|
কিশোরীর মুখ চেপে নির্জনে নিয়ে যান কাশেম, স্বামীর অপকর্ম লুকাতে বিকল্প প্রস্তাব স্ত্রীর
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() কিশোরীর মুখ চেপে নির্জনে নিয়ে যান কাশেম, স্বামীর অপকর্ম লুকাতে বিকল্প প্রস্তাব স্ত্রীর মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি দুর্গাপুর পৌরসভার বালিকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার জানায়, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সে বাড়ির দক্ষিণ পাশে রাতের খাবারের উচ্ছিষ্ট পানি ফেলতে যায়। এ সময় কাশেম তাকে একা পেয়ে মুখ চেপে ধরে পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর অসুস্থতার কারণে কিশোরী স্বাভাবিকভাবে হাঁটতেও পারছিল না। পরদিন সে প্রতিবেশী এক নারীকে বিষয়টি জানালে ঘটনাটি জানাজানি হয় এবং এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনা জানাজানির পর স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালান। ‘ঘটনা প্রকাশ পেলে মেয়ের বিয়ে দিতে সমস্যা হবে’—এমন ভয় দেখিয়ে পরিবারটিকে আইনি পদক্ষেপ না নিতে চাপ দেওয়া হয়। এমনকি অভিযুক্ত কাশেমের স্ত্রীও পরিবারটিকে নানা হুমকি-ধমকি দেন এবং ধামাচাপা দিতে কিশোরীকে তার স্বামীর সঙ্গেই বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ পরিবারের। এসব কারণে কিশোরীর বাবা প্রথমে থানায় যেতে সাহস পাচ্ছিলেন না। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অভিযুক্ত কাশেমের বিরুদ্ধে এর আগেও এলাকার নারীদের উত্ত্যক্ত ও হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে ভুক্তভোগী পরিবারটি অত্যন্ত অসচ্ছল। কিশোরীর বাবা ঝালমুড়ি বিক্রি করে এবং মা অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে কোনোমতে দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে সংসার চালান। মঙ্গলবার সকালে গণমাধ্যমকর্মীরা এলাকায় উপস্থিত হলে কিশোরী তাদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়। বিষয়টি দ্রুত দুর্গাপুর থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত কাশেমকে গ্রেপ্তার করে। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে লিখিত এজাহার নেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্ত আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
