ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ২৪ আগস্ট ২০২৬ ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
খোয়াই নদীর বাঁধে ভারতীয় ঢলের আঘাত, ফের ডুবে যাওয়ার শঙ্কায় ৩০ গ্রাম
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Monday, 24 August, 2026, 6:27 PM

খোয়াই নদীর বাঁধে ভারতীয় ঢলের আঘাত, ফের ডুবে যাওয়ার শঙ্কায় ৩০ গ্রাম

খোয়াই নদীর বাঁধে ভারতীয় ঢলের আঘাত, ফের ডুবে যাওয়ার শঙ্কায় ৩০ গ্রাম

ভারতে ভারী বৃষ্টির কারণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দ্বিতীয় দফায় ভেঙে গেছে হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ। এতে ওই বাঁধ এলাকার আশেপাশের ৩০ গ্রামে আবারও দেখা দিয়েছে প্লাবনের শঙ্কা। পানিবন্দি হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ।

সোমবার (২৪ আগস্ট) খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে যাওয়ার এ তথ্য নিশ্চিত করেন হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান। 

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল পৌনে ১১টার দিকে সদর উপজেলার কালীগঞ্জ এলাকার বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে।

তিনি জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদীর পানি বাল্লা পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে কালীগঞ্জে আগের ভেঙে যাওয়া বাঁধের মেরামত করা অংশে আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত মাসে বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই সেখানে মেরামতের কাজ চলছিল।

সায়েদুর রহমান বলেন, রোববার থেকে ভারতের পানির ঢল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। প্রায় ছয় ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হওয়ায় মেরামত চলমান বাঁধটি পানির চাপ ধরে রাখতে পারেনি। দুপুরের দিকে বাঁধটি আবার ভেঙে যায় এবং পানি ভেতরে প্রবেশ করতে শুরু করে। বর্তমানে খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার প্রায় ১৫৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এর আগে, গত ৯ জুলাই কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের এই স্থানটি ভেঙে অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। পরে পাউবো বাঁধ মেরামতের কাজে হাতে নেয়, কিন্তু দেড় মাসেও তা সম্পন্ন হয়নি।

কালীগঞ্জের বাসিন্দা শওকতুল ইসলাম বলেন, বাঁধের সেই একই অংশ দিয়ে এলাকায় পানি ঢোকায় আমরা আবারও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। আগের ভাঙনে আমাদের ফসল, ঘরবাড়ি ও গবাদিপশুর ক্ষতি হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছিল। আমরা ভেবেছিলাম কর্তৃপক্ষ এবার বাঁধটি ঠিকমতো মেরামত করবে, কিন্তু কাজটি ঠিকমতো হয়নি।

স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপারের নেতৃত্বে থাকা তোফাজ্জল সোহেল বলেন, দেড় মাস আগে এই বাঁধটি ভেঙে গিয়েছিল। তখন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি ও মানুষের খেত-খামারসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। অথচ দেড় মাসের মধ্যেই আবারও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। 

তিনি বলেন, এটা প্রশাসনের ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছুই নয়। এর প্রধান কারণ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলা। পানি উন্নয়ন বোর্ড যদি একটু সচেতনভাবে কাজটি করত, তাহলে এত মানুষকে আবারও পানিবন্দি হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে হতো না।
 
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আবু জাহের বলেন, গত মাসের বন্যায় ৩০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হয়েছিল। এখন আবার বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে; তবে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। বন্যাদুর্গতদের আশ্রয়ন কেন্দ্রে নেওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।



পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status