যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সমঝোতার ঘোষণা দিয়ে হরমুজ প্রণালিকে উন্মুক্ত বলে উল্লেখ করেন এবং বিশ্বজুড়ে জাহাজ চলাচল ও তেল পরিবহন পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানান। তবে বাস্তবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে এখনো স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচল শুরু হয়নি।
বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পর মাত্র সাতটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে প্রায় ৫৮০টি জাহাজ এখনো উপসাগরীয় অঞ্চলে অপেক্ষমাণ রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এই প্রণালি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তিনটি বড় কারণে এখনো জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়নি—নিরাপত্তা ঝুঁকি, সমুদ্রে পেতে রাখা মাইন এবং সম্ভাব্য ফি বা টোল ব্যবস্থা।
সংকট ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ইওএস রিস্ক গ্রুপের মার্টিন কেলি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে হলে একজন জাহাজ অধিনায়কের অত্যন্ত সাহসী হতে হবে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে ইরান অনুমতি ছাড়া চলাচলের চেষ্টা করা জাহাজগুলোর ওপর গুলি চালিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে। মার্কিন বাহিনী কয়েকটি জাহাজের ইঞ্জিন কক্ষে হামলা চালিয়ে সেগুলো অচল করে দেয়।
ট্রাম্প অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেও পরে জানান, ইরানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ বহাল থাকবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক জাহাজ মালিক ও অধিনায়ক এখনো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। কেউই প্রথম ঝুঁকি নিতে চাইছেন না।