ভারতীয় ক্রিকেটে ১০ নম্বর জার্সির বিশেষ মর্যাদা ও ঐতিহ্য রয়েছে। ক্যারিয়ারের লম্বা একটা সময় এই ১০ নম্বর জার্সি পরেন মাস্টার ব্লাস্টার শচীন টেন্ডুলকার। ২০১৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর অবসরের দিনও তার পরনে ছিল এ জার্সি।
এরপর মাত্র একবার এক ক্রিকেটার ১০ নম্বর সম্বলিত জার্সিটি পরেন। তবে সেটা ছিল ‘ভুলবশত’। এরপর আর এ ভুল করেনি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।
ক্যারিয়ারের সূচনালগ্নে ৯৯ নম্বর জার্সি পরতেন শচীন। ’৯৯ বিশ্বকাপে এ রঙিন জার্সি গায়েই মাঠে নামেন লিটল মাস্টার। কিন্তু সেবার ঘটে যায় দুটি বড় অঘটন। ওই বছরই তার বাবা রমেশ টেন্ডুলকার মারা যান। আর টুর্নামেন্ট চলাকালীন টেনিস এলবোয় ভয়ংকর চোট পান সেঞ্চুরির সেঞ্চুরিয়ান।
এরপরই অন্য নম্বরে ফিরে আসেন শচীন। ৩৩ নম্বরকে আপন করে নেন তিনি। কিন্তু সেই জার্সি তাকে ভালো ফলাফল দেয়নি। অবশেষে ১০ নম্বর জার্সিতে খেলা শুরু করেন ব্যাটিং মাস্টার। বাকিটা ইতিহাস।
একের পর এক সেঞ্চুরি হাঁকান শচীন। অধিকাংশ রেকর্ড দুমড়ে মুচড়ে নিজের করে নেন তিনি। টেস্ট-ওয়ানডে মিলিয়ে ১০০ সেঞ্চুরির মালিক বনে যান ছোটখাটো গড়নের এই ক্রিকেটার। দুই সংস্করণেই করেন সর্বোচ্চ রান। সব ইতিহাসের সাক্ষী এ ১০ নম্বর জার্সি।
শচীনের পর ভারতের আরেকজন ক্রিকেটার এ জার্সি পরে মাঠে খেলতে নামেন। ২০১৭ সালের ৩১ আগস্ট কলম্বোয় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে খেলতে নামে ভারত। ওই ম্যাচে অভিষেক হয় পেসার শার্দুল ঠাকুরের। বহু কাঙ্খিত গেমে ১০ নম্বর জার্সি পরেন তিনি।
এরপরই শচীন ভক্ত থেকে শুরু করে ভারতীয় ক্রিকেটানুরাগীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিসিসিআইকে ধিক্কার দেন তারা। চাপের মুখে বোর্ডের কোষাধ্যক্ষ অনিরুধ চৌধুরী বোর্ডের উচ্চপদস্থ কর্তাদের ই-মেইল করতে বাধ্য হন। এর বিষয়বস্তু ছিল, ভারতীয় দলে আর কোনো ক্রিকেটারকে জার্সিতে ১০ নম্বর ব্যবহার করার অনুমতি দেয়া যাবে না।
উল্লেখ্য, ফুটবলে বেশিরভাগ সময় আইকনিক প্লেয়ারদের ১০ নম্বর জার্সি গায়ে মাঠে নামতে দেখা গেছে। পেলে, ডিয়েগো ম্যারাডোনা থেকে শুরু করে হালের লিওনেল মেসি, নেইমার- সবাই ১০ নম্বর জার্সি পরেন।
ক্রিকেটেও তারকা খেলোয়াড়দের শরীরে এটি দেখা গেছে। শচীন ছাড়াও পাকিস্তানের শহীদ আফ্রিদি, অস্ট্রেলিয়ার ডারেন লেহম্যান ও পিটার সিডল, নিউজিল্যান্ডের ক্রেগ ম্যাকমিলান, ইংল্যান্ডের জেয়ারান্ট জোন্সও এ জার্সি পরে দীর্ঘদিন খেলেছেন।
অবশ্য আইসিসি নির্দেশনানামায় জার্সি সংক্রান্ত এ ধরনের কোনো রীতি নেই। তবে টেন্ডুলকার বলে কথা। ভারতের দেড়শ কোটি মানুষের আবেগ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার মতো বিষয়! তাই চাপের মুখে বিসিসিআইকে এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
যদিও ওই সময় শার্দুল জানান, আমার জন্মের সাল আর তারিখ মিলিয়ে ১০ হয়। তাই আমার জার্সিতে এ নম্বর। তার জন্ম ১৬ অক্টোবর, ১৯৯১। তবে চটজলদি জার্সি নম্বর বদলে ৫৪ করে নেন তিনি। আর ২০১৭ সালের ২৯ নভেম্বর শচীনের মতোই তার প্রিয় ১০ নম্বর জার্সিটিকে অবসরে পাঠিয়ে দেন বোর্ড কর্তারা।
ভারতীয় ক্রিকেট ঈশ্বরের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক হ্যান্সি ক্রনিয়ে, অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার ফিল হিউজের জার্সি নম্বর ব্যবহার করার অনুমতি নেই কারো। ক্রনিয়ের জার্সি নম্বর ছিল ৫ এবং হিউজের ৬৪।
ক্রনিয়ে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর মাত্র একজন খেলোয়াড় ৫ নম্বর জার্সি গায়ে দেন। মূলত তাকে শ্রদ্ধা জানাতেই জার্সির পেছনে ৫+০ লেখেন অ্যাশলে প্রিন্স। তবে ২০১৪ সালে হিউজের মৃত্যুর পর আর কোনো ক্রিকেটারকে জার্সিতে ওই ৬৪ নম্বর লেখার অনুমতি দেয়নি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টাইমস/ক্রিক ট্র্যাকার।