ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ২৮ জুন ২০২৬ ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
হঠাৎ ‘এতিম’ আওয়ামী লীগ
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Thursday, 2 May, 2019, 6:44 PM
সর্বশেষ আপডেট: Friday, 3 May, 2019, 11:46 AM

হঠাৎ ‘এতিম’ আওয়ামী লীগ

হঠাৎ ‘এতিম’ আওয়ামী লীগ

আওয়ামী লীগ সভাপতি চোখের চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গেছেন। দলের সাধারণ সম্পাদক হার্টের বাইপাস সার্জারি করে এখন সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন। দলের দুই শীর্ষ নেতার অনুপস্থিতি হঠাৎই যেন ‘এতিম’ আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নতুন নয়। রাষ্ট্রীয় নানা কাজে তাঁকে দেশের বাইরে যেতে হয়। কিন্তু বিশ্বের যে প্রান্তেই থাকুন না কেনো দেশের সঙ্গে তিনি সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতেন। দল এবং সরকার পরিচালনার নানা পরামর্শ তিনি দূরদেশ থেকেও নিয়মিত নিয়মিত দিতেন।

মূলত: দল এবং সরকার পরিচালিত হতো তারই নির্দেশে। এরমধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশে ই ফাইলিং শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে বিদেশে থাকলেও জরুরী ফাইলও তিনি নিষ্পত্তি করতেন। কিন্তু এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এবার প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি গেছেন চিকিৎসার জন্য। আজ লন্ডনে তিনি চিকিৎসককে দেখিয়েছেন। আগামীকাল শুক্রবার তাঁর ডান চোখে ছানি অপারেশন হতে পারে। চিকিৎসকরা নির্দেশ দিয়েছেন তিনি যেন কথাবার্তা না বলেন। চোখের কাজ তো পুরোপুরি বন্ধ। আগামী এক সপ্তাহ এভাবেই থাকতে হবে আওয়ামী লীগ সভাপতিকে। পূর্ণ বিশ্রাম। যদিও দলের সাধারণ সম্পাদকের অনুপস্থিতিতে মাহাবুবুল আলম হানিফকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই সভাপতির অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দেয়া হয় না আওয়ামী লীগে।




ওয়ান-ইলেভেনের পর আওয়ামী লীগের সর্বময় ক্ষমতা দলের সভাপতির উপরই। অন্যদের ভূমিকা নিতান্তই গৌণ। দলীয় বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন সভাপতিই। অন্যরা তার নির্দেশ পালন করেন মাত্র। এমনকি, কখন বিরোধিদলের কি সমালোচনা করতে হবে, সেটাও আওয়ামী লীগ সভাপতিই বাতলে দেন। আগে আওয়ামী লীগ সভাপতি দলীয় বিষয়ে সরাসরি নির্দেশনা দিতেন, দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে।

কাদের অসুস্থ হবার পর তিন যুগ্ন সাধারণ সম্পাদককে দিয়ে ভালো্ যাচ্ছিলো দল। গত ১০ বছরে দলে শেখ হাসিনার ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। কেউ কোন সিদ্ধান্ত নেন না বা নিতে ভয় পান। এমনকি কখন কি বলতে হবে, সে বিষয়েও অনেক নেতা আওয়ামী লীগ সভাপতির পরামর্শ নেন। এরকম অবস্থায় খানিকটা হলেও অসহায় অবস্থায় পরেছে আওয়ামী লীগ। এ অবস্থায় দলের মধ্যস্তরের নেতাদের যোগ্যতা পরীক্ষাও বটে। শুধু দল কেন? সরকারের তাবৎ জটিল এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত একাই নেন প্রধানমন্ত্রী। টানা তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারে এবার প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভরতা আরো বেড়েছে। অধিকাংশ নবীন মন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের ছোটখাট সিদ্ধান্তের জন্যও তাকিয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রীর দিকে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা না পেলে এদের কাজও থামকে যায়।

কিছুদিন ধরেই আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবসরের কথা বলছিলেন। তিনি বলেছেন, ‘আর প্রধানমন্ত্রী হতে চান না।’ কিন্তু শেখ হাসিনার অনুপস্থিতির মাত্র দুই দিনের মাথায় বোঝা গেল তিনি কতটা অপরিহার্য- দলের ও দেশের জন্য। তার ক’দিনের অনুপস্থিতি দলকেই শুধু এতিম করে দেয় না, দেশের কর্মকাণ্ডকেও স্থবির করে দেয়। এজন্যই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, শেখ হাসিনার এখনো কোন বিকল্প নেই।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status