|
অপারেশনের আগে রোগী অথবা অভিভাবকের সম্মতি কেন প্রয়োজন
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() অপারেশনের আগে রোগী অথবা অভিভাবকের সম্মতি কেন প্রয়োজন সম্মতি দেওয়ার আগে রোগীকে অবশ্যই অস্ত্রোপচারের পদ্ধতি, অপারেশন চলাকালীন কী কী হতে পারে, অপারেশন পরবর্তী ঝুঁকি, পাশ্বপ্রতিক্রিয়া অপারেশনের সুবিধা/বেনিফিট, বিকল্প চিকিৎসা এবং সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে। অজ্ঞানবিদের সঙ্গে অবশ্যই পরিচয় করিয়ে দেওয়া উচিত। চিকিৎসা না নিতে চাওয়ার অধিকার রোগীর রয়েছে। অনেকেই ভাবেন সম্মতি মানেই একটি ফরমে স্বাক্ষর-কিন্তু বাস্তবে এটি একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে রোগী তার চিকিৎসা সম্পর্কে পূর্ণ সচেতনতা অর্জন করে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এটি চিকিৎসকের প্রতি আস্থা, রোগীর অধিকার এবং নৈতিক দায়বদ্ধতার সম্মিলিত প্রতিচ্ছবি। * চিকিৎসার ক্ষেত্রে সম্মতি গ্রহণের মূলভিত্তি তিনটি ▶ তথ্য প্রদান-প্রয়োজনীয় সব তথ্য স্পষ্টভাবে রোগীকে জানানো। ▶ বোঝার সক্ষমতা-রোগী তা বুঝেছে কি না তা যাচাই করা। ▶ স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি-কোনো প্রকার চাপে নয়। নিজের ইচ্ছায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ। * এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ রোগীর সম্মতি গ্রহণ চিকিৎসার নৈতিকতা ও পেশাগত দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ- ▶ এটি রোগীর অধিকার রক্ষা করে। ▶ চিকিৎসায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে। ▶ চিকিৎসকের প্রতি রোগীর আস্থা তৈরি করে। ▶ আইনি জটিলতা প্রতিরোধে সহায়ক হয়। ▶ মানসিক প্রস্তুতির সুযোগ দেয়, যা সুস্থ হওয়ার পথে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। * সম্মতি না নেওয়া হলে কী হতে পারে ▶ রোগী চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে বিভ্রান্ত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়তে পারেন। ▶ কোনো জটিলতা হলে চিকিৎসক আইনি বিপদে পড়তে পারেন। ▶ চিকিৎসা পদ্ধতির ওপর রোগীর আস্থা নষ্ট হতে পারে। ▶ নৈতিকতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা থাকে। * সম্মতি গ্রহণের সময় কী বিষয় নিশ্চিত করতে হবে ▶ চিকিৎসার উদ্দেশ্য ও ধাপগুলো সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা। এনেসথেসিয়া সম্পর্কে ধারণা দেওয়া। ▶ সম্ভাব্য ঝুঁকি ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করা। ▶ বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি উল্লেখ করা। ▶ রোগীকে প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া। ▶ রোগী তা বুঝেছেন কিনা নিশ্চিত হওয়া। ▶ লিখিত সম্মতিপত্রে রোগী (বা অভিভাবকের) স্বাক্ষর রাখা। * বিশেষ পরিস্থিতিতে সম্মতি কেমন হওয়া উচিত ▶ শিশু রোগীর ক্ষেত্রে: পিতা-মাতা বা অভিভাবকের সম্মতি প্রয়োজন। ▶ অজ্ঞান বা মানসিকভাবে অক্ষম রোগী: আইনগত অভিভাবকের মাধ্যমে সম্মতি নিতে হয়। ▶ জরুরি অবস্থা : জীবনরক্ষায় অবিলম্বে চিকিৎসা দেওয়া যায়, তবে পরবর্তী সময় তা ডকুমেন্ট করতে হয়। রোগীর সম্মতি গ্রহণ কেবল নিয়ম রক্ষার বিষয় নয়-এটি রোগীর ওপর চিকিৎসকের সম্মানবোধ ও দায়বদ্ধতার প্রতীক। একজন সচেতন রোগী এবং আন্তরিক চিকিৎসকের যৌথ অংশগ্রহণেই চিকিৎসার সর্বোচ্চ মান অর্জন সম্ভব। চিকিৎসকরা সবসময় চেষ্টা করে থাকেন রোগীদের বুঝিয়ে বলার, সময় দেওয়ার এবং তাদের আত্মবিশ্বাসের জায়গা তৈরি করার। শল্য চিকিৎসার সময় সম্মতির জন্য স্বাক্ষর দেওয়ার আগে রোগী এবং রোগীর স্বজনদের উচিত সব কিছু জেনে এবং বুঝে নেওয়া। লেখক : আবাসিক সার্জন (ই.এন.টি), সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
আলফাডাঙ্গায় ২৮ জুন ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন: সফল করতে প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন
সেনাবাহিনীর উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
স্মার্টফোন বিস্ফোরণে আতঙ্ক, টঙ্গীতে ভিভো ফোনে অল্পের জন্য রক্ষা পেল পরিবার
সাতক্ষীরায় রাফাতের মৃত্যুর ঘটনার সঠিক তদন্ত পূর্বক দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে মানববন্ধন
