|
জ্বর কমাতে ঠান্ডা পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে দেন? উপকারের বদলে বাড়তে পারে বিপদ
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() জ্বর কমাতে ঠান্ডা পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে দেন? উপকারের বদলে বাড়তে পারে বিপদ চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে জ্বর একটি স্বাভাবিক প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া—শরীর কোনো সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এই সময় শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, এবং সেই তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, হাইপথেলেমাস। তাই জ্বর কমানোর পদ্ধতি এমন হওয়া দরকার, যাতে শরীরের স্বাভাবিক তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উপর বাড়তি চাপ না পড়ে। সমস্যা শুরু হয় যখন ঠান্ডা জল ব্যবহার করা হয়। বরফশীতল জল শরীরে লাগলে হঠাৎ তাপমাত্রার বড় পার্থক্য তৈরি হয়। এতে ত্বকের নিচের রক্তনালিগুলো সংকুচিত হয়ে যায়। ফলাফল—শরীর বাইরের ঠান্ডার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শুরু করে এবং ভেতরে আরও বেশি তাপ উৎপন্ন করে। এর ফলে জ্বর কমার বদলে আবার বাড়তে পারে।এই কারণেই ঠান্ডা জল ব্যবহার করলে অনেক সময় রোগীর কাঁপুনি শুরু হয়। শরীর তখন নিজেকে গরম রাখার চেষ্টা করছে। সেই কাঁপুনি শুধু অস্বস্তিকর নয়, বরং শরীরের শক্তিও ক্ষয় করে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এই প্রতিক্রিয়া আরও দ্রুত এবং তীব্র হতে পারে। এর বিপরীতে, ঘরের তাপমাত্রার জল বা ঈষদুষ্ণ জল শরীরের সঙ্গে একটি ভারসাম্য তৈরি করে। যখন এই ধরনের জল দিয়ে স্পঞ্জিং করা হয়, তখন ত্বকের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তাপ বের হয়ে যায়। শরীর হঠাৎ ধাক্কা খায় না, বরং স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হয়। এই পদ্ধতিই চিকিৎসকেরা বেশি পরামর্শ দেন, বিশেষ করে যখন জ্বর ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের উপরে উঠে যায়। স্পঞ্জিং বা জলপট্টি একটি কার্যকর ঘরোয়া পদ্ধতি, তবে এরও সঠিক নিয়ম আছে। একটি ভেজা কাপড় দিয়ে মাথা থেকে পা পর্যন্ত ধীরে ধীরে মুছিয়ে দেওয়া উচিত, এবং অন্তত ১০ মিনিট সময় দেওয়া দরকার। তবে যদি রোগী কাঁপতে শুরু করেন, সঙ্গে সঙ্গে এই প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে। কারণ সেটিই ইঙ্গিত দেয়, শরীর এই পদ্ধতিতে স্বস্তি পাচ্ছে না। অনেকে মনে করেন ঠান্ডা জল দ্রুত জ্বর নামায়—আংশিক সত্য। এটি সাময়িকভাবে ত্বকের তাপমাত্রা কমাতে পারে, কিন্তু শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা ঠিক থাকে বা আবার বেড়ে যায়। ফলে কিছুক্ষণের মধ্যেই জ্বর ফিরে আসে, এবং রোগী আরও দুর্বল অনুভব করেন। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। শিশুদের শরীর দ্রুত তাপমাত্রা পরিবর্তনে প্রতিক্রিয়া দেখায়, আর বয়স্কদের রক্ত সঞ্চালন ধীর হওয়ায় জ্বর কমতে সময় লাগে। তাই এই দুই গোষ্ঠীর জন্য সঠিক তাপমাত্রার জল ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবশেষে মনে রাখা দরকার—জ্বর কমানো মানেই শুধু তাপমাত্রা নামানো নয়, বরং শরীরকে স্বস্তি দেওয়া। আর সেই স্বস্তি আসে ধীরে, সঠিক উপায়ে। ভুল পদ্ধতির দ্রুত সমাধান অনেক সময় দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই পরেরবার জ্বর এলে ফ্রিজের দিকে নয়, বরং বেছে নিন একটি সহজ কিন্তু বৈজ্ঞানিক পথ—ঈষদুষ্ণ জলের স্নিগ্ধ স্পর্শ। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
আলফাডাঙ্গায় ২৮ জুন ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন: সফল করতে প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন
সেনাবাহিনীর উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
স্মার্টফোন বিস্ফোরণে আতঙ্ক, টঙ্গীতে ভিভো ফোনে অল্পের জন্য রক্ষা পেল পরিবার
সাতক্ষীরায় রাফাতের মৃত্যুর ঘটনার সঠিক তদন্ত পূর্বক দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে মানববন্ধন
