন্ন স্থানে যানবাহন তল্লাশি, নজরদারি এবং যান চলাচলের পথ পরিবর্তনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুলিশ সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লি পুলিশ আইনের ৬৫ নম্বর ধারায় অন্তত ৬০০ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে মেট্রো চলাচলে বিধিনিষেধ, কয়েকটি ট্রেন বাতিল এবং রাজধানীর কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার খবরও পাওয়া গেছে। তবে ধ্রুব রাঠি, অভিজিৎ দীপকে ও তাঁদের সঙ্গে আটক অন্য নেতাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, তাঁদের কোথায় রাখা হয়েছে এবং আটকের পর তাঁদের বিষয়ে কী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
