|
অনলাইনে পার্টটাইম চাকরির ফাঁদে ২৪ লাখ টাকা খোয়ালেন ব্যবসায়ী, গ্রেফতার তরুণী
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() অনলাইনে পার্টটাইম চাকরির ফাঁদে ২৪ লাখ টাকা খোয়ালেন ব্যবসায়ী, গ্রেফতার তরুণী গত ৮ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টর এলাকা থেকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার (১০ অক্টোবর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান। সিআইডি জানায়, ২০২৫ সালের আগস্টে টেলিগ্রাম আইডির মাধ্যমে ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করে চক্রটি। অনলাইনে পার্টটাইম চাকরির প্রস্তাব দিয়ে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের আদলে তৈরি নকল ওয়েবসাইটে কাজ করার কথা বলা হয়। সেখানে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের রেটিং ও মতামত দেওয়ার বিনিময়ে প্রতিদিন ৮০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা আয়ের প্রলোভন দেখানো হয়। প্রস্তাবে আকৃষ্ট হয়ে কাজ শুরু করলে ব্যবসায়ীকে কয়েক দফায় পারিশ্রমিকও দেওয়া হয়। এতে তার বিশ্বাস অর্জন করে চক্রটি। পরে তাকে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত করা হয়। সেখানে প্রতিষ্ঠানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে এক লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে আকর্ষণীয় মুনাফার প্রস্তাব দেওয়া হয়। অন্য সদস্যদের বিনিয়োগের প্রমাণ হিসেবে ব্যাংকে টাকা জমার স্লিপের ছবি দেখিয়ে তাকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হয়। সিআইডির কর্মকর্তা জানান, ২০২৫ সালের ২২ আগস্ট ওই ব্যবসায়ী তার প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব থেকে চক্রটির দেওয়া একটি ব্যাংক হিসাবে প্রথমে এক লাখ টাকা পাঠান। পরে ওয়েবসাইটে নির্দিষ্টসংখ্যক ভিজিট সম্পন্ন করা, বিভিন্ন রাউন্ডে অংশ নেওয়া এবং অন্যান্য শর্ত পূরণের কথা বলে তাকে আরও অর্থ পাঠাতে প্ররোচিত করা হয়। এভাবে একই দিনে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে তার কাছ থেকে মোট ২৪ লাখ ১৯ হাজার ১৯৯ টাকা নেওয়া হয়। চক্রটি ওই অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করে। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মুনাফা তো দূরের কথা, বিনিয়োগের মূল টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি। পরে আরও অর্থ দাবি করা হলে ব্যবসায়ীর সন্দেহ হয়। টাকা ফেরত চাইলে তাকে নতুন করে অর্থ পাঠাতে বলা হয়। একপর্যায়ে চক্রের সদস্যরা তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আদালতের মাধ্যমে ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর পল্টন থানায় মামলা করেন। সিআইডির তদন্তে ‘লিজা’ নাম ব্যবহারকারী এক সন্দেহভাজনের নির্দেশনার সঙ্গে অর্থ পাঠানোর সময়ের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ব্যবসায়ীর বিশ্বাস অর্জন করে তাকে ধাপে ধাপে বেশি অর্থ বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করার উদ্দেশ্যে প্রীয়ন্তী সরকার চিত্রার নামে নিবন্ধিত একটি মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাব থেকে তাকে পারিশ্রমিক পাঠানো হয়েছিল। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অর্থ পাঠানোর নির্দেশদাতা সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি গ্রেফতার তরুণী। প্রতারণায় তার সংশ্লিষ্টতা এবং অর্থের উৎস ও গন্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ আরও জানান, একই মামলায় বিভিন্ন সময়ে আরও ছয়জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। অনলাইনে পার্টটাইম চাকরি, বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করে আয়ের প্রলোভন এবং অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সিআইডি। |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
