|
রমজানের ইফতার পার্টি ও ঈদের শপিং
ফারাহ দিবা দিপ্তী
|
|
রমজানের ইফতার পার্টি ও ঈদের শপিং ড. কালাম তাকে নির্দেশ দিলেন, কতিপয় নির্দিষ্ট এতিমখানায় এই অর্থ, খাদ্য, পোশাক ও কম্বল কিনে দান করতে হবে। ‘রাষ্ট্রপতি ভবন’'র কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি টিম এতিমখানা বাছাইয়ের দায়িত্ব পেয়েছিল। ড. কালাম এ ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা পালন করেননি। এতিমখানা বাছাইয়ের পরে ড. কালাম মি. নায়ারকে তার কক্ষে ডাকলেন এবং এক লাখ রুপির একটি চেক দিলেন। তিনি বললেন, তিনি তার ব্যক্তিগত সঞ্চয় থেকে কিছু অর্থ দান করছেন। কিন্তু এ তথ্য কারও কাছে প্রকাশ করা যাবে না। মি. নায়ার এতটাই আঘাত পান যে তিনি বললেন, ‘স্যার, আমি এখনই বাইরে যাব এবং সবাইকে বলব। কারণ, মানুষের জানা উচিত, এখানে এমন একজন মানুষ রয়েছেন, যে অর্থ তার খরচ করা উচিত, শুধু সেটাই তিনি দান করেননি, তিনি সেই সঙ্গে নিজের অর্থও বিলিয়েছেন।’ ড. কালাম যদিও একজন মুসলমান; কিন্তু তিনি রাষ্ট্রপতি ভবনে থাকার বছরগুলোতে কোনো ইফতার পার্টি দেননি। প্রেসিডেন্ট উমরের রা. ঈদ শপিং খলিফা উমর ইবনে আল খাত্তাব (রা)। ২৩শে আগষ্ট ৬৩৪ থেকে ৩রা নভেম্বর ৬৪৪ সাল পর্যন্ত আরবের (দ্বিতীয় খলিফা হিসাবে) দায়িত্ব পালন করেন। প্রায় অর্ধেক পৃথিবীর শাসক উমর (রা) এর খিলাফতের প্রথম দিকে আবু উবাইদা (রা) তখন অর্থমন্ত্রী হিসাবে রাষ্ট্রীয় কোষাগার দেখাশুনা করতেন। ঈদের আগের দিন প্রেসিডেন্ট উমরের (রা) স্ত্রী নিজ স্বামীকে বললেন, ‘আমাদের জন্য ঈদের নতুন কাপড় না হলেও চলবে, কিন্তু ছোট বাচ্চাটি ঈদের নতুন কাপড়ের জন্য কাঁদছে’। আরব জাহানের শাসক প্রেসিডেন্ট উমর (রা) বললেন, ‘আমার তো নতুন কাপড় কেনার সামর্থ্য নেই’। পরে প্রেসিডেন্ট উমর (রা) তার অর্থমন্ত্রী আবু উবাইদা (রা) কে এক মাসের অগ্রিম বেতন দেয়ার জন্য চিঠি পাঠালেন। সমগ্র মুসলিম জাহানের প্রেসিডেন্ট যিনি, যিনি সেই সময় প্রায় অর্ধেক পৃথিবী শাসন করছেন, তার এ ধরণের চিঠি পেয়ে আবু উবাইদার (রা) চোখে পানি এসে গেল। উম্মতে আমীন আবু উবাইদা (রা) বাহককে টাকা না দিয়ে চিঠির উত্তরে লিখলেন, ‘আমীরুল মুমিনীন! অগ্রিম বেতন বরাদ্দের জন্য দুটি বিষয়ে আপনাকে ফয়সালা দিতে হবে। প্রথমতঃ আগামী মাস পর্যন্ত আপনি বেঁচে থাকবেন কি না? দ্বিতীয়তঃ বেঁচে থাকলেও দেশের জনসাধারণ আপনাকে সেই মেয়াদ পর্যন্ত খিলাফতের দায়িত্বে বহাল রাখবে কিনা?’ চিঠি পাঠ করে প্রেসিডেন্ট উমর (রা) কোন প্রতি উত্তর তো করলেনই না, বরং এত কেঁদেছেন যে তার চোখের পানিতে দাঁড়ি ভিজে গেলো। আর হাত তুলে আবু উবাইদার (রা) জন্য দোয়া করলেন- একজন যোগ্য অর্থমন্ত্রী নির্বাচিত করতে পেরেছেন ভেবে। এবং তিনি উবাইদাকে রা. উপাধি দিলেন ‘উম্মাতের যিম্মাদার’। অবশ্যই মানুষকে ইফতার করাবেন অপচয় নয় তবে বেশী সওয়াব বড় লোকদের ইফতারিতে নয়, সাধারণ মানুষকে ইফতারি করানোর মধ্যে। ফরজ যাকাত দিবে তবে লোক দেখানো যেন না হয়! আপনার গরীব আত্বীয়কে আগে দিন তিনি হকদার । ১০০ জন/১০০০ জনকে যাকাত না দিয়ে কয়েকজনকে দিয়ে দেন যেন সে আর যাকাত নিতে না আসে। আল্লাহ বলেছেন ‘তুমি ডান হাত দিয়ে দান করবে যেন বাম হাত না জানে’ সম্পূর্নই আমার ব্যাক্তিগত অনুভুতি বিভিন্ন আরটিকেল পড়ে লিখলাম। আমার এই লিখা পড়ে অনেকেই হয়তো আফসোস করবেন! ভাববেন, আহারে তারা কতো ভালো মানুষ ছিলেন! কিন্তু আপনি কি ভালো মানুষ হতে চেষ্টা করেছেন কিংবা একবার এতীম, গরীব,অসহায় মানুষ কিম্বা আপনার গরীব আত্মীয়, পাশের ফ্ল্যাট এর অভাবী প্রতিবেশী বা আপনার শ্রমিকদের নিয়ে ইফতারের আয়োজন করেছেন? করে না থাকলে, করে দেখবেন আনন্দটা কতো স্বর্গীয়! (ফেসবুক থেকে সংগৃহীত) |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
আলফাডাঙ্গায় ২৮ জুন ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন: সফল করতে প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন
সেনাবাহিনীর উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
স্মার্টফোন বিস্ফোরণে আতঙ্ক, টঙ্গীতে ভিভো ফোনে অল্পের জন্য রক্ষা পেল পরিবার
সাতক্ষীরায় রাফাতের মৃত্যুর ঘটনার সঠিক তদন্ত পূর্বক দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে মানববন্ধন
