সকালেও ফোনে বোন বলেছিল সব ঠিক আছে. তার পরের ফোনেই এল সেই সংবাদ
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Monday, 20 December, 2021, 7:15 PM
সকালেও ফোনে বোন বলেছিল সব ঠিক আছে. তার পরের ফোনেই এল সেই সংবাদ
বিয়ের সময়ে দাবি মতো পণ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরও মেটেনি চাহিদা। বিয়ের দু’মাসের মধ্যেই ফের পাত্র দাবি করেন একটি বাইক আরও অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা। কিন্তু বিয়ের খরচের ধাক্কা সামলে তা আর দিতে পারেনি পাত্রী পরিবার। দু’মাসের মধ্যেই পাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হল শ্বশুরবাড়িতে।
পরিবারের অভিযোগ, পণের দাবিতেই খুন করা হয়েছে মেয়েকে। পুরুলিয়ার গাড়াফুসড়ো গ্রামের ঘটনা। মৃতের নাম ইসরাত খাতুন (৩৫)।
ইসরাতের বাপের বাড়ি ঝাড়খণ্ডের বোকারো জেলার কাছে। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, রবিবার সকালে বাড়িতেই মৃত অবস্থায় উদ্ধার হয় তাঁর দেহ। গত ১৬ অক্টোবর গাড়াফুসড়ো গ্রামেরং দিলমজান আনসারির সঙ্গে বিয়ে হয় ইসরাতের। বিয়ের সময়ে তাঁর পরিবারের দাবি মতো, ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা, নগদ ও পাঁচ ভরি সোনার গয়না দিতে হয়। ইসরাতের পরিবার ভেবেছিলেন, দাবি মতো পণ দিয়েছিলেন, তাঁরা ভেবেছিলেন তাঁঁদের মেয়ে সুখে থাকবে।
বিয়ের এক মাস পর থেকেই ফের একটি বাইক দাবি করতে থাকেন দিলমজান আনসারি। সঙ্গে আরও অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা। সমস্যা শুরু হয় সেখান থেকেই। পরিবারের তরফ থেকে বলা হয়, সবেমাত্র বিয়েতে অনেক খরচ হয়েছে। সেই ধাক্কা সামলে কয়েকদিন পর আবার বাইক দেওয়া হবে।
কিন্তু অভিযোগ, ইসরাতের স্বামী তা মানতে চাননি। এরপর ইসরাতের ওপর শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার। বিভিন্ন ছুতোতে ইসরাতকে মারধর করা হত বলে অভিযোগ। ইসরাত পরিবারের সদস্যদের সেকথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু সবে বিয়ে হয়েছে, বিষয়টা আলোচনায় মিটে যাবে বলে ভেবেছিলেন ইসরাতের পরিবারের সদস্যরা।
মৃতার দাদার বয়ান অনুযায়ী, রবিবার সকালে তাঁরা খবর পান, তাঁর বোন অসুস্থ। বাড়িতে গিয়ে তাঁরা দেখেন, ইসরাত মৃত। শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধেই খুূনের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। থানায় এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকেই গ্রেফতার করা হয়নি।
ইসরাতের দাদা বলেন, “সোনা-গয়না সব দিলাম। তারপর আবার বাইক চাইল। আমি বলেছিলাম, গরিব মানুষ কীভাবে দেব। কাল আমাদের একটা ফোন করেছিল। বোনের সঙ্গে কথাও হয়েছিল। বোন বলল সব ঠিক আছে। তারপর আবার ফোন এসেছিল, তখনই শুনলাম।”