|
স্বপ্নের ডাটাবেজ হ্যাক: ঝুঁকিতে ৪০ লাখ গ্রাহকের তথ্য, মুক্তিপণ দাবি ১৫ লাখ ডলার
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() স্বপ্নের ডাটাবেজ হ্যাক: ঝুঁকিতে ৪০ লাখ গ্রাহকের তথ্য, মুক্তিপণ দাবি ১৫ লাখ ডলার সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রাহকদের নাম, মোবাইল নম্বর এবং কেনাকাটার বিস্তারিত তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ফাঁস হওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এতে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত পরিচয় এবং তাদের কেনাকাটার ইতিহাস (পারচেজ হিস্ট্রি) উন্মুক্ত হয়ে গেছে, যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্বপ্নের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির গণমাধ্যমকে জানান, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে হ্যাকাররা তাদের ওয়েবসাইট ও ডাটাবেজের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে কিছুটা সময় লেগেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বর্তমানে স্বপ্নের নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা ৪০ লাখের বেশি এবং সারা দেশের ৬৩টি জেলায় প্রতিষ্ঠানটির ৮১২টি আউটলেট রয়েছে। স্বপ্নের এক গ্রাহক জানান, ফাঁস হওয়া ডাটাবেজে তিনি তার স্ত্রীর ফোন নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করে সহজেই তার নাম, কেনাকাটার তারিখ ও পণ্যের বিস্তারিত তথ্য দেখতে পেয়েছেন। তিনি বলেন, এটি আর কেবল সম্ভাব্য ঝুঁকি নয়, বরং আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য এখন সবার জন্য উন্মুক্ত হয়ে গেছে। স্বপ্ন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি সাইবার ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় ঘটনার তদন্ত করছে। পাশাপাশি পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (CTTC) ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে। তবে তিন মাস আগে হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটলেও এতদিন পরে বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। এ প্রসঙ্গে সাব্বির হাসান নাসির বলেন, আমরা কোনোভাবেই হ্যাকারদের অনৈতিক দাবির কাছে নতি স্বীকার করব না। যখন আমরা জানিয়ে দিই যে মুক্তিপণ দেওয়া হবে না, তখন তারা আমাদের হুমকি দিতে শুরু করে। যদিও প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে যে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তবুও এখন পর্যন্ত গ্রাহকদের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ডাটাবেজ ফাঁসের ঘটনা ভবিষ্যতে পরিচয় চুরি, প্রতারণা ও আর্থিক জালিয়াতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা এবং গ্রাহকদের তথ্য সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে স্বপ্ন কর্তৃপক্ষ। তবে গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রতিষ্ঠানটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
