|
বাসসের সাবেক এমডি মাহবুব মোর্শেদকে দুদকে তলব
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() বাসসের সাবেক এমডি মাহবুব মোর্শেদকে দুদকে তলব দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো এক নোটিসে তাকে আগামী সোমবার দুপুর ৩টায় সেগুনবাগিচায় কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে। দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানালেও মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ এসেছে, তার বিস্তারিত বলতে পারেননি। অবশ্য বাসসের এমডি ও প্রধান সম্পাদকের দায়িত্বে থাকার সময় নিজের একটি গাড়ি আরেকটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত এ সংবাদমাধ্যমেই ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে। তাকে তলবের নোটিসটি পাঠিয়েছেন দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা এ কে এম মাহবুবুর রহমান। নোটিসে বলা হয়, মাহবুব মোর্শেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর বিরুদ্ধে নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে আপনার বক্তব্য শ্রবণ ও গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন। নোটিসে তাকে জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের কপিসহ হাজির হতে বলা হয়েছে। চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ওই বছরের ১৮ অগাস্ট সাংবাদিক মাহবুব মোর্শেদকে দুই বছর মেয়াদে বাসসের এমডি ও প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জিতে বিএনপি সরকার গঠনের পরদিন ১৮ ফেব্রুয়ারি বাসসে গিয়ে কর্মীদের ‘বিক্ষোভের’ মুখে পড়েন মাহবুব মোর্শেদ। সেদিন অফিস থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর আর সেখানে ফেরেননি তিনি। পরে ফেইসবুক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, মব তৈরি করে তাকে অপসারণের জন্য চাপ তৈরি করা হয়েছে। এর পরদিন তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। কমিটির কাছে তার বিরুদ্ধে আরও কিছু অনিয়মের অভিযোগ জমা পড়ার কথা বলেন বাসসের কর্মীদের কয়েকজন। সবশেষ ১ এপ্রিল এক প্রজ্ঞাপনে মাহবুব মোর্শেদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বাসসের এমডি ও প্রধান সম্পাদকের দায়িত্বে থাকার সময় মাহবুব মোর্শেদ নিজের একটি গাড়ি আরেকটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত এ সংবাদমাধ্যমেই ভাড়া দেন বলে অভিযোগ ওঠে। ‘রেন্ট-এ-কার’ নামের গাড়ি ভাড়া দেওয়া ওই কোম্পানি গাড়ি ভাড়ার জন্য মাসে দেড় লাখ টাকা করে পেয়েছিল। কোম্পানির স্বত্বাধিকারী মো. আব্দুল কাদের মীনা তখন বলেছিলেন, এখানে আমার মাধ্যমে গাড়ি দেওয়ার কারণে আমার কোনো কমিশন ছিল না, আমি এক টাকাও নিইনি। বিলটা আমার নামে পাস হইত, কিন্তু পুরো টাকাই তিনি (মাহবুব মোর্শেদ) নিয়েছেন। ভাড়া পরিশোধের নথিতে একই কোম্পানির আরেকটি গাড়ি বাসসে ভাড়া দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। তবে সেই গাড়ির ভাড়া ছিল মাসে ৭০ হাজার টাকা। মাহবুব মোর্শেদের নামে থাকা গাড়ি বাসসে ভাড়া দেওয়া বিষয়ক নথিপত্রে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর বাসস থেকে একটি কার্যাদেশ দিয়ে ‘রেন্ট-এ-কার সার্ভিস’ নামে একটি কোম্পানির কাছে গাড়ি চাওয়া হয়। ১৬টি শর্ত জুড়ে দিয়ে পরের ১ ডিসেম্বর থেকে ‘প্রধান সম্পাদকের সার্বক্ষণিক দাপ্তরিক কাজের জন্য’ গাড়িটি চাওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী টয়োটা ব্র্যান্ডের এলিয়ন মডেলের একটি গাড়ি বাসসকে দেয় রেন্ট-এ-কার সার্ভিস। জ্বালানি, চালক ও অন্যান্য ব্যয়সহ মাসে দেড় লাখ টাকার বিল মেটানোর নথিতে গাড়ির নম্বরও রয়েছে। বিআরটিএর নথি অনুযায়ী গাড়িটির মালিক মাহবুব মোর্শেদ। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি ও ২ ফেব্রুয়ারি বাসস থেকে ওই গাড়ির ভাড়া বাবদ দেড় লাখ করে মোট তিন লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। তথ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিলেও বাসসের সাবেক এমডির বিরুদ্ধে প্রতিবেদনে কী বলা হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
নাঙ্গলকোটে মধ্য বয়সী এক লম্পটের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ
আলফাডাঙ্গায় ২৮ জুন ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন: সফল করতে প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন
স্মার্টফোন বিস্ফোরণে আতঙ্ক, টঙ্গীতে ভিভো ফোনে অল্পের জন্য রক্ষা পেল পরিবার
সেনাবাহিনীর উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
