|
বিজ্ঞাপনের আড়ালে কমিশন সিন্ডিকেট! স্বপ্নে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() বিজ্ঞাপনের আড়ালে কমিশন সিন্ডিকেট! স্বপ্নে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অভিযোগ থেকে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানের পাবলিক রিলেশন (পিআর) বিভাগের ম্যানেজার কামরুজ্জামান মিলুকে ঘিরেই এই কমিশনভিত্তিক সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। বিজ্ঞাপন প্রকাশের কাজ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও এজেন্সিকে দেওয়ার সময় বিল অনুমোদনের শর্ত হিসেবে অগ্রিম কমিশন দাবি করা হতো। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে একটি নিয়মিত চাঁদাবাজির রূপ নেয়, যেখানে বিজ্ঞাপন কাজ পাওয়ার পাশাপাশি বিল ছাড় করানোর ক্ষেত্রেও কমিশন দিতে বাধ্য করা হতো। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন পত্রিকা, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞাপন দেওয়ার পর বিল পাস করাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমিশন দাবি করা হতো। অভিযোগ রয়েছে, বিজ্ঞাপনের মোট বিলের প্রায় ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অগ্রিম কমিশন দিতে বলা হতো। অনেক ক্ষেত্রে এই অর্থ আগে পরিশোধ না করলে বিল দীর্ঘদিন আটকে রাখা হতো বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। একাধিক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পাওয়া যেত না। বরং বিল ছাড় করাতে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হতো। বাধ্য হয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান এই অনৈতিক শর্ত মেনে নিত। তাদের দাবি, এই পরিস্থিতি কার্যত চাঁদাবাজির মতো হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ভুক্তভোগীদের দাবি, এসব আর্থিক লেনদেন অনেক সময় অফিসের ভেতরেই প্রকাশ্যে আলোচনা হতো। কেউ কমিশন দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি তুললে তাকে জানানো হতো যে, এই অর্থ কেবল একজনের জন্য নয়; বরং প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ের কিছু কর্মকর্তাকেও এর অংশ দিতে হয়। এক ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিল অনুমোদনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয় এবং সেই কারণেই কমিশনের টাকা বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে বণ্টন করা হয় বলে দাবি করা হতো। ফলে কমিশন না দিলে বিল অনুমোদনের প্রক্রিয়া আটকে থাকার ঝুঁকি তৈরি হতো। আরও অভিযোগ রয়েছে, বিজ্ঞাপন বাজেট ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাবকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই কমিশন বাণিজ্য চলেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের সুনামকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে এমন অনিয়ম করায় করপোরেট খাতের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে অভিযোগ সামনে আসার পর করপোরেট সুশাসন ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন কার্যক্রমকে ঘিরে এ ধরনের কমিশন বাণিজ্য চলতে থাকলে তা শুধু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিই ক্ষুণ্ন করে না, বরং গণমাধ্যম ও করপোরেট খাতের সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনো Shwapno - এর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
