|
পুলিশের সহায়তায় রাজস্থলীর আশ্রম থেকে ধর্মান্তরিত তরুণী উদ্ধার
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() পুলিশের সহায়তায় রাজস্থলীর আশ্রম থেকে ধর্মান্তরিত তরুণী উদ্ধার নও মুসলিম কলেজ শিক্ষার্থী আয়েশা সিদ্দিকা জারা(২২)।যার পূর্ব নাম তন্নী দে রিপন্না। সে চট্টগ্রাম হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের দর্শন বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দিবাগত রাত চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশের সহযোহিতায় ভিকটিমের মা সহ তাদের উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়।পরে ঘটনাস্থল ও মামলাধীন থানা এলাকা ঈদগাঁও থানা পুলিশকে চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে বিষয়টি অবগত করলে থানার এসআই মোঃ:আজিমুল হকের নেতৃত্বে পুলিশ দল রাঙামাটির উদ্দেশ্যে রওনা দেন বলে নিশ্চিত করেছেন ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ এটিএম সিফাতুল মাজদার। এসআই মোঃ:আজিমুল হক জানান , ইতিমধ্যে তিনি ভিকটিম ও তার মাকে নিয়ে রাঙামাটি থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছেন। দীর্ঘ দুই মাসের শ্বাসরুদ্ধকর এক পরিস্থিতির অবসান হল নও মুসলিম তরুণীকে উদ্ধারের ঘটনায়। এতদিন ভিকটিমের কোপালে কি ঘটেছিল তা নিয়ে ভিকটিমের সহপাঠী শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সর্বস্তরের মানুষের মাঝে অজানা আতঙ্ক বিরাজ করে আসছিলো। উল্লেখ্য ভিকটিমকে উদ্ধারে গত ৬ এপ্রিল কক্সবাজার বিজ্ঞ আদালতে মামলা করেন একই বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শহিদুল ইসলাম। যার মামলার নম্বর ৪০/২০২৬ (ঈদগাঁও)। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, কক্সবাজার অভিযোগটি আমলে নিয়ে ঈদগাঁও থানা পুলিশকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিলে তদন্ত কর্মকর্তা ঈদগাঁও থানার এসআই আচিন্ত কুমার আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। আদালত তদন্ত প্রতিবেদন পেয়ে ভিকটিমকে উদ্ধারের আদেশ দিলেও অপহরণে জড়িত ভিকটিমের বাবা,মা,ভাই ও অপরাপরা স্থান পরিবর্তন করে অজ্ঞাত স্থানে চলে যায়। যার কারণে তার ভাগ্য নিয়ে সকলে উদ্বেগ-আতন্কে ছিল। উল্লেখ্য ভিকটিম তন্নী দে রিপন্না (২২), ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর নাম নেন আয়েশা সিদ্দিকা জারা। তিনি কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের হিন্দু পাড়ার বাসিন্দা সনজীত কুমার দে ও তাপসী দে কন্যা । তার পিতা ঈদগাঁও বাজারের মিয়াজী ফার্মেসীর সামনে একটি মোবাইল শপের স্বত্বাধিকারী। তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী ঠিকানা পার্বত্য আলিকদম উপজেলা সদরের ২৮৮ নম্বর মৌজা হিন্দু পাড়ায়। সনাতনী হিন্দু ধর্মাবলম্বী তন্নী দে রিপন্না কলেজে পড়ার সময় মুসলিম সহপাঠীদের চালচলন ও ইসলামর ধর্মের বিধিবিধানে আকৃষ্ট হয়ে প্রায় এক বছর আগে পরিবারের অজান্তে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এরপর তিনি আয়েশা সিদ্দিকা জারা নাম ধারণ করে চট্টগ্রাম নগরীতে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। নও মুসলিম হওয়ায় তার দেখাশোনা করতেন একই বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থী শহিদুল ইসলাম। পরবর্তীতে তার আচরণে সন্দেহ হলে বিষয়টি টের পান পিতা-মাতা। এরই মধ্যে গেলো ১ মার্চ চট্টগ্রামের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে এফিডেভিটের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন ভিকটিম তন্নী দে । যার নম্বর ৯৬/২০২৬। ধর্মান্তরের বিষয়টি জানাজানি হলে পিতা-মাতা ও স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং তাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চালান। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গেলো ২৮ মার্চ আয়েশা সিদ্দিকা জারা চট্টগ্রাম থেকে ঈদগাঁওয়ে এসে বান্ধবীদের সাথে ৩ থেকে ৪ দিন অবস্থান করেন। এ খবর পেয়ে তার পিতা-মাতা ও স্বজনরা ওৎ পেতে থাকেন। পরে তিনি চট্টগ্রামে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হলে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। বন্দী অবস্থায় তিনি ধর্মান্তরের জেরে মা-বাবা ও স্বজনদের দ্বারা তুলে নিয়ে নির্যাতনের কথা জানিয়ে বাদীর কাছে বার্তা পাঠান এবং উদ্ধারের অনুরোধ করেন। এরপর তার সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
