বৈশ্বিক করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে হিমশিম খাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম দেশ কাতারে গত নয় মার্চ থেকে বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে যাত্রীবাহী বিমান চলাচল সাময়িক বন্ধ রয়েছে। এছাড়া পরবর্তী ঘোষণা না আশা পর্যন্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের কাতারে ফিরে আশার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি বহাল রয়েছে। প্রায় তিন মাস ধরে চলা কাতারের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বিভিন্ন কোম্পানি তাদের কর্মী ছাটাই করেছেন যার মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন। এছাড়া কথিত ফ্রী ভিসাধারী অনেকে আছেন যাদের এখন একদম কাজ নেই বললেই চলে। তারাও ঘরে বসে নিরলস দিন কাটাচ্ছেন এবং এক রোমে গাদাগাদি করে সাত থেকে আট জন থাকছেন, রয়েছে কিছুটা খাবার সংকটও। এছাড়া করোনা ভাইরাস আক্রমণের পূর্বে বাংলাদেশ থেকে কাতারে আশা অনেক পর্যটক বর্তমানে অলস সময় কাটাচ্ছেন। এদিকে বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে কাতার কারাগারে আছেন অসংখ্য প্রবাসী বাংলাদেশী। তাদের মধ্যে অনেকের সাজার মেয়াদ শেষে এখন বাংলাদেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন। এমতাবস্থায়, স্বাভাবিক নিয়মে এবং প্রয়োজনে কাতার স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় থেকে সুস্থতার ছাড়পত্র নিয়ে বাংলাদেশে ফিরতে চান তারা।
বিভিন্ন মাধ্যমে জানাগেছে, কাতারে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে পাঁচ শতাধিকের বেশি বাংলাদেশি নাগরিক কাতার থেকে দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। তারা অপেক্ষা করছেন, কবে নাগাদ কাতার সরকার দেশটিতে সকল নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবেন। তাহলে তারা খুব দ্রুতই বাংলাদেশে ফিরে যাবেন। কাতার থেকে প্রবাসীদের বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমেদ বলেন, এই বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। প্রাথমিক ভাবে কাতারের সার্চ এন্ড ফলোআপ ডিপার্টমেন্ট-এ বিভিন্ন অপরাধে আটককৃত বাংলাদেশি নাগরিক, সাজাপ্রাপ্ত আসামি যারা আমিরি ক্ষমাপ্রাপ্ত, কাতারে ভ্রমণ ভিসায় আশা আটকাপড়া বাংলাদেশি নাগরিক এবং বিশেষ ক্ষেত্রে নারী ও শিশুদের বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিবেচনা করা হচ্ছে। এছাড়া অন্য এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, বিশেষ ফ্লাইটের জন্য বিমান সংস্থা নির্বাচন করা দূতাবাসের এখতিয়ারভুক্ত নয়। তবে সরকার যদি বিশেষ ফ্লাইটের অনুমোদন দেয় তাহলে যাত্রীদের আর্থিক সাশ্রয় এবং যাত্রী সেবার মানের কথা বিবেচনায় আগ্রহী এয়ারলাইনসের মধ্য থেকে বিশেষ ফ্লাইটের জন্য নির্বাচিত হবে। আটককৃত বাংলাদেশি নাগরিক এবং আমিরি ক্ষমাপ্রাপ্ত সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে কাতার সরকারের পচন্দ প্রাদান্য পাবে কারণ তাদের বিমান খরচের ব্যবস্থা করবে কাতার সরকার। এদিকে কাতার থেকে ঢাকা একটি চ্যাটার্ড বিমান চালুর বিষয়ে কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে চিঠি পাঠিয়েছেন প্রাইভেট বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। এবিষয়ে দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত বলেন, এবিষয়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত বা আপডেট ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সকে সরাসরি জানানো হবে। কাতারের শ্রমবাজারে প্রায় চার লাখের বেশি বাংলাদেশী কর্মী রয়েছেন। বর্তমানে করোনা ভাইরাসের থাবায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে প্রবাসীদের জীবন। ফলে বৈধ ভিসাধারী, কর্মহীন বিপুল বাংলাদেশি এখন দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন।