ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ২৯ আগস্ট ২০২৬ ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩
কৃষকের স্বপ্ন ডুবলেও কৃষক ভাসে জলে
মোঃ লোকমান হোসেন, দীঘিনালা
প্রকাশ: Saturday, 29 August, 2026, 2:24 PM

কৃষকের স্বপ্ন ডুবলেও কৃষক ভাসে জলে

কৃষকের স্বপ্ন ডুবলেও কৃষক ভাসে জলে

এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার নিম্নাঞ্চল। শুক্রবার রাতের কয়েক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে মাইনী নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে। একই সঙ্গে সাজেক-দীঘিনালা ও দীঘিনালা-মেরুং সড়কের বিভিন্ন অংশে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।

শুক্রবার রাতে কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টির পর
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল থেকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার মাইনী নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকা নতুন করে প্লাবিত হয়। এতে ঘরবাড়ির পাশাপাশি পানির নিচে তলিয়ে যায় আমনসহ বিভিন্ন ফসলের জমি। তবে নতুন করে কত হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা এখনো নিরূপণ করা হয়নি। পানি কমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে দীঘিনালায় প্রায় ৪ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহের পাহাড়ি ঢলে প্রায় ১২০ হেক্টর আমন জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি প্রায় ১৭ হেক্টর আউশ ধানও নষ্ট হয়েছে। এছাড়া গ্রীষ্মকালীন বিভিন্ন সবজি ও শাকেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে চার থেকে পাঁচবার করে দীঘিনালার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েন প্রান্তিক কৃষকেরা। একবার বন্যায় ফসল নষ্ট হওয়ার পর ধারদেনা করে কিংবা কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে আবারও জমিতে চাষ করেন তারা। কিন্তু নতুন করে পাহাড়ি ঢল নামলেই সেই স্বপ্নও পানিতে ভেসে যায়।

বারবার ফসলহানির পরও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন তারা। কিন্তু প্রকৃতির এমন বারবার আঘাতে সেই চেষ্টা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। ফলে কৃষকের চোখে এখন ফসলের সবুজের চেয়ে পানির শঙ্কাই বেশি।

আমন ধানচাষি রুবেল বলেন, “এক সপ্তাহ কিংবা এক মাস পরপর বৃষ্টি হলেই আমার জমি পানিতে ডুবে যায়। আগেরবার বন্যার পানিতে ধান নষ্ট হওয়ার পর মনকে বুঝিয়ে আবারও জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম। এবারও সেই জমি পানির নিচে। এভাবে বারবার ফসল নষ্ট হলে বন্যার পানি আমাদের পথে বসিয়ে ছাড়বে।”

শনিবার সকাল থেকেই মাইনী নদীর পানি বাড়তে থাকায় নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেক বসতবাড়ির উঠানে পানি উঠেছে। নিচু এলাকার সড়কেও পানি প্রবাহিত হওয়ায় স্বাভাবিক চলাচলে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিবছর একইভাবে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলেও স্থায়ীভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। তাদের মতে, কৃষিজমি ও বসতবাড়ি রক্ষায় নদী-ছড়া ও পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ সচল রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি।

পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র সামনে আসবে। তবে তার আগেই কৃষকদের আশঙ্কা—এবারও যদি ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হয়, তাহলে আগের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন করে ঋণের বোঝা কাঁধে নিতে হবে তাদের।

প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকা এই কৃষকদের কাছে তাই প্রশ্ন একটাই—কতবার ফসল হারালে তারা নিরাপদে একটি ফসল ঘরে তুলতে পারবেন? কৃষকের স্বপ্ন বারবার পানিতে ডুবলেও জীবন-জীবিকার তাগিদে সেই পানিতেই ভেসে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status