ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩
অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণে বাড়তে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি, মেনে চলুন সতর্কতা
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Sunday, 25 January, 2026, 6:40 PM

অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণে বাড়তে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি, মেনে চলুন সতর্কতা

অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণে বাড়তে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি, মেনে চলুন সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন খাদ্য নির্দেশিকা খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের গুরুত্ব বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রসহ ফেডারেল কর্মকর্তারা প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ উভয় ধরনের প্রোটিন গ্রহণে উৎসাহিত করছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

মায়ো ক্লিনিকের সুপারিশ অনুসারে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা শরীরের ওজনের ভিত্তিতে প্রতি কেজিতে ০.৮ গ্রাম বা প্রতি পাউন্ডে ০.৩৬ গ্রাম হওয়া উচিত। অথচ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বেশির ভাগ আমেরিকান প্রতিদিন তাদের প্রয়োজনের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ বেশি প্রোটিন গ্রহণ করছেন।

হিউস্টন মেথডিস্ট হাসপাতালের নিবন্ধিত পুষ্টিবিদ নুবিয়ান গ্যাটলিন বলেন, ‘শরীরের প্রতি পাউন্ডে এক গ্রাম প্রোটিন গ্রহণের ধারণাটি অনেক ক্ষেত্রেই অতিরঞ্জিত।’ তিনি আরো বলেন, ‘এত বেশি প্রোটিন গ্রহণ করলে কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা ও পেটব্যথার মতো সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।’

তিনি আরো উল্লেখ করেন, নিয়মিত ব্যায়াম করা ব্যক্তি বা ক্রীড়াবিদদের জন্য সাধারণত এত বেশি প্রোটিনের প্রয়োজন নেই। মায়ো ক্লিনিক অনুযায়ী, শারীরিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তিদের জন্য দৈনিক শরীরের প্রতি কেজিতে ১.১ থেকে ১.৫ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ যথেষ্ট।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণের ফলে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো হজমজনিত সমস্যা। মাংস ও অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার হজম করতে শরীরকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়, যার ফলে ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা এবং পেটব্যথা হতে পারে।

এ ছাড়া, অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ কিটো ব্রেথ নামক একটি সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। কিটোসিস অবস্থায় শরীর শক্তির জন্য গ্লুকোজের বদলে চর্বি পোড়াতে শুরু করে, ফলে অ্যাসিটোন তৈরি হয়, যার ফলে নিঃশ্বাসে ফলের মতো বা নেইল পলিশের মতো গন্ধ আসতে পারে।

হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্যও অতিরিক্ত প্রোটিন ক্ষতিকর হতে পারে, বিশেষত যদি খাদ্যতালিকায় লাল মাংস ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বাড়ে। এতে ধমনীতে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল জমে, যা হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো ফেনাযুক্ত প্রস্রাব। অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণের ফলে প্রস্রাবে বিয়ারের ফেনার মতো বুদবুদ দেখা দিতে পারে, যা কিডনি সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। 

নর্থওয়েস্টার্ন মেডিসিনের কিডনি বিশেষজ্ঞ ডা. সিবেল ঘোসেইন বলেন, কিডনির কাজ হলো প্রোটিন শরীরে ধরে রাখা। যদি প্রোটিন প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যায়, তবে এটি ইঙ্গিত দেয় যে কিডনি সঠিকভাবে কাজ করছে না। চিকিৎসকরা বলেন, সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রেখে শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রোটিন গ্রহণই সুস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পন্থা।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status