মঙ্গোলিয়দের ‘হিংস্র’ ইতিহাস পাল্টে দিলো নতুন সমীক্ষা
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Thursday, 5 March, 2020, 1:34 PM
মঙ্গোলিয়দের ‘হিংস্র’ ইতিহাস পাল্টে দিলো নতুন সমীক্ষা
ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিজেতা বলা হয় চেঙ্গিস খানকে। ধ্বংস, হত্যা, চাতুর্য, ক্ষমতা, লিপ্সা এবং রণকুশলতার এক অভূতপূর্ব মিশেলে গড়া চেঙ্গিস খানের জীবন কাহিনী যেন একটি জীবন্ত সিনেমার মতো। বলা হয়ে থাকে, তার দৈনন্দিন কার্যক্রমের মতো খাবার তালিকাও ছিল ভয়ানক! তার প্রতিষ্ঠিত মঙ্গোল জাতিও একই খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত ছিল। নতুন এক গবেষণা বলছে, প্রাচীন মঙ্গোলিয়ান রাজ্যগুলো সম্পর্কে আমরা যা জানি বাস্তবে তা আরো মার্জিত হতে পারে।
ইতিহাস বলছে, মঙ্গোলিয় সেনারা একদিনে সর্বোচ্চ ১২৯ কিলোমিটার পর্যন্ত পথও পাড়ি দিতে পারতো; সে সময়ে যা অন্যরা কল্পনাও করতে পারতো না। দীর্ঘ এ যাত্রাপথে ক্ষুধা নিবারণের জন্য তারা ঘোড়ার পিঠে কাচা মাংস বয়ে নিয়ে যেত। কখনো যদি পিপাসা পেত, তবে কেটে ফেলতো ঘোড়ার গলাটাই। এরপর ফিনকি দিয়ে বেরিয়ে আসা রক্তই হতো তাদের তৃষ্ণা নিবারণের মাধ্যম! এছাড়া ঘোড়ার দুধ থেকে গাজন প্রক্রিয়ায় মদ বানানোর রীতি তো চালু ছিলোই।
সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্র সম্প্রতি প্রমাণ করেছে যে, মঙ্গোলিয়দের খাদ্যতালিকাগুলো এক ধরণের ক্ষুদ্র-বীজযুক্ত ঘাসের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তারা যেহেতু বন-জঙ্গল কিংবা ফাঁকা মাঠ দাঁপিয়ে বেড়াতো; সেসব জায়গায় যা পাওয়া যেন তাই খেতো। এছাড়া তারা নির্ভরযোগ্য খাদ্য জমা রাখতে সক্ষম ছিল।
জার্মানের ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের শীর্ষস্থানীয় লেখক শেভান উইলকিন কসমোসকে বলেন, মঙ্গোলিয়ার অতীত সাম্রাজ্যগুলোকে দীর্ঘকাল ধরে হিংস্র ঘোড়সওয়ারের দল হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যা সাম্রাজ্য তৈরির প্রতিষ্ঠিত আদর্শগুলো থেকে ব্যতিক্রমী হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। অথচ বাস্তবে তা আরো মার্জিত হতে পারে।
মঙ্গোলিয়দের ‘হিংস্র’ ইতিহাস পাল্টে দিলো নতুন সমীক্ষা
মাংস ও দুধ—এ দুটি খাবারই ছিল মঙ্গোলিয়দের প্রধান খাবার; ইতিহাস এমনটাই বলছে। তবে নতুন সমীক্ষা বলছে, বন থেকে সংগৃহীত ফলমূল ছিল অন্যতম খাবার। তবে পূর্ব ইতিহাস মতে, মঙ্গোলিয়রা পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রেও ছিল অদ্ভুত! প্রথমেই পশুটিকে বেঁধে মাটিতে ফেলে বুক চিরে বের করে আনতো হৃৎপিণ্ড। তারপর সেটি চিপে মৃত পশুর সারা গায়ে ছড়িয়ে দেয়া হতো রক্ত! এরপর সেই মাংস সিদ্ধ করে কিংবা কাবাব বানিয়ে খাওয়া হতো।