সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের স্ত্রী ডা. জাহানারা এহসানের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক নজর রাখছে পুলিশ। মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ডা. জাহানারা ধানমন্ডি থানায় একটি জিডি করেন।
জিডিতে উল্লেখ তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি (ডা. মুরাদ) কারণে অকারণে আমাকে এবং সন্তানদের অকথ্য ভাষায় গালাগালসহ শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন এবং হত্যার হুমকি প্রদান করছেন। বৃহস্পতিবার ০২:৪৫ ঘটিকার দিকে পূর্বের ন্যায় আমাকে এবং আমার সন্তানদের গালাগাল এবং মারধর করার জন্য উদ্ধত হলে আমি ৯৯৯-এ কল করি। ধানমন্ডি থানা পুলিশ বাসার ঠিকানায় পৌছলে তিনি বাসা থেকে বের হয়ে যান। আমি এমতাবস্থায় নিরাপত্তাহীনতায় আছি। বিবাদী আমাকে এবং আমার সন্তানদের যেকোনো সময়ে ক্ষতি সাধন করতে পারে।
এ অভিযোগের পর থেকে জাহানারা এহসানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে পুলিশ।
ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম আলী গণমাধ্যমকে জানান, তিনি (ড. জাহানারা) কোনো সমস্যা বোধ করলে যেন সঙ্গে সঙ্গে তাকে সাপোর্ট দেওয়া যায়, পুলিশের পক্ষ থেকে সে প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। উনি কোনো ধরনের সমস্যা বোধ করলে বা নিজেকে নিরাপত্তাহীন মনে করলে আমাদের জানাবেন, আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেব।
উল্লেখ্য, এক চিত্রনায়িকা’কে টেলিফোনে হুমকি আর অশালীন বক্তব্যের ভিডিও ফাঁস হলে গত ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করেন প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান। এরপর জামালপুর আওয়ামী লীগের পদ থেকেও তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
নানা নাটকীয়তার মধ্যে ৯ ডিসেম্বর রাতে কানাডার উদ্দেশে দেশ ছাড়েন মুরাদ। কিন্তু কানাডায় কিংবা আরব আমিরাতে ঢুকতে না পেরে দু’দিন পর তাকে ফের দেশে ফিরতে হয়।
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় যৌতুকের দাবিতে সুফিয়া খাতুন (৩২) নামে দুই সন্তানের জননীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তার স্বামীকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। দামুড়হুদা উপজেলার জুড়ানপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অপরদিকে সদর উপজেলার বলদিয়া গ্রামে ৯মাসের অন্তসত্ত্বা এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শুক্রবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ১৮ বছর আগে জুড়ানপুর গ্রামের মাদ্রাসাপাড়ার নিজাম উদ্দিনের ছেলে জাকিরুল ইসলামের সাথে একই গ্রামের মসজিদপাড়ার ইসলাম আলীর মেয়ে সুফিয়া খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে এক ছেলে ও এক মেয়েও রয়েছে। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবি করে আসছিল স্বামী জাকিরুল। মেয়ে পক্ষ কয়েকবার মোটা অঙ্কের টাকা দেয়ার পরও বারবার আরও টাকা দাবি করে সে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সুফিয়াকে আবারও মারধর করে সে। রাত আড়াইটার দিকে সুফিয়ার চিকিৎসার জন্য কবিরাজ নিয়ে আসে জাকিরুল। আজ সকালে সাবাই জানতে পারে সুফিয়া মারা গেছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, তার গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওই ঘটনায় আইনগত বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অপরদিকে, সদর উপজেলার বলদিয়া গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে ওমর ফারুক আশিকের সাথে দেড় বছর আগে বিয়ে হয় জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের মমিনের ছেলে মনিকা খাতুনের। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবীতে মারধর করে আসছিল স্বামী ও স্বামীর স্বজনরা। এরইমধ্যে মনিকা গর্ভবতী হয়। তবুও তার উপর নির্যাতন চলতে থাকে। এক পর্যায়ে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নিজ ঘরের ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায়।
মনিকার পরিবারের অভিযোগ, তাকে হত্যা করে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। পরে দর্শনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। দর্শনা থানার ওসি লুৎফুল কবীর জানান, ময়নাতদন্তের পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্টের পরই জানা যাবে এটি হত্যা না-কি আত্মহত্যা।