|
নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য: ডিসি জাহিদুল
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য: ডিসি জাহিদুল সোমবার (২৬ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার কবি আব্দুল হাকিম পাবলিক অডিটোরিয়ামে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ধরনের আশঙ্কা, চাপ বা হুমকি অনুভব করলে তা সঙ্গে সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। প্রয়োজন হলে প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। তবে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। জেলা প্রশাসক বলেন, ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যারা দেশকে স্বাধীন করেছেন, তারা যদি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তাহলে বর্তমান প্রজন্মের কর্মকর্তারাও পারবেন। দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিতে হবে, অন্যের ওপর চাপানোর সুযোগ নেই। দায়িত্ব পালনে সাহস, সততা ও আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। সন্দ্বীপে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড দায়িত্ব পালন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্বীপাঞ্চলের মানুষ যেন নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারে এটাই প্রশাসনের সাফল্যের মূল মানদণ্ড। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনে কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, এবারের নির্বাচন সেই হারানো ঐতিহ্য ও গৌরব পুনরুদ্ধারের বড় সুযোগ। দীর্ঘদিন ধরে অনেক নাগরিক ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। এই নির্বাচন শুধু একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি দেশ-বিদেশে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। তিনি আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা আইনের মধ্যে থেকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন—এই নির্বাচন সেটি প্রমাণ করার সুযোগ। সারাজীবন রাষ্ট্রের কাছ থেকে নানা সুযোগ-সুবিধা নেওয়া হয়েছে, এবার রাষ্ট্রকে কিছু দেওয়ার সময় এসেছে। এমনভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে, যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের দায়িত্ববোধ ও সততার কথা স্মরণ করে। দলীয় আনুগত্য প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, ব্যক্তিগতভাবে কারও রাজনৈতিক মত থাকতে পারে, তবে দায়িত্ব পালনকালে তা প্রকাশ করা যাবে না। দায়িত্ব গ্রহণের পর শুধু রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যই দেখাতে হবে। নির্বাচনকালীন সময়ে নিরপেক্ষতা বজায় রাখাই একজন সরকারি কর্মকর্তার প্রধান দায়িত্ব। সভায় তিনি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের শতভাগ নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। একই সঙ্গে গণভোট বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ধারণা নিয়ে ভোটারদের সব প্রশ্নের সঠিক ও স্পষ্ট উত্তর দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমদ খান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমেদ এবং জেলা আনসার কমান্ড্যান্ট মোহাম্মদ মোস্তাক আহমেদ। সভায় সভাপতিত্ব করেন সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমা। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাচন অফিস। সভা শেষে নির্বাচনকালীন সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পুলিশ, আনসার, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে একটি যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। মহড়ায় নির্বাচনকেন্দ্রের নিরাপত্তা, দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা এবং বিভিন্ন বাহিনীর পারস্পরিক সমন্বয় জোরদারের বিষয়গুলো প্রদর্শন করা হয়।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
