ই-পেপার সোমবার ● ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ● ১০ অক্টোবর ২০২৬ ● ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
সিইসির পদত্যাগ দাবি
অবরুদ্ধ দিল্লি, সাবেক চার মুখ্যমন্ত্রীসহ আটক ৫ হাজার
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Saturday, 10 October, 2026, 6:54 PM

অবরুদ্ধ দিল্লি, সাবেক চার মুখ্যমন্ত্রীসহ আটক ৫ হাজার

অবরুদ্ধ দিল্লি, সাবেক চার মুখ্যমন্ত্রীসহ আটক ৫ হাজার

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী নয়াদিল্লি অবরুদ্ধ হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ঠেকাতে পশ্চিম বঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, দিল্লিতে কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ন, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারসহ ও ককরোচ পার্টির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাসহ ৫ হাজার জনকে আটক করা হয়েছে। আজ শনিবার দিনভর তাদের আটক করা হয়। দেশটির এনডিটিভি, আনন্দবাজার, দ্য হিন্দুরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। 

আন্দোলন ঠেকাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার কঠোর অবস্থান নেয়। তারা দিল্লিগামী ট্রেন, দিল্লির মেট্রো এবং বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। দিল্লি পুলিশের লক্ষ্য ছিল যন্তরমন্তরে যেন কেউ কোনোভাবে অবস্থান না নিতে পারেন।

বিবিসি জানিয়েছে, যন্তরমন্তরে পুলিশ কর্মকর্তারা সাড়িবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিল, মাথার উপর ড্রোন উড়ছে এবং জায়গায় জায়গায় ভারী লোহার ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। সেখানে কাউকেই প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। দিল্লির সমস্ত দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।এমনকি সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া কিছু সাংবাদিককেও আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিবিসির সাংবাদিক।   সাধারণ বিক্ষোভকারীদের ওপরও ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত থেকে আজ শনিবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় এক হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। যারমধ্যে ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দ্বীপকে সহ শীর্ষ নেতা আছেন।

জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকেও তার বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে। তিনি জার্মানি থেকে এই আন্দোলনে যোগ দিতে ভারতে আসেন। ভারতের নির্বাচন কমিশনার বিভিন্ন রাজ্যে কয়েক কোটি ভোটারকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। এর প্রতিবাদে আজকে যন্তরমন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল তারা।

নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন ধরপাকড় চালাচ্ছে পুলিশ। দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতির সময় জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি, সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকেসহ সহস্রাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। ককরোচদের আটক করে ছত্রশাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ।

দিল্লিতে বাড়ির সামনে ধর্নায় বসেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে তাকে পুলিশ আটক করে নিয়ে গেছে। পুলিশের গাড়িতে বসে থাকা ব্যানার্জীর একটি ছবিও তারা শেয়ার করেছে সামাজিক মাধ্যমে।

বাম ছাত্র নেত্রী নেহা বোরা, সিপিআইএমএল লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, সামাজিক কর্মকর্তা যোগেন্দ্র ইয়াদভ সহ একাধিক নেতা আটক। বিবিসি সংবাদদাতা দিলনাওয়াজ পাশা জানাচ্ছেন এদের সফদরজং ফ্লাইওভারের কাছে আটক করা হয়।

দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে আটক করেছে পুলিশ। আজ শনিবার দিল্লির লোধি এস্টেটে নিজের বাসভবনের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। এ ছাড়া দিল্লিতে আপের প্রধান সৌরভ ভরদ্বাজকেও আটক করেছে পুলিশ বলে দেশটির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

আন্দোলনে যোগ দিতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী। তিনি ‘হাম ভারতকে লোগ’ সংগঠনের প্রেসিডেন্ট। ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থনে মুম্বাইয়ের অগাস্ট ক্রান্তি ময়দানে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল তার। তার আগেই তাকে আটক করে মুম্বাই পুলিশ। আটক করা হয়েছে তার সহযোগীদেরও। তাকে ডিএন নগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারর করা হয়েছে বলে দাবি করেন তুষার। যদিও গ্রেপ্তারের কথা অস্বীকার করেছে পুলিশ । তাদের দাবি, শুধু আটক করা হয়েছে তুষার গান্ধীকে।

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) জাতীয় সভাপতি নেহা বোরাসহ বেশ কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়।

আজ সকাল ১০টার দিকে ককরোচ জনতা পার্টির আইনি বিভাগের প্রধান রত্না সিংকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘পুলিশ আমার বাড়িতে গিয়েছিল, কিন্তু সেখানে আমাকে পায়নি। রাস্তায় আমার গাড়ির ভিতর থেকে বেআইনিভাবে আমাকে আটক করা হয়েছে। আমার গাড়ির চারপাশে প্রায় ২৫ জন পুলিশকর্মী রয়েছেন, তাদের মধ্যে তিনজনের মতো মহিলা পুলিশকর্মীও আছেন।’

এরআগে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের জেরে যন্তরমন্তরে দীর্ঘ আন্দোলন করে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগে বাধ্য করেছিল ককরোচ জনতা পার্টি। এখন তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেন্দ্র কুমারের পদত্যাগ চাইছেন।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status