বনভূমি রক্ষা ও বন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গাজীপুরে পৃথক ‘গাজীপুর বন বিভাগ’ প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে গাজীপুর পরিবেশ আন্দোলন (গাপা) ও জনস্বার্থ উন্নয়ন ট্রাস্ট (PID Trust)। একই সঙ্গে জবরদখলকৃত বনভূমি উদ্ধার, বন ক্যাডার কর্মকর্তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা এবং বন অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠন দুটি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১১টায় জয়দেবপুরের শহীদ নিয়ামত সড়কের শায়লা কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, গাজীপুরের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল জেলার পরিবেশের ভারসাম্য, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বনভূমি দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, বন উজাড়সহ নানা ধরনের বন অপরাধের কারণে এ অঞ্চলের বন ও পরিবেশ চাপে রয়েছে।
তারা বলেন, বন রক্ষায় শুধু আইন ও নীতিমালা থাকলেই হবে না; প্রয়োজন শক্তিশালী প্রশাসনিক কাঠামো ও মাঠপর্যায়ে দ্রুত আইন প্রয়োগ। অথচ গাজীপুরের বন-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সেবা পেতে অনেক ক্ষেত্রেই ঢাকায় যেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
আয়োজকদের ভাষ্য, ‘ঢাকা বন বিভাগ’ ও ‘বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ ঢাকা বিভাগ’-এর বিভাগীয় বন কর্মকর্তাদের কার্যালয় মহাখালীতে হওয়ায় গাজীপুরের বনসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা, ভূমির মালিক ও সেবা প্রত্যাশীদের ঢাকামুখী হতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি বাড়ছে জনভোগান্তি।
তাদের দাবি, ঢাকা বন বিভাগের কাঠামো কী হবে সেটি তাদের আলোচনার বিষয় নয়। গাজীপুর জেলার বনাঞ্চল ও বন প্রশাসনের জন্য আলাদা একটি বিভাগ প্রতিষ্ঠাই তাদের মূল দাবি। পৃথক বন বিভাগ হলে গাজীপুর থেকেই বিভাগীয় পর্যায়ের সেবা দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— দ্রুত ‘গাজীপুর বন বিভাগ’ প্রতিষ্ঠা, বন ক্যাডার কর্মকর্তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রদান, জবরদখলকৃত বনভূমি উদ্ধারে জিরো টলারেন্স নীতি, হয়রানিমূলক বন মামলা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় প্রত্যাহারের ব্যবস্থা এবং বন অপরাধে জড়িত সরকারি-বেসরকারি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সমানভাবে আইন প্রয়োগ।
বক্তারা বলেন, বন অপরাধের ক্ষেত্রে প্রভাবশালী কিংবা সাধারণ—কাউকেই ছাড় দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে নিরপরাধ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
বন রক্ষাকে শুধু বন বিভাগের দায়িত্ব হিসেবে না দেখে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় সরকার, পরিবেশ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি মো. মোছাদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ও জনস্বার্থ উন্নয়ন ট্রাস্টের ম্যানেজিং ট্রাস্টি মো. মেহেদী হাসান, প্রধান উপদেষ্টা ফেডরিক মুকুল বিশ্বাস, নির্বাহী সহ-সভাপতি এনামুল হক, সহসভাপতি মো. ইসমাইল মোল্যা ও দপ্তর সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রুবেলসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা দ্রুত পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।