|
অ্যাম্বুলেন্সে কী করা যাবে, কী করা যাবে না
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() অ্যাম্বুলেন্সে কী করা যাবে, কী করা যাবে না গণপরিবহনে ধূমপান করলে যাত্রীদের অস্বস্তি ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই চালক বা হেলপার ধূমপান করলে বিআরটিএ ও মোবাইল কোর্ট ধারা ৯২ অনুযায়ী জরিমানা করতে পারে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আব্দুন নুর তুষার একটি অ্যাম্বুলেন্সের ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে লেখেন, অ্যাম্বুলেন্সটির চালক গাড়ির ভেতরে বসেই ধূমপান করছেন। প্রশ্ন উঠেছে, গণপরিবহনে ধূমপান নিষিদ্ধ হলে যাত্রী বা রোগী না থাকা অবস্থায় চালক গণপরিবহনে ধূমপান করতে পারবেন কি না। একই সঙ্গে প্রশ্ন রয়েছে, রোগী বহনের মতো জরুরি সেবায় ব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্সে ধূমপান আদৌ করা উচিত কি না। গণপরিবহনে ধূমপানের বিষয়ে সড়ক পরিবহন আইনে যা আছে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী, মোটরযান চলাচলের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের নির্দেশনা মেনে চলতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে—মদ্যপান বা নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে কোনো চালক মোটরযান চালাতে পারবেন না। মদ্যপান বা নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে কোনো কন্ডাক্টর বা মোটরযান শ্রমিক মোটরযানে অবস্থান করতে পারবেন না। মোটরযান চালক কোনো অবস্থাতেই কন্ডাক্টর বা মোটরযান শ্রমিককে মোটরযান চালনার দায়িত্ব দিতে পারবেন না। সড়ক বা মহাসড়কে নির্ধারিত অভিমুখ ছাড়া বিপরীত দিক থেকে মোটরযান চালানো যাবে না। নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোনো স্থানে, উল্টো পার্শ্বে বা ভুল দিকে (রং সাইড) মোটরযান থামিয়ে যানজট বা অন্য কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না। চালক ছাড়া মোটরসাইকেলে একজনের বেশি সহযাত্রী বহন করা যাবে না। চালক ও সহযাত্রী উভয়কেই যথাযথভাবে হেলমেট ব্যবহার করতে হবে। চলন্ত অবস্থায় চালক, কন্ডাক্টর বা অন্য কোনো ব্যক্তি কোনো যাত্রীকে মোটরযানে উঠাতে বা নামাতে পারবেন না। প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য গণপরিবহনে অনুকূল সুযোগ-সুবিধা রাখতে হবে। মোটরযানের বডির সামনে, পেছনে, উভয় পাশে, বডির বাইরে বা ছাদে কোনো ধরনের যাত্রী, পণ্য বা মালামাল বহন করা যাবে না। সরকার বা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কোনো মোটরযানে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন বা প্রচার করা যাবে না। আইনে আরও বলা হয়েছে, কোনো মহাসড়ক, সড়ক, ফুটপাত, ওভারপাস বা আন্ডারপাসে মোটরযান মেরামতের নামে যন্ত্রাংশ বা মালামাল রেখে, দোকান বসিয়ে বা অন্য কোনোভাবে দ্রব্যাদি রেখে যানবাহন বা পথচারী চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা যাবে না। সড়কের সংলগ্ন ফুটপাতের ওপর দিয়ে কোনো মোটরযান চলাচল করতে পারবে না। কোনো ব্যক্তি কোনো মোটরযানের মালিক বা আইনানুগ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সংশ্লিষ্ট মোটরযান চালিয়ে বাইরে নিয়ে যেতে পারবেন না। একইভাবে আইনানুগ কর্তৃপক্ষ বা যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি দাঁড়িয়ে থাকা কোনো মোটরযানে প্রবেশ বা আরোহন করতে পারবেন না। চালক কী করতে পারবেন, কী পারবেন না? সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-তে চালকদের বিষয়েও বিভিন্ন নির্দেশনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, মোটরযান চালনারত অবস্থায় চালক মোবাইল ফোন বা অনুরূপ সরঞ্জাম ব্যবহার করতে পারবেন না। সিটবেল্ট না বেঁধে মোটরযান চালানো যাবে না। যাত্রীদের করণীয় সম্পর্কেও আইনে বলা হয়েছে। কোনো যাত্রী চলন্ত মোটরযানে চালকের মনোসংযোগে ব্যাঘাত ঘটে বা মোটরযান চালাতে অসুবিধা হয়—এমন কোনো আচরণ বা কর্মকাণ্ড করতে পারবেন না। এ ছাড়া মহিলা, শিশু, প্রতিবন্ধী ও বয়োজ্যেষ্ঠ যাত্রীর জন্য সংরক্ষিত আসনে অন্য