দেশের ই-কমার্স পেমেন্ট গেটওয়েগুলোতে আটকে থাকা অর্থ ছাড় করাতে বাংলাদেশ ব্যাংক চিঠি পাঠানো হয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। কিন্তু হালনাগাদ তথ্যের অভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রক্রিয়া থমকে আছে। এখন তথ্য জানাতে পুলিশ সদর দফতরে চিঠি পাঠাচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সেটি ব্যাংককে হস্তান্তর করলেই শুরু হবে টাকা প্রদানের প্রক্রিয়া।
জানা গেছে, ইভ্যালির কাছে আটকে থাকা টাকা কখন, কীভাবে গ্রাহকরা ফেরত পাবেন তার কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা হয়নি। হাইকোর্ট নির্ধারিত পরিচালনা পর্যদ এখন ইভ্যালির দায়দেনা ও আর্থিক চিত্র বোঝার চেষ্টা করছে।
মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ই-কমার্স খাতের কারিগরি কমিটি সভা হয়। সেই সভায় জানানো হয়েছে, বর্তমান পেমেন্ট গেটওয়েগুলোয় গ্রাহকদের প্রায় ২১৪ কোটি টাকা আটকে আছে।
ইভ্যালি কাণ্ডের পর চলতি বছরের পহেলা জুলাই থেকে সব লেনদেন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে করার নিয়ম করে সরকার। এর ফলে যারা কোনো পণ্য কিনেছেন, সেই টাকা পেমেন্ট গেটওয়েতে গিয়ে জমা হয়েছে। পণ্য সরবরাহ করার পর ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান মূল্য পাবে।
তবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাস নাগাদ ইভ্যালিসহ অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। সেসব প্রতিষ্ঠানের অর্থ এ পেমেন্ট গেটওয়েতে জমা রয়েছে। এর বাইরে ৩০শে জুন পর্যন্ত ইভ্যালিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে পণ্যের জন্য অগ্রিম জমা দেওয়া গ্রাহকদের ৩৮৭ কোটি টাকা আটকে রয়েছে।
ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝিতে পেমেন্ট গেটওয়েগুলোয় আটকে থাকা ২১৪ কোটি টাকা গ্রাহকদের হিসাবে ফেরত দিতে ব্যবস্থা নিতে চিঠি পাঠিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সেই চিঠিতে বলা হয়, যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো মামলা চলমান নেই, সেসব প্রতিষ্ঠানের নামে এসক্রো সার্ভিসে ভোক্তাদের আটকে থাকা অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পেমেন্ট গেটওয়েগুলোকে অর্থ ছাড়ের নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও ই-কমার্স খাতের কারিগরি কমিটির সমন্বয়ক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, ৩০শে জুনের পরে ই-কমার্স পেমেন্ট গেটওয়েতে যে টাকাগুলো আটকে ছিল, সেগুলো ফেরত দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংও নিয়েছি। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকে একটা চিঠিও পাঠিয়েছিলাম। বাংলাদেশ ব্যাংকও তাদের পেমেন্ট গেটওয়েকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এ বিষয় নিয়ে মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে ই-কমার্স প্রতারণা মামলাগুলোর তদন্তকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিরা ছিলেন। সিআইডি, এসবি, ডিবি, অন্যান্য সংস্থাও মামলাগুলোর তদন্ত করছে। এসব কারণে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কী মামলা রয়েছে, সেটা জানতে পুলিশ সদর দফতরে চিঠি পাঠানো হবে। এরপর যেসব প্রতিষ্ঠান নিয়ে মামলা নেই। সেসব প্রতিষ্ঠানের আটকে থাকা টাকা গ্রাহকদের কাছে ফেরত পাঠানো হবে। আর বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে আটকে থাকা টাকা ফেরতের জন্য গ্রাহকদের অপেক্ষা করতে হবে মামলার রায় হওয়া পর্যন্ত।
সফিকুজ্জামান বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে আমরা চেষ্টা করবো, আদালতের মাধ্যমে রায় এনে এসব টাকা যাতে দ্রুত গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া যায়। তবে সেখানে প্রতিটি ক্ষেত্রে (কেস টু কেস) হয়তো আলাদা আলাদা ব্যবস্থা নিতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা নেই, শুধু তাদের টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে সেই তালিকা চাওয়া হয়েছে। নগদ, বিকাশ, ফস্টার কর্পোরেশন, সাউথইস্ট ব্যাংক, সূর্যমুখী লিমিডেট, সফটওয়্যার শপ লিমিটেড-ইত্যাদি পেমেন্ট গেটওয়ের কাছে পহেলা জুলাই থেকে ই-কমার্স পণ্য কেনার ২১৪ কোটি টাকা আটকে আছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মেজবাউল হক বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আমাদের যে নির্দেশনা দিয়েছে, আমরা সেটা পেমেন্ট গেটওয়েগুলোকে বলেছি। কিন্তু কাদের বিরুদ্ধে মামলা নেই, সেই তথ্য তো আমাদের দিতে হবে। আমরা সেটা তাদের কাছে জানতে চেয়েছি। তারা সেই তথ্য জানালে আমরা ফেরত দেয়ার প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দেবো।
তিনি আরো বলেন, পরিষ্কার নির্দেশনা পেলে এ টাকা ফেরত দেওয়া খুব বেশি সময়ের কাজ নয়।