|
সাগর-রুনি হত্যার রহস্য উন্মোচনে দেরি কেন?
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() সাগর-রুনি হত্যার রহস্য উন্মোচনে দেরি কেন? প্রতিদিন খবরের পেছনে ছুটে বেড়ানো দুজন মানুষের খবরের শিরোনাম হয়ে যাওয়ার এক যুগ। সাংবাদিক দম্পতি সাগর রুনি একমাত্র সন্তান মেঘ ৫ থেকে এখন ১৭ বছরে। শান্ত স্বল্পভাষী মেঘের দিন কাটে পড়াশোনা, খেলাধুলা আর গ্রাফিক্স ডিজাইন করে। আর এসবে তার সঙ্গী মামা আর আদরের বিড়াল সিয়া। বাবা- মা হারানোর স্মৃতি হাতড়ে বেড়ায় সময়ে অসময়ে। গল্প গল্পে জানায় বাবা- মাকে মিস করার কথা আর ছোট বেলার শাসন-বারণ। মেঘ বলে, ‘লিখতে গিয়ে ভুল করলে পিঠে মারতো। আবার পড়া শেষ করলে আদর করে খাইয়ে দিতো। এগুলো খুব মিস করি।’ দীর্ঘ ১২ বছরে এই হত্যা মামলার তদন্ত নিয়ে নাটকীয়তার কমতি নেই। ৪৮ ঘণ্টায় তদন্ত শেষ করার আশ্বাস দিয়েছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কিন্তু সেই ৪৮ ঘণ্টার হিসাব মেলাতে পারেনি কোনো তদন্তকারী সংস্থাই। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে গাফিলতি দেখছেন সাগর- রুনির স্বজনরা। রুনির ভাই নওশের আলম বলেন, মনে হচ্ছে তদন্তকারী সংস্থা এই মামলা নিয়ে কোনো তদন্তই করছে না। তাদের কোনো আগ্রহই দেখছি না। গত ১২ বছরে র্যাবের তো অনেক তৎপরতাই দেখলাম। কিন্তু এই একটা মামলা নিয়ে তাদের ন্যূনতম অগ্রগতি নেই কেন? গত এক যুগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরিবর্তন হয়েছে তিনবার। এই সময় একাধিক সংস্থার হাত বদলে আদালত থেকে তদন্ত কর্মকর্তারা সময় নিয়েছেন ১০৫ বার। বর্তমানে মামলার তদন্ত করছে র্যাব। তবে বছরের পর বছরেও দাখিল হয়নি প্রতিবেদন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবদুল্লাহ আবু বলেন,তাড়াতাড়ি তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বার বার নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনো ক্লু না পাওয়ায় তদন্ত শেষ করা যাচ্ছে না। এ কারণেই তারা সময় নিচ্ছে। তদন্ত সংস্থা আরও আছে। এখানে তো পলিসির ব্যাপার। অন্য কোনো তদন্ত সংস্থার কাছে হস্তান্তর করবে কিনা সেটা সরকার থেকে সিদ্ধান্ত চাইলে দিতে পারে। এরইমধ্যে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের এক কথায় তদন্ত নিয়ে হতাশা বাড়ে সাগর-রুনির পরিবারসহ সাংবাদিক সমাজের। তিনি বলেছিলেন, দোষী নির্ণয় করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যদি ৫০ বছরও লাগে তা দিতে হবে। যদিও পরে তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ৫০ বছর কথাটি তিনি আপেক্ষিকভাবে বলেছেন। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় এই সাংবাদিক দম্পতি নৃশংসভাবে খুন হন। সাগর মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক ছিলেন। রুনি ছিলেন এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক। সাগর-রুনি হত্যার ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
