|
টাকা না থাকলেই ঢাকায় হারিয়ে যায় কবর!
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() টাকা না থাকলেই ঢাকায় হারিয়ে যায় কবর! বিভিন্ন সংস্থার পরিসংখ্যান ও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নীতিমালা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রাজধানী ঢাকায় সাধারণ পরিবারের স্বজনরা প্রিয়জনের কবরে বেশি দিন স্মৃতি ধরে রাখতে পারেন না। একই সাধারণ কবরে ১০ বছরের ব্যবধানে পাঁচ থেকে সাতজনের দাফন সম্পন্ন হচ্ছে। অন্যদিকে বিত্তের জোরে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কবরস্থানগুলোতে ১০ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত কবর সংরক্ষণের সুবিধা পাচ্ছেন নির্দিষ্ট শ্রেণির নাগরিকরা। এদিকে, উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ফি তালিকার মধ্যে রয়েছে আকাশপাতাল ব্যবধান। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অধীনে ২০২০ সালের নীতিমালায় বরেণ্য ব্যক্তি, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্টজনদের জন্য ২৫ বছরের জন্য কবর সংরক্ষণ ফি নির্ধারিত আছে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা। তবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) এই খরচ কয়েক গুণ বেশি। ডিএনসিসির বনানী কবরস্থানে ২৫ বছরের জন্য একটি কবর সংরক্ষণের সরকারি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে দেড় কোটি টাকা। উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরে এই ফি ১ কোটি টাকা এবং মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে ৩০ লাখ টাকা। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের দাবি, নগরে কবরের সংকট তৈরি হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি কবর সংরক্ষণ পুরোপুরি নিরুৎসাহিত করতেই এ ধরনের উচ্চ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাস্তবে এতে সৃষ্টি হয়েছে এক চরম অর্থনৈতিক বৈষম্য। সাধারণ পরিবার যেখানে সরকারি রেজিস্ট্রেশন ফি দিয়ে সর্বোচ্চ ২ বছর স্বজনের স্মৃতির দেখা পায়, সেখানে কোটি টাকার বিনিময়ে ২৫ বছরের স্থায়ী নিশ্চয়তা কিনছেন বিত্তবানেরা। কবরের সময়সীমা ছাড়াও নগরের সরকারি কবরস্থানগুলোতে পরিচর্যা ও সুবিধাজনক স্থান পাওয়া নিয়েও রয়েছে অনানুষ্ঠানিক অর্থ লেনদেনের অভিযোগ। ভুক্তভোগীদের দাবি, স্বজনের কবর দাবড়ে যাওয়া বা আগাছামুক্ত রাখতে কবরস্থানের কর্মীদের প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ 'মাসোহারা' বা বখশিশ দিতে হয়। তা ছাড়া প্রবেশের কাছের সারিতে বা সুবিধাজনক জায়গায় দাফনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হয় গোরখোদক ও কর্মীদের। নগরের দুই সিটি করপোরেশনের তথ্যমতে, ডিএসসিসির আওতাধীন আজিমপুর, জুরাইন ও খিলগাঁও কবরস্থানে মোট কবরের সংখ্যা ৪১ হাজার ৯শটি, যার মধ্যে সংরক্ষিত ৪ হাজার ৬৫০টি। অন্যদিকে ডিএনসিসির ছয়টি কবরস্থানে মোট ১ লাখ ৯ হাজার ৯০৬টি কবরের মধ্যে সংরক্ষিত রয়েছে ২০ হাজার ৩৯৫টি। ঘনবসতিপূর্ণ এই শহরে দ্রুত জমি ফুরিয়ে আসায় নতুন করে কবরস্থান করাও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য ঘনবসতিপূর্ণ শহর যেমন—সিঙ্গাপুর বা ইস্তাম্বুলে ভূমির চরম সংকট সামাল দিতে নগর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কবরের মেয়াদ নির্দিষ্ট রাখা ও বৈষম্যহীন ডিজিটাল ব্যবস্থার প্রচলন করা হয়েছে। তবে ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ আবদুস সালাম জানান, দাফনের পর বিশাল অর্থ ব্যয় করে কবর সংরক্ষণ বা আভিজাত্য প্রদর্শন ইসলামের মূল চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কবর ব্যবস্থাপনায় সামাজিক মর্যাদা নয়, বরং মৃত ব্যক্তির সম্মান ও সুবিচারের নীতি প্রাধান্য পাওয়া উচিত। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
