|
জাতিসংঘে ইউনিভার্সাল কার্ড চালুর পরিকল্পনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী
নাজমুল হক শ্যামল, জাতিসংঘ সদর দপ্তর নিউইয়র্ক থেকে
|
![]() জাতিসংঘে ইউনিভার্সাল কার্ড চালুর পরিকল্পনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এবারের অধিবেশন ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে এবং ২০২৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর শেষ হবে। ভাষণে তারেক রহমান বলেন, শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্র নয়, অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের মাধ্যমেও প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির সুফল প্রতিটি পরিবার ও নাগরিকের কাছে পৌঁছে দিতে চায় বাংলাদেশ। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্য বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবারের নারী প্রধানের নামে দেওয়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’কে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর পাশাপাশি কৃষক, ক্রীড়াবিদ ও স্বাস্থ্যসেবার জন্য ‘ফার্মার্স কার্ড’, ‘স্পোর্টস কার্ড’ ও ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালু করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এসব কর্মসূচিকে সমন্বয় করে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এআই নিয়ে বৈশ্বিক নীতিমালার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তিনি বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ভবিষ্যৎ বিশ্বের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জৈবপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের নতুন যুগে প্রবেশ করছে বিশ্ব। তবে প্রযুক্তির সুবিধা এখনো সব মানুষের জন্য সমানভাবে নিশ্চিত হয়নি। বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী ও ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল সক্ষমতার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে উন্নত প্রযুক্তি, জ্ঞান ও গবেষণার সুযোগ আরও বিস্তৃত করতে হবে। তিনি বলেন, আজকের ডিজিটাল বৈষম্য যেন আগামী দিনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈষম্যে পরিণত না হয়। উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুত সম্প্রসারণের সুফল ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে জাতিসংঘের একটি কার্যকর নীতিমালা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক সহায়তা ভাষণে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয়ের বিষয়টিও তুলে ধরেন তারেক রহমান। তাঁর ভাষ্য, দীর্ঘ সময় ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকটের উৎস মিয়ানমারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর সমাধানও সেখানে নিহিত। নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফিরিয়ে নেওয়াকে সংকট সমাধানের প্রধান পথ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এ বিষয়ে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। জলবায়ু পরিবর্তনেও জোর জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের বিষয়টিও উঠে আসে তাঁর ভাষণে। বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান তুলনামূলকভাবে কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির প্রভাব বাংলাদেশকে বহন করতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জলবায়ু ন্যায়বিচার, অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তার ক্ষেত্রে আরও কার্যকর বৈশ্বিক উদ্যোগের প্রত্যাশা জানান প্রধানমন্ত্রী। আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি বন্যা ও খরার প্রভাব মোকাবিলায় সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচির কথাও জানান। জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের এবারের প্রতিপাদ্য ‘আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ’।
|
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
