|
'পড়ালেখার সুযোগ পাইলে রিকশাই বেইচা দিমু...'
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
|
'পড়ালেখার সুযোগ পাইলে রিকশাই বেইচা দিমু' কষ্ট হয় না? রিকশাটা অটোরিকশা। প্যাডেল মারতে হয় না, কিন্তু তবুও কষ্ট হবার কথা। জানতে চাইলাম। সে জবাব দিলো, 'কষ্ট হয়। কিছু করণের নাই। না চালাইলে সব থাইমা থাহে।' এই ছেলের পরিবারে কেউ নেই বোঝা যাচ্ছে। ব্যাক্তিগত প্রশ্ন করবো কি না দ্বিধায় আছি। কিন্তু, তবুও আমার কৌতূহল- এই বয়সী একটা ছেলেকে এভাবে রাতদিন রিকশা চালাতে হচ্ছে, কিন্তু কেন! বললাম, ভাই আপনার পরিবারে কে কে আছে? আপনার আব্বা কী করে? ছেলেটা বললো, 'আব্বা নাই। আব্বায় মারা গেছে।' - আর কেউ নাই? - মা আছে শুধু। ১২ বছর বয়সী ছেলেটার রিকশার চাকায় চলছে তার পরিবার। আমি প্রথমেই একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম, পড়ালেখা করেন? ছেলেটা বলেছিল, না। এক দুই শব্দে জবাব দেয়া তার অভ্যাস। বাসার কাছাকাছি চলে এসেছি প্রায়। আমি বললাম, আপনার পড়ালেখা করতে ইচ্ছা হয়? সে শুধু মাথা ঝাঁকালো। মানে ইচ্ছে হয়। আমি বললাম, কেউ যদি আপনারে পড়ালেখার খরচ দেয়, তাহলে কি পড়বেন? উত্তর দিলো, 'পড়ালেখার সুযোগ পাইলে রিকশাই বেইচা দিমু' আমি আর সারাটা পথ কথা বলতে পারলাম না। পথ বাকি ছিল অল্পই। একটা ছেলে, রিকশা চালাচ্ছে। সে হয়ত দেখে তার রিকশাতেই তার বয়সী শিশুদের নিয়ে বাবা-মা স্কুলে যাচ্ছে। যাওয়ার সময় বাচ্চাকে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। পড়ালেখা মন দিয়ে করতে হবে টাইপ আদরমাখা শাসন করে দিচ্ছে। জীবনের মতোই অন্ধকার যে ছবি এই ছেলেটার রিকশাতেই তো কত বাবা মা চড়ে, তাদের নিজেদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে ভাবতে দিনরাত একাকার হয়। এসব মানুষকে দেখলে কি এই ১২ বছর বয়সী ছেলেটার বাবাকে মনে পড়ে? মনে পড়ে কি তার এখন স্কুলে যাওয়ার বয়স, দূরের স্কুল হলে সে নিজেই রিকশায় চড়ে যেতো। কী পরিহাস! তাকে এখন রিকশা চালাতে হচ্ছে। তাই, যখন পড়ালেখার কথা বললাম, তখন স্বল্পভাষী সে ছেলেটা সবটুকু আবেগেই বলে ফেললো- পড়ালেখার সুযোগ পেলে এই রিকশাটাই সে বেঁচে দিবে! বাসার সামনে এসে যেখানে রিকশা থেমেছে, সেখানটায় জমাট বাঁধা অন্ধকার। আমি কখনোই কারো ছবি তুলে রাখি না। কারণ, মানুষের দূর্বলতা, ইমোশনকে কাজে লাগিয়ে দুই চারটা লাইক পাওয়ার ইচ্ছে আমার খুব একটা হয় না। যাকে সাহায্য করতে পারছি না, তার ছবি রেখে সমাজের প্রতি হতাশা উগড়ে দিয়ে কোনো পরিবর্তন আনা কী সম্ভব! কিন্তু মনে হলো, এই ছেলেটার ছবি রাখা দরকার। তাকে অনুরোধ করলাম, আপনার একটা ছবি তুলতে পারি? সে নিচের দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়লো। যার মানে হচ্ছে 'না'। ছবি তোলা যাবে না। আমি তবুও আবার অনুরোধ করলাম, বুঝিয়ে বললাম, যদি কেউ আপনাকে সাহায্য করে, আপনি তো পড়ালেখা করবেন? 'হ্যাঁ' সূচক উত্তর এলো। তাকে জানালাম, আমি আপনার কথা লিখতে চাই। যদি কেউ সাহায্য করে তাহলে আপনার সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিবো। অতঃপর সে অনুমতি দিলো। কিন্তু, আমার ফোনে খুব ভাল ছবি উঠলো না। মোবাইলের ফ্ল্যাশটাও জ্বলছিল না অজ্ঞাত কারণে। বাস্তবতার নির্মমতায় যার জীবনটাই অন্ধকারে, তারে কি আর শখের ফোনের ফ্ল্যাশ দিয়ে আলোকিত করা যায়! |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
কলেজছাত্র কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে হাতকাটা হুসাইন’ ও তার সহযোগীদের ফাঁসির দাবি
ভূরুঙ্গামারীতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা পেলেন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের সহায়তা
চরভদ্রাসন থানায় নবাগত ওসি হিসেবে যোগদান করলেন মোঃ সফর আলী
বাগমারায় ভুয়া চিকিৎসককে ৬ মাসের কারাদণ্ড, ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা
