যখন তার বয়স আট, এক শিশুকে লরির ধাক্কায় নিহত হতে দেখেছিলেন। তখনই মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন। পাঁচ বছর আগে বিয়ে হয় ওই নারীর। রোগটি দাম্পত্য জীবনে প্রভাব ফেলে। নিজের অজান্তেই একাধিক পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু সব জেনেও তার পাশে ছিলেন স্বামী।
ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের এক যুবক বিয়ে বাড়ির এক অনুষ্ঠানে দেখেছিলেন ওই নারীকে। পরে তাদের বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়।
ওই যুবক জানান, বিয়ের পর সাত মাস সব ঠিক ছিল। কিন্তু একদিন তার স্ত্রী হঠাৎ হিংস্র হয়ে যান। তার ভাষায়, ‘আমার স্ত্রীকে মনে হচ্ছিল কেউ তার উপর ভর করেছে।’ পরে তিনি অনুসন্ধান করে দেখেন, তার স্ত্রীর বয়স যখন আট বছর ছিল, তখন এক শিশুকে নিজের সামনে মারা যেতে দেখেন। এরপর থেকেই তার মধ্যে এসব অদ্ভুত আচরণের সূত্রপাত হয়।
তিনি আরও বলেন, আমার স্ত্রী মাঝে মাঝে ছায়া নামে তার এক বান্ধবীর গল্প করতো। কিন্তু আদতে ছায়া নামে কেউ ছিল না। সবটাই তার কল্পনা। সে উগ্র আচরণ করতো, এমনকি কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিল।
কর্মসূত্রে ওই নারীর স্বামী থাকতেন দুবাই। স্ত্রীর অতীতের কারণে মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত বিধায় তাকে নিয়ে গিয়েছিলেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে। জানা যায়, নিম্ফোম্যানিয়াক ডিজিজ উইথ সাইকোটিক ডাইমেনশন নামে এক রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। কয়েকদিন চিকিৎসা দিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে যান নিজের কাছে।
স্ত্রীকে নিজের কাছে নিয়ে আরও বড় বিপদে পড়েন স্বামী। জানতে পারেন, তার অনুপস্থিতিতে একাধিক পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করেছেন স্ত্রী।
তবে স্ত্রীর ব্যাপারে বিরুপ কোনো সিদ্ধান্ত নেননি তিনি। স্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন তিনি। জানতে পারেন, বাসায় একা থাকার সময় তার মনে হতো; কেউ তাকে ডাকছে। ঘরে অন্য কেউ রয়েছে বলে চিৎকার করতো। এ সময় কাছে যাকে পেয়েছিল তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়ে স্ত্রী। যুবক বলেন, ‘ঘোর কেটে গেলে কান্নাকাটি করতো আমার স্ত্রী। বলত, সে আমার জীবন নষ্ট করেছে। আমি যেন ওকে ছেড়ে দেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কের কথা জেনে আমরা ১৩ দিন কথা বলিনি। কিন্তু যখন বুঝলাম সে অসুস্থ অভিমান দূরে রেখে ভালবেসেই বুকে জড়িয়ে ধরেছি। আজ সে সুস্থ।’
ভারতের ইনস্টিটিউট অব সাইকিয়াট্রির মনোরোগ বিশেষজ্ঞে প্রদীপের কাছে স্ত্রীর চিকিৎসা করিয়েছিলেন ওই যুবক। প্রদীপ জানান, নিম্ফোম্যানিয়াক ডিজিজ উইথ সাইকোটিক ডাইমেনশন রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন ওই নারী। এ কারণে তার শরীরে অস্বাভাবিক যৌন চাহিদা তৈরি হতো। দ্বৈত সত্ত্বাও কাজ করতো তার ভেতরে।
তিনি বলেন, এ রোগে আক্রান্ত রোগী ঘোরের মধ্যে কী করছেন, কার সঙ্গে যাচ্ছেন, তা বোঝার মতো অবস্থায় থাকে না। তিনি যে বিপদে পড়তে পারেন সেই ভাবনাও কাজ করে না। একে বলে অডিটরি হ্যালুসিনেশন।
রোগের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ওই নারী মনে করতেন কেউ তাকে ডাকছে। অবচেতন মনে অবাঞ্ছিত দৃশ্য তার চোখের সামনে ভেসে উঠত। আমার দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় এ ধরনের মাত্র দুটি ঘটনা পেয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘রোগের কারণেই যে ওই নারী এমন করছিলেন তা বুঝতে পেরেছিলেন স্বামী। তাই তাকে আমার কাছে নিয়ে আসেন। এটা সত্যিই দৃষ্টান্তের, তিনি প্রশংসার দাবিদার। এখন তার স্ত্রী সুস্থ আছেন।’