|
রাজারহাটে প্রথমবার পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনে কৃষকের সাফল্যে: নতুন দিগন্তের সম্ভাবনা
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() রাজারহাটে প্রথমবার পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনে কৃষকের সাফল্যে: নতুন দিগন্তের সম্ভাবনা শুক্রবার(১০এপ্রিল) উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছাটমাধাই গ্রামের কৃষক রাসেল আহমেদের পেঁয়াজ ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষেতজুড়ে সবল ও সুস্থ গাছের সমারোহ। গত ডিসেম্বর মাসে প্রায় ৬০ শতক জমিতে তিনি পেঁয়াজের আবাদ শুরু করেন। বর্তমানে প্রতিদিন ১০-১২ জন নারী-পুরুষ শ্রমিক সেখানে কাজ করছেন। ইতোমধ্যে এপ্রিল মাসের শুরুতেই কিছু বীজ সংগ্রহ শুরু হয়েছে। তবে মাসের মাঝামাঝিতে পূর্ণাঙ্গভাবে বীজ সংগ্রহ করা হবে বলে জানিয়েছেন কৃষক। এই উদ্যোগ শুধু রাসেল আহমেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং স্থানীয় শ্রমজীবী মানুষের জন্যও আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত আয় করে অনেকেই স্বাবলম্বী হওয়ার পথে এগোচ্ছেন। এতে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পেঁয়াজ চাষি রাসেল আহমেদ বলেন, “এতদিন ধান ও আলু চাষের ওপর নির্ভরশীল ছিলাম। কিন্তু ধারাবাহিক লোকসানের কারণে বিকল্প কিছু করার চিন্তা করি। সেই থেকে সাহস নিয়ে পলিক্রস জাতের পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন শুরু করি। প্রথমে শখের বসে শুরু করলেও ভবিষ্যতে বড় পরিসরে করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো লাভের আশা করছি।” রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সামছুন্নাহার সাথী জানান, কুড়িগ্রাম জেলায় এবারই প্রথম পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন শুরু হয়েছে। আগে এই বীজ ফরিদপুরসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করতে হতো। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন বাড়লে খরচ কমবে এবং কৃষকরা বেশি লাভবান হবেন। এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, পেঁয়াজ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল এবং কুড়িগ্রামের আবহাওয়া এ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আগ্রহী কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ সফল হলে রাজারহাট সহ পুরো কুড়িগ্রাম জেলায় পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
