অসুস্থ বাবাকে নিয়ে মেয়ে ১২০০ কি.মি. পথ সাইকেলে পাড়ি
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Friday, 22 May, 2020, 8:53 PM
অসুস্থ বাবাকে নিয়ে মেয়ে ১২০০ কি.মি. পথ সাইকেলে পাড়ি
অসুস্থ বাবাকে সাইকেলে নিয়ে টানা সাতদিন ১২০০ কিলোমিটারের পথ পাড়ি দিয়েছেন ১৫ বছরের কিশোরী জয়তী কুমারী। এমনই এক ঘটনা ঘটেছে ভারতে।
সারা ভারত জুড়ে চলছে লকডাউন। লকডাউনের জেরে দুঃস্থ মানুষদের শোচনীয় অবস্থার কথা নতুন করে আর কিছু বলার নেই। পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছে বহু শ্রমিক। পথেই মারা গিয়েছেন বহু শ্রমিক। সেই মৃত্যুর দায় নেয়নি কেউ। বাড়ি ফেরা আর হয়নি বহু শ্রমিকের। পেটের দায়ে কাজ করতে গিয়েছিলেন দূরের শহরে। লকডাউনে তাদের ভোগান্তি হয়েছে সব থেকে বেশি। জয়তী কুমারী ও তাঁর বাবার পরিণতিও তেমনই কিছু হতে পারতো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অদম্য জেদের জন্যই জিতে গেল সে।
অসুস্থ বাবাকে সাইকেলের পিছনে নিয়ে সাতদিন সাইকেল চালিয়েছে জয়তী। এর মধ্যে দু’দিন কোনও খাবার জোটেনি। পথে যে যেমনভাবে টুকটাক খাবার দিয়ে সাহায্য করেছে তাই জুটেছে। কিন্তু জয়তী হার মানেনি।
জয়তীদের বাড়ি বিহারে। তার বাবা গুরগাওয়ে রিকশা চালাতেন। কিন্তু গত মার্চে জয়তীর বাবা মোহন পেশওয়ান এক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে জখম হন। এরপর লকডাউন। বাবাকে গুরুগাও থেকে আনতে গিয়েছিল জয়তী। কিন্তু আটকে পড়ে সে।
বাবার কাজ নেই। হাতে টাকা নেই। খাবার নেই। এর মধ্যে যে বাড়িতে জয়তীর বাবা ভাড়া থাকতেন সেই বাড়িওয়ালা তাদের ভাড়া না দিলে তুলে দেওয়ার হুমকি দিতে থাকেন। বাধ্য হয়েই বাবাকে সাইকেলে চাপিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফেরার সিদ্ধান্ত নেয় জয়তী।
জয়তীর বাবা বলেন, টাকা ছিল না। ওষুধ কিনতে পারিনি। কোনও রকম আমি আর মেয়ে একবেলা খেয়ে কাটাতাম। দুর্ঘটনার পর স্ত্রী কিছু গয়না বিক্রি করে টাকা পাঠায়। বাড়িওয়ালাকে বলেছিলাম, লকডাউন উঠে গেলে পাওনা টাকা মিটিয়ে দেব। কিন্তু উনি কথা শোনেননি। মেয়েকে বারণ করেছিলাম এতটা রাস্তা সাইকেলে পাড়ি দিতে! কিন্তু ও কথা শোনেনি। কিছু টাকা ধার করে সাইকেলে কেনে ও। তারপর আমরা রওনা দিই।
বিহারে গ্রামের বাড়তে জয়তীর ভাই--বোন রয়েছে। মা সেখানে দিনমজুরির কাজ করেন। কিন্তু এখন কাজ নেই। গ্রামের বাড়িতেও হয়তো না খেয়েই কাটাতে হবে। তবুও জয়তীদের কিছু করার নেই।