ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটরের আড়ালে আন্তর্জাতিক হুন্ডি: ২২ হাজার কোটি টাকা পাচার
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Tuesday, 27 January, 2026, 1:39 PM

বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটরের আড়ালে আন্তর্জাতিক হুন্ডি: ২২ হাজার কোটি টাকা পাচার

বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটরের আড়ালে আন্তর্জাতিক হুন্ডি: ২২ হাজার কোটি টাকা পাচার

দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান বিকাশের ডিস্ট্রিবিউটরশিপ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক হুন্ডি ও অর্থপাচারের একটি সুসংগঠিত চক্র গড়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, জেন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড নামের একটি ডিস্ট্রিবিউটরের মাধ্যমে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন সংঘটিত হয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিএফআইইউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেন ইন্টারন্যাশনাল বিকাশের আঞ্চলিক ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে দেশের ১২ থেকে ১৪টি অঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন অন্তত ১১৮টি বিকাশ এজেন্টের লেনদেন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রতিদিন রাত ১২টার পর থেকে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত অস্বাভাবিক হারে ক্যাশ-ইন ও ক্যাশ-আউট হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতি তিন মিনিট পরপর বড় অঙ্কের লেনদেন সংঘটিত হয়েছে, যা সাধারণ গ্রাহকসেবা বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

গোয়েন্দা সংস্থার বিশ্লেষণে চারটি ঝুঁকিপূর্ণ নির্দেশক ব্যবহার করা হয় উচ্চমাত্রার ক্যাশ-ইন, প্রতি মিনিটে তিনবার বা তার বেশি লেনদেন, রাত ১২টা থেকে ভোর পাঁচটার মধ্যে সংঘটিত লেনদেন এবং ১৫ হাজার টাকা বা তার বেশি অঙ্কের ঘন ঘন লেনদেন। এসব নির্দেশকের আলোকে ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরের লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা যায়, জেন ইন্টারন্যাশনালের আওতাধীন বহু এজেন্টের কার্যক্রম হুন্ডিভিত্তিক অর্থপ্রবাহের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিল রয়েছে।

বিএফআইইউ তাদের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠিয়েছে। সিআইডির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলেও জানান তারা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেন ইন্টারন্যাশনাল ২০১৩ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে আমদানি-রপ্তানি, বিতরণ ও সরবরাহ ক্যাটাগরিতে ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করে। লাইসেন্সে মালিক হিসেবে মো. আবদুল কাইউম তসলিমের নাম থাকলেও প্রকৃত সুবিধাভোগী বা বেনিফিসিয়ারি ওনার হিসেবে মালয়েশিয়ান নাগরিক ডা. সিরাজুদ্দিন বিন বদরুদ্দিন ও মহসিন বিন বদরুদ্দিনের নাম উঠে এসেছে। তারা প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জেন ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে সম্পৃক্ত আরও ছয়টি প্রতিষ্ঠান একই ধরনের কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স বাংলাদেশি নাগরিকদের নামে হলেও চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন ওই দুই মালয়েশিয়ান নাগরিক। এ পদ্ধতিকে প্রকৃত মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ আড়াল করার কৌশল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

ব্যাংকিং লেনদেন বিশ্লেষণেও ব্যাপক অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে। সিরাজুদ্দিন ও মহসিন এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে দেশের বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকে ১৩৩টি হিসাবের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২০১২ থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে অন্তত ৪৩টি হিসাব বিশ্লেষণ করে প্রায় ২১ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা জমা ও প্রায় সমপরিমাণ অর্থ উত্তোলনের নজির পাওয়া যায়। জমা ও উত্তোলনের অঙ্ক প্রায় সমান হওয়ায় রাউন্ড ট্রিপিং বা সমন্বিত অর্থপ্রবাহের আলামত থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া জেন ইন্টারন্যাশনালের বড় অংশের শেয়ার মালিকানা ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসে নিবন্ধিত জেটলাইট ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের হাতে রয়েছে। আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সংগঠন আইসিআইজের পানামা পেপারস–সংক্রান্ত তথ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে সম্ভাব্য শেল কোম্পানি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিএফআইইউর মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বিকাশের মতো বৃহৎ এমএফএস নেটওয়ার্কে এ ধরনের সন্দেহজনক ডিস্ট্রিবিউটর ও এজেন্ট পর্যায়ের কার্যক্রম শুধু অর্থপাচারের ঝুঁকিই নয়, বরং দেশের সামগ্রিক আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে। ডিস্ট্রিবিউটর নির্বাচন, বেনিফিসিয়ারি ওনারশিপ যাচাই এবং এজেন্ট পর্যায়ের নজরদারি আরও কঠোর করার সুপারিশও করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

এ বিষয়ে বিকাশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status