অপহৃতকে আটবার বলৎকার করেছেন অপহরণকারী। এতেই ক্ষান্ত থাকেননি, তাকে দিয়ে মাজারে বেশ কয়েকদিন ভিক্ষাও করানো হয়েছে। পরে বারবার স্থান পরিবর্তন করে চাঁদপুর এসে অপহৃতের বাবার কাছ থেকে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ নিতে এসে র্যাবের জালে আটক হয়েছেন সেই অপহরণকারী।
রোববার বিকেলে র্যাব কুমিল্লার ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার প্রণব কুমার এসব তথ্য জানান।
গ্রেফতার অপহরণকারীর নাম মো.ইমাম হোসেন বাবুল। সে চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার নিজ মেহের গ্রামের শফিউল্লাহ মিয়াজীর ছেলে।
শনিবার রাতে কুমিল্লার শাকতলা থেকে ১৫ দিন আগে অপহরণ হওয়া ১৪ বছরের ওই মাদরাসা ছাত্রকে চাঁদপুর থেকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. ইমাম হোসেন বাবুল নামের ওই অপরহরণকারীকেও গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব কুমিল্লা জানায়, কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার শাকতলা এলাকার আজাদুল ইসলামের ছেলে স্থানীয় মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্র মো. আরিফ আহমেদ গত ৫ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। ওই দিনই তার বাবা আজিজুল ইসলাম সদর দক্ষিণ থানায় একটি অভিযোগ দেন। পরে র্যাব কুমিল্লাকেও এর একটি কপি দেন।
কিন্তু অপহরণকারী চক্র এতদিন কোনো যোগাযোগ না করাতে শিশুটির অবস্থান সম্পর্কে পরিষ্কার হওয়া যাচ্ছিল না। দুই দিন আগে অপহরণকারীর হোতা ইমাম হোসেন বাবুল আরিফের বাবার কাছে একটি রবি নাম্বারে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। তখন এই রবি নাম্বার র্যাবকে দিলে র্যাব প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেখে অপহরণকারীরা একেক সময় একেক জায়গায় অবস্থান করছে।
সর্বশেষ শনিবার মোবাইল ট্র্যাকিং করে জানতে পারে যে তারা চাঁদপুর মাছ ঘাট অবস্থান করছে। র্যাব তখন কৌশল খাটিয়ে আরিফের বাবার মাধ্যমে অপহরণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মুক্তিপণের টাকা নেয়ার জন্য। অপহরণকারীরা প্রথমে একটি ব্যক্তিগত নাম্বার দেয় পরে আরিফের বাবার কথানুযায়ী বিকাশের একটি এজেন্ট নাম্বার দেয়। পরে অপহরণকারী বাবুল বিকাশের দোকানে মুক্তিপণের টাকা নিতে আসে। এ সময় আগে থেকে সাদা পোশাকে অবস্থান করা র্যাব সদস্যরা বাবুলকে আটক করে। পরে তার তথ্যানুযায়ী মাছ ঘাট এলাকা থেকে আরিফকে উদ্ধার করা হয়।
বাবুল দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়েদেরকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করে তাদের আত্মীয়-স্বজন ও পরিবার-পরিজনদের কাছ থেকে মুক্তিপণের টাকা আদায় করে আসছিল। এ ব্যাপারে সদর দক্ষিণ থানায় একটি অপহরণ মামলা হয়েছে।