|
খালেদা জিয়ার অবস্থা অপরিবর্তিত, জুবাইদা আবার হাসপাতালে
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() খালেদা জিয়ার অবস্থা অপরিবর্তিত, জুবাইদা আবার হাসপাতালে বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন জানান, “ভাবী ধানমন্ডিতে মায়ের সঙ্গে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে আবার এভারকেয়ার হাসপাতালে ম্যাডামের কাছে যান।” তিনি আরও বলেন, জুবাইদা ঢাকায় নামার পরপরই সরাসরি হাসপাতালে গিয়েছিলেন শাশুড়ির শয্যাপাশে। চিকিৎসকরা জানান, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের মতোই রয়েছে। কোনো দিকেই উল্লেখযোগ্য উন্নতি বা অবনতি নেই। গত ২৩ নভেম্বর থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন। এদিকে, তাকে বিদেশে নিতে বিমানবন্দরে প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হলেও বিশেষায়িত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে কারিগরি ত্রুটির কারণে শুক্রবার সকালেই লন্ডন নেওয়ার পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। কাতার সরকারের ব্যবস্থাপনায় আরেকটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স জার্মানি থেকে ভাড়া করে ঢাকায় পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানোর পর এবং শারীরিক অবস্থা অনুকূল থাকলে মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। বিএনপির এক শীর্ষ নেতা জানান, বৃহস্পতিবার মেডিকেল বোর্ড বিদেশে নেওয়ার অনুমতি দিলেও রাতে খালেদা জিয়ার অবস্থার কিছুটা অবনতি ঘটে। ফলে যাত্রা পিছিয়ে যায়। এ কারণেই আরও সতর্কতার সঙ্গে নতুন প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পেশায় চিকিৎসক জুবাইদা রহমান খালেদা জিয়ার চিকিৎসাবিষয়ক সিদ্ধান্তগুলোতে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত রয়েছেন। দেশে পৌঁছানোর পর থেকে তিনি হাসপাতালের আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করছেন। সিসিইউতে কয়েক দফা সময় কাটানোর পাশাপাশি তিনি মেডিকেল বোর্ডের সদস্যদের কাছ থেকে সর্বশেষ তথ্য নেন। দুপুর এবং সন্ধ্যায় মেডিকেল বোর্ডের দুই দফা বৈঠকে খালেদা জিয়ার সাম্প্রতিক সব রিপোর্ট পর্যালোচনা করা হয়। তবে অবস্থার কোনো পরিবর্তন নেই বলে জানানো হয়েছে। ব্যক্তিগত চিকিৎসক এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, “কিছু পরীক্ষা করা হচ্ছে। বোর্ডের সিদ্ধান্ত ছাড়া কিছু বলা যাবে না।” এভারকেয়ার হাসপাতাল ও বিএনপি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের একাধিক সূত্র জানায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অবস্থা ‘ক্রিটিক্যাল’। সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হলেও চিকিৎসার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার জন্য জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। বিদেশে নেওয়ার বিষয়টি তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, পরিবারের সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগে আছেন। ধানমন্ডির পারিবারিক বাসা মাহবুব ভবনে মায়ের সঙ্গে দেখা করার পর জুবাইদা আবার রাতেই হাসপাতালে ফেরেন—যা পরিবারের উৎকণ্ঠারই বহিঃপ্রকাশ। এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানো এবং মেডিকেল বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত—এই দুই বিষয়েই এখন নির্ভর করছে খালেদা জিয়ার বিদেশ যাত্রা। পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে আছে বিএনপি, পরিবার ও সমর্থকরা।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
