|
যুক্তরাষ্ট্রের বুকে এক টুকরো গ্রিস: যেখানে গাড়ি চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ!
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() কালডিস্যাক সরাসরি লাইট রেলের সাথে সংযুক্ত, যা ভ্রমণকারীদের বৃহত্তর ফিনিক্স এলাকায় সহজে যাতায়াতের সুযোগ করে দেয়। ছবি: কালডিস্যাক মানুষের জন্য শহর, গাড়ির জন্য নয় সাধারণত মার্কিন শহরগুলো পরিকল্পিত হয় গাড়ির যাতায়াত ও পার্কিংয়ের সুবিধাকে মাথায় রেখে। কিন্তু কালডিস্যাকের স্থপতি ড্যানিয়েল পারোলেক সম্পূর্ণ উল্টো পথে হেঁটেছেন। তিনি ইতালি, গ্রিস এবং মেক্সিকোর মতো ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের প্রাচীন উপকূলীয় গ্রামগুলো থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এর নকশা করেছেন, যা মোটরগাড়ি আবিষ্কারের আগে মূলত মানুষের হাঁটার সুবিধার জন্য তৈরি হয়েছিল। কালডিস্যাকে বসবাসকারী শেরিল মারডক নামের এক বাসিন্দা জানান, আমি যখন কেন্দ্রীয় চত্বর দিয়ে হেঁটে আমার অ্যাপার্টমেন্টে যাই, মনে হয় যেন গ্রিসের কোনো দ্বীপে আছি। সব কাজ করার জন্য এখন আর আমাকে গাড়িতে উঠতে হয় না। ![]() ছবি: কালডিস্যাক কালডিস্যাক মূলত একটি ১৫-মিনিটের শহর এর বাস্তব রূপ। এখানে বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় সবকিছু—মুদি দোকান, বিপণিবিতান, রেস্তোরাঁ, চিকিৎসকের চেম্বার, জিম, সুইমিং এবং কোওয়ার্কিং স্পেস—সবই মাত্র কয়েক কদম দূরত্বে অবস্থিত। এলাকাটিতে ব্যক্তিগত গাড়ি নিষিদ্ধ হলেও বাসিন্দাদের চলাচলের জন্য রয়েছে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা: লাইট রেল সংযোগ: এলাকার ঠিক বাইরেই রয়েছে লাইট রেল স্টেশন, যা মাত্র ১০ থেকে ৩০ মিনিটে ফিনিক্সের ডাউনটাউন এবং বিমানবন্দরে পৌঁছে দেয়। রোবোট্যাক্সি ও ই-বাইক: দূরের পথ চলার জন্য রয়েছে স্ব-চালিত বৈদ্যুতিক ওয়েমো রোবোট্যাক্সি এবং ভাড়ায় চালিত ই-বাইক। ইভি শেয়ারিং: জরুরি প্রয়োজনে ঘণ্টায় মাত্র ৫ ডলারের বিনিময়ে ব্যবহারের জন্য রয়েছে কয়েকটি যৌথ বৈদ্যুতিক গাড়ি। জাতিসংঘের তথ্যমতে, ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এভাবে গণপরিবহন ও সাইকেল ব্যবহার করলে বছরে প্রতি ব্যক্তির কার্বন নিঃসরণ ২.২ থেকে ৩.৬ টন পর্যন্ত কমানো সম্ভব। কালডিস্যাকের নির্মাণ কাজ পুরোপুরি শেষ হলে এটি প্রতি বছর বায়ুমণ্ডলে প্রায় ৩,০০০ টন গ্রিনহাউস গ্যাস প্রবেশ করা প্রতিরোধ করবে। তীব্র গরম মোকাবিলার অনন্য কৌশল অ্যারিজোনার মরু অঞ্চলের তীব্র তাপদাহ (যেখানে বছরে প্রায় ১৪৩ দিন তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ওপরে থাকে) মোকাবিলায় স্থপতিরা প্রাচীন গ্রিক ও মেক্সিকান স্থাপত্য কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন। সূর্য আলো প্রতিফলন: এখানকার বাড়িগুলোর দেয়াল ও ছাদ গ্রিসের মাইকোনোসের মতো ধবধবে সাদা রঙে রাঙানো, যা ফিনিক্সের সাধারণ বালু-রঙা বাড়ির চেয়ে অনেক বেশি সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে এবং নগর তাপ দ্বীপ প্রভাব কমায়। প্রাকৃতিক ছায়া ও হাওয়া: গাড়ি বা পার্কিংয়ের জায়গা না লাগায় ভবনগুলোকে খুব কাছাকাছি স্থাপন করা হয়েছে, যার ফলে একটি ভবন অন্যটির ওপর ছায়া ফেলে। এখানকার সরু হাঁটার পথগুলো বা পাসেও ফানেলের মতো কাজ করে প্রাকৃতিকভাবে বাতাস টেনে আনে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, এই অনন্য কৌশলের কারণে কালডিস্যাকের ভেতরের ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা পার্শ্ববর্তী এলাকার পাকা রাস্তার চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (১৭-২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত শীতল থাকে। প্রাণবন্ত সামাজিক জীবন গাড়ি চলে যাওয়ার পর এই পাড়ায় ফিরে এসেছে একাকীত্বহীন এক প্রাণবন্ত সামাজিক জীবন। এখানে রয়েছে প্রায় ২১টি ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যার মধ্যে জেমস বিয়ার্ড-মনোনীত মেক্সিকান রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে সিরামিক স্টুডিও ও পরিবেশবান্ধব পোশাকের দোকান রয়েছে। এখানকার বিশেষ জোনিং নিয়মের কারণে অনেক উদ্যোক্তা তাদের অ্যাপার্টমেন্ট থেকেই ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ছুটির দিনে এখানে বসে লাইভ মিউজিক আর খোলা বাজার, যা প্রতিবেশী ও দর্শনার্থীদের মধ্যে এক চমৎকার মেলবন্ধন তৈরি করে। যানবাহন-কেন্দ্রিক ক্লান্তিকর নাগরিক জীবন থেকে মুক্তি পেতে এবং টেকসই পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যতের স্বাদ নিতে কালডিস্যাক এখন বিশ্বজুড়ে নগর পরিকল্পনাবিদ ও ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এক দারুণ দৃষ্টান্ত। ![]() ছবি: কালডিস্যাক সূত্র: বিবিসি ওয়ার্ল্ড |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