কোনো যাত্রী বসতে পারবেন না। যাত্রীদের সিটবেল্ট বাঁধা-সংক্রান্ত নির্ধারিত বিধান অনুসরণ করতে হবে। দূরপাল্লার মোটরযানে নির্ধারিত সংখ্যার অতিরিক্ত কোনো যাত্রী বা আরোহী বহন করা যাবে না। কোনো চালক, কন্ডাক্টর বা মোটরযান পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পরিবহনযানে যাত্রীদের সঙ্গে কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার, অসৌজন্যমূলক আচরণ বা হয়রানি করতে পারবেন না। রাতের বেলায় বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরযান চালনায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়—এমন হাইবিম ব্যবহার করেও মোটরযান চালানো যাবে না। ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের আইনে যা আছে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধিত ২০১৩)-এর ধারা ৪ অনুযায়ী, পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান নিষিদ্ধ। এখানে পাবলিক পরিবহনের মধ্যে বাস, মিনিবাস, ট্রেন, লঞ্চ, স্টিমার, বিমান, প্রাইভেট কার ও অ্যাম্বুলেন্সও রয়েছে। এর ব্যত্যয় ঘটলে প্রথমবার ধূমপানের জন্য ২ হাজার টাকা জরিমানা এবং দ্বিতীয়বার বা বারবার করলে জরিমানা দ্বিগুণ হয়। অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন ও ব্যবহার নিয়ে যা বলা আছে সড়ক পরিবহন বিধিমালা ২০২২ এর ধারা ৮১ অনুযায়ী, অ্যাম্বুলেন্স, অগ্নিনির্বাপক, উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত বা রাষ্ট্রীয় জরুরি কাজে নিয়োজিত যানবাহন ছাড়া অন্য কোনো মোটরযানে হাইড্রোলিক হর্ন, হুটার বা বহুমুখী হর্ন ব্যবহার করা যাবে না। রোগী ছাড়া সাইরেন বাজানো বাংলাদেশের মোটরযান আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এর জন্য জরিমানা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং প্রকৃত রোগীর জন্য রাস্তা ব্লক হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। অ্যাম্বুলেন্স পণ্যবাহী গাড়ি নয়। ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। খালি থাকা অবস্থায় লোকাল বাসের মতো যাত্রী তোলাও গুরুতর অপরাধ। এ ছাড়া রোগী না থাকলে অ্যাম্বুলেন্সকে সাধারণ গাড়ির মতোই ট্রাফিক আইন মানতে হবে। টোল, সিগন্যাল—সবই মানতে হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক জায়গায় খালি অ্যাম্বুলেন্স চেকিং এড়াতে ব্যবহার হয়। পুলিশ ধরলে গাড়ি জব্দ পর্যন্ত হতে পারে। রোগী বহনের জন্য নিবন্ধিত অ্যাম্বুলেন্সে লাশ বহনের জন্য অনেক জেলায় আলাদা অনুমতি লাগে। ফ্রিজার ভ্যান ছাড়া সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সে লাশ বহন করতে গেলে পুলিশ আটকাতে পারে। অ্যাম্বুলেন্সে ধূমপান অনেক বেশি ক্ষতিকর অ্যাম্বুলেন্সে ধূমপান করা অনেক বেশি গুরুতর অপরাধ। এর কারণে রোগীর সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেনিন চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রথমত, যেকোনো পাবলিক প্লেসে জনপরিসরে ধূমপান করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। দ্বিতীয়ত, অ্যাম্বুলেন্স হচ্ছে রোগী বহন করে। যখন কোনো রোগী অ্যাম্বুলেন্সে থাকে, তখন সাধারণত এমন রোগী থাকে—যে রোগী নিজে চলতে পারে না এবং যার অক্সিজেনসহ নানান কিছু দরকার। তো সেখানে ধূমপান মানে রোগীকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া। তিনি বলেন, যদি সেটি শ্বাসতন্ত্রীয় রোগ হয়, তাহলে রোগীর কফ রিফ্লেক্স, মানে ফুসফুস উত্তেজিত হয়ে পড়বে, কাশি আসবে। সেই চাপে তার শরীরে নানা ধরনের সমস্যা হবে। এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, যদি হার্ট অ্যাটাকের রোগী হয়, সেখানেও ধূমপানের কারণে রোগীর কাশি শুরু হবে এবং কাশি দিতে গিয়ে হার্ট অ্যাটাক বেড়ে যেতে পারে, তীব্রতা বেড়ে যেতে পারে। সব মিলিয়ে বলবো যে, এটি যেখানে জনপরিসরে ধূমপান করা অপরাধ, সেই ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্সে ধূমপান করা অনেক অনেক বেশি গুণ অপরাধ। এটাকে আইনের আওতায় আনা দরকার। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
