ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ৫ বৈশাখ ১৪৩৩
কুড়িগ্রামে মাছের আঁশে নতুন সম্ভাবনা, বিদেশে রপ্তানিতে বাড়ছে আয়
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Saturday, 11 April, 2026, 5:38 PM

কুড়িগ্রামে মাছের আঁশে নতুন সম্ভাবনা, বিদেশে রপ্তানিতে বাড়ছে আয়

কুড়িগ্রামে মাছের আঁশে নতুন সম্ভাবনা, বিদেশে রপ্তানিতে বাড়ছে আয়

কুড়িগ্রামে একসময় ফেলে দেওয়া মাছের আঁশ এখন হয়ে উঠেছে মূল্যবান রপ্তানিপণ্য। পরিবেশ দূষণ কমানোর পাশাপাশি এই আঁশ সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে সৃষ্টি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান এবং বাড়ছে স্থানীয় মানুষের আয়।

জানা গেছে, রুই, কাতলা, মৃগেল, কার্প ও ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের আঁশ বর্তমানে ব্যাপক চাহিদাসম্পন্ন। আগে এসব আঁশ বাজারেই ফেলে দেওয়া হতো। তবে এখন সেগুলো সংগ্রহ করে ধুয়ে, শুকিয়ে বিক্রিযোগ্য করা হচ্ছে। বছরে দুই থেকে তিনবার এসব শুকনা আঁশ পাইকারদের কাছে বিক্রি করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি মণ কাঁচা আঁশ সংগ্রহে খরচ হয় মাত্র ২০–২৫ টাকা। শুকানোর পর এক মণ আঁশ থেকে প্রায় ১ কেজি শুকনা আঁশ পাওয়া যায়, যা কেজি প্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়। ফলে স্বল্প খরচে ভালো মুনাফা অর্জন করছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

রাজারহাট উপজেলার মাছ ব্যবসায়ী সুনীল চন্দ্র ও দীলিপ কুমার জানান, আগে মাছের আঁশ ফেলে দিতেন। কিন্তু প্রশিক্ষণ পাওয়ার পর এখন নিয়মিত আঁশ সংগ্রহ করে শুকিয়ে বিক্রি করছেন, যা তাদের বাড়তি আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে।

একই উপজেলার দুলু চন্দ্র দাস বলেন, প্রতি মাসে ২০–৩০ কেজি পর্যন্ত আঁশ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। বছরে কয়েক দফায় এসব আঁশ বিক্রি করে ভালো লাভ পাওয়া যাচ্ছে। শুধু আঁশ নয়, মাছের নাড়িভুঁড়ি, ফুলকা, মাথা ও অন্যান্য অংশও এখন বিক্রিযোগ্য পণ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

মাছ কাটার শ্রমিক সজিব জানান, আগে এসব আঁশ ফেলে দেওয়া হলেও এখন সেগুলো বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় করা যাচ্ছে, যা তাদের জীবিকায় ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, মাছের আঁশে প্রচুর পরিমাণে কোলাজেন থাকে, যা ওষুধ, কসমেটিকস, ফুড সাপ্লিমেন্ট, ক্যাপসুলের খোসা এবং বিভিন্ন শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত হয়। এছাড়া আধুনিক প্রযুক্তিতে ব্যাটারি, কৃত্রিম কর্নিয়া এবং বায়ো-ন্যানো জেনারেটর তৈরিতেও এর ব্যবহার বাড়ছে।

আরডিআরএস বাংলাদেশ-এর এগ্রিকালচার বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার মশিউর রহমান জানান, সংস্থাটির সহায়তায় গত দুই বছর ধরে জেলার কয়েকজন মৎস্যজীবীকে প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মাধ্যমে সংগৃহীত আঁশ পাইকারদের মাধ্যমে বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এই কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
রাজারহাট উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: এমদাদুল হক বলেন, মাছের আঁশ এখন আন্তর্জাতিক বাজারে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব এই খাত ভবিষ্যতে ক্ষুদ্র শিল্প থেকে মাঝারি শিল্পে রূপ নিতে পারে।

সবমিলিয়ে, একসময় অবহেলিত মাছের আঁশ এখন কুড়িগ্রামে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে। স্থানীয়দের উদ্যোগ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এটি ক্রমেই লাভজনক খাতে পরিণত হচ্ছে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status